চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ছোট্ট তাবাসসুম। কয়েকদিন আগে মোমবাতি নিয়ে খেলতে গিয়ে জামায় আগুন লেগে ঝলসে যায় তাবাসসুমের শরীর।

বিজ্ঞাপন

তাবাসসুমের বাবা অসুস্থ ও কর্মক্ষম নয়। মা পরের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালান। তাদের পক্ষে তাবাসসুমের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছিল না। অথচ আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) তার অপারেশন।

এ অবস্থায় খবর পেয়ে তাবাসসুম এর চোখের পানি মুছে দিতে এগিয়ে এসেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মানবিক ইউনিট।

উক্ত ইউনিটের প্রধান মানবিক পুলিশ নামে খ্যাত শওকত আরশাদ জানান, তাবাসসুমের পরিবারের অবস্থা খুব খারাপ। গতকাল খবর পেয়ে সিএমপি মানবিক ইউনিট তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। আজ তাবাসসুমের অপারেশনে ওষুধসহ যাবতীয় খরচ আমরা বহন করছি। এছাড়াও তাদের পরিবারের চারজনের খাবারের ব্যবস্থা করেছি আমরা।

তিনি বলেন, ‘গতকাল হাসপাতালে গিয়ে দেখি ডাক্তার অপারেশনের বড় একটি স্লিপ দিয়েছে, কিন্তু তাবাসসুমের বাবার পকেটে আছে মাত্র ২০০ টাকা। বিষয়টি জেনে আমরা তার পাশে দাঁড়াই। অপারেশনের সমস্ত খরচ এবং তারা যতদিন হাসপাতালে থাকবে তাদের দুই জনের খাবার মানবিক পুলিশ ইউনিট বহন করবে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে কনস্টেবল মো. শওকত হোসেন, মো. মাঈন উদ্দিন, মাহাবুল আলমসহ পুলিশ সদস্যরা চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন ফুটপাতে পড়ে থাকা অসহায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় এই ইউনিটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

দুস্থ ও অভিভাবকহীন রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা, এসব রোগীদের বিনা মূল্যে খাদ্য ও বস্ত্র সরবরাহ, অপারেশন করানো ও অপারেশন পরবর্তী পরিচর্যা, সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত রোগীদের পরিচর্যা, অসহায়দের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে পুলিশের এ ইউনিট গঠন করা হয়।