চিকিৎসক নার্সদের অবহেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কানাডা ফেরত নাজমা আমিন (২৪) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

মৃত নাজমার বাবা আমিনুল্লাহ জানান, ১০ মাস আগে তার মেয়ে কানাডা গিয়েছিলেন পড়াশুনা করতে। চলতি মাসের ৯ মার্চ তিনি দেশে ফেরেন। পেটের ব্যথার জন্য তাকে শনিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ২১৯ নম্বর ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করা হয়।

তিনি বলেন, শনিবার দুপুরে নতুন শিফ্টের এক নার্স এসে নাজমার সাথে কথা বলে সে কানাডা ফেরত শুনেই ওয়ার্ডে তাকে করোনা রোগী বলে সবাইকে জানাতে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে ওয়ার্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আর কোনো নার্স, ডাক্তার, স্টাফ তার কাছে আসেননি। তখন তার করোনা টেস্ট করা হয়।

ওইদিনই বিকেল ৫টায় আইইডিসিআরের রিপোর্টে তার করোনা নেগেটিভ পাওয়া যায়। তবে তার আগেই দুপুর ১টায় তার মৃত্যু হয়। পরে তার মৃতদেহ আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চিকিৎসক, নার্স, স্টাফদের অবহেলায় তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পিতার।

স্বজনরা জানায়, কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশের ইউনিভার্সিটি অব রেজিনের গ্রাজুয়েশন করছিলেন তিনি। সেখান থেকে ৯ মার্চ সে দেশে আসে। এরপর ১৩ মার্চ দুপুরে প্রচণ্ড পেটে ব্যথার কারণে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা করিয়ে বাড়িতে চলে যায়। রাতে তার আবার ব্যথা শুরু হলে তাকে কয়েকটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সর্বশেষ তাকে শনিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

ঢামেক হাসপাতাল সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এবিএম জামাল বলেন, মেয়েটি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। যখন তার অবস্থা খুবই গুরুতর তখন সেসব হাসপাতাল থেকে তাকে দ্রুত কোনো হাসপাতালের আইসিইউতে নিয়ে যেতে বলেন। সেই অবস্থায় মেয়েটিকে আমাদের এখানে নিয়ে আসা হয়। তবে আইসিইউতে সিট না থাকায় তাকে সরাসরি ওয়ার্ডেই ভর্তি রাখা হয়। পরে সে মারা যায়।

তিনি বলেন, পেট ব্যথার সাথে তার জ্বর-কাশি আর শ্বাসকষ্ট ছিলো। আর যখন জানা গেলো সে কানাডা থেকে এসেছে। তখনই ওয়ার্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে আইইডিসিআর এর মাধ্যমে তার করোনা ভাইরাস টেস্ট করানো হয়। সেই টেস্টের রেজাল্ট নেগেটিভ ছিল। তবে রেজাল্ট আসার আগেই তার মৃত্যু হয়। সকাল থেকেই চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা দিয়েছে। তবে করোনা আতঙ্কের পর ওয়ার্ডের সবাই কিছুটা ভয়ে ছিলো।
করোনা ভাইরাস সন্দেহে কোনো রোগী ঢাকা মেডিকেলে আসলে তাদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। নাজমাকে সেখানে নেয়া হয়নি কেনো এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢামেকে যে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে তা মেডিসিন বিভাগের জন্য। আর সে ছিলো সার্জারি বিভাগের রোগী। তো মেডিসিন বিভাগের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে তাকে চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব ছিলো।