সাম্প্রতিক সময়ে আতংক সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাস এবং মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের নিকট আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আজ রবিবার (২২ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কার্যালয়ে মতবিনিময়কালে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা চট্টগ্রামের জনগন খুবই উদ্বিগ্ন। চট্টগ্রামও ঝুঁকির বাহিরে নয়। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে এখনো স্বীকৃত কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় এর প্রতিরোধও সম্ভব হচ্ছে না। আর সে কারণেই ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ভাইরাস থেকে দেশের জনগনকে রক্ষার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

তিনি দেশের মানুষকে আতংকিত না হয়ে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এছাড়া এ ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসকরা সচেতনতার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাই আমরা চট্টগ্রামের জনগনও এ ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করছি।

তিনি বলেন, এখন শুস্ক মৌসুম ফলত নালা নর্দমায় মশার লার্ভা বেড়ে গিয়ে মশার উৎপাত বাড়ছে। আর বিভিন্ন গবেষনা মারফত আমরা জানতে পেরেছি এবার ডেঙ্গু মশার উপদ্রবও বাড়বে। এতে করে নগরবাসী অস্বস্তিতে রয়েছে।

তিনি মশার উৎপাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে মশক নিধন কার্যক্রম গতিশীল করার অনুরোধ জানান। এছাড়া করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার উপর গুরুত্বারোপ করে জনাব সুজন প্রতিদিন দুইবেলা ময়লা আবর্জনা অপসারণ করার জন্য চসিক মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষন করেন এবং ময়লা আবর্জনা অপসারণ করে যাতে দূর্গন্ধ না ছড়ায় সেজন্য নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর আহবান জানান। তাছাড়া ময়লা আবর্জনা পরিবহনকালে যেন ত্রিপল ব্যবহার করা হয় সেদিকে দৃষ্টি দানের অনুরোধ করেন। নগরীর বাজারসমূহ নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে বাজারের উচ্ছিষ্ট ময়লা আবর্জনাসমূহ প্রতিদিন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করন এবং খোলা স্থানে গবাদি পশু জবাই না করার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য চসিক মেয়রের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বাজারের মাছ, মাংস বিক্রেতা এবং মাছ কাটার সাথে নিয়োজিত ব্যাক্তিদের হ্যান্ড গ্লাভস পরিধান করতে উৎসাহিত করার আহবান জানান।

সুজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে বিদেশ ফেরত যাত্রীদের চিহ্নিতকরণ এবং এসব প্রবাসীদের প্রশাসনের সহায়তায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে চসিক এর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহন করার আহবান জানান। এছাড়া নগরীর চলমান অসমাপ্ত উন্নয়ন কর্মকান্ড দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন জনদুর্ভোগ লাঘবে নাগরিক উদ্যোগের গৃহীত প্রতিটি কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, নাগরিক সমাজ সচেতন থাকলে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা অনেকাংশে লাঘব হয় নাগরিক উদ্যোগই তার প্রমাণ।

তিনি নাগরিক উদ্যোগকে বর্তমান সময়ের আতংকিত নভেল করোনাভাইরাস বিষয়ে তার দফতরে মতবিনিময় করতে আসায় অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, আমিও এই শহরের বাসিন্দা। এ নগরীর যে কোন দূর্যোগ কিংবা বিপর্যয়ে নগরবাসীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে আমি প্রস্তুত। তাছাড়া নগরীর জনগনের নাগরিক সুবিধা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা নিশ্চিত করাই আমার অন্যতম দায়িত্ব। সে দায়িত্ব পালনে আমি সদা সচেষ্ট আছি। কর্পোরেশনের সীমিত সাধ্য দিয়ে নগরবাসীর সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে আমি বদ্ধপরিকর। করোনাভাইরাস নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনই প্রথমেই জনগনের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নগরবাসীকে অধিকতর সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে চসিক মেয়র বলেন, আপনারা বারেবারে সাবান দিয়ে হাত ধৌত করবেন। নিজের আঙ্গিনা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন। জনসমাগম এড়িয়ে চলবেন। বিভিন্ন সামাজিক এবং ধর্মীয় সমাবেশ পরিহার করবেন। নিজ নিজ সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করবেন। একমাত্র সচেতনতাই পারে এ ভাইরাস থেকে মুক্তি দিতে। এছাড়া ইতিমধ্যে নগরবাসীকে সচেতন করার লক্ষ্যে সচেতনতামূলক ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিটি কর্পোরেশন। নগরজুড়ে মাইকিং, প্রচারপত্র বিতরণ এবং স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত সকল ডাক্তার, নার্স এবং কর্মচারীদের করোনাভাইরাস নিয়ে জনগনকে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করার জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি সরকারী হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারী হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিকেল, আয়াদের সুরক্ষার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি বলেন, এখন জ্বর, সর্দি, কাশির সময়। এ সময় করোনাভাইরাস আতংকে নগরবাসী যেন জ্বর, সর্দি, কাশির চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের চিকিৎসকসহ নগরীর সরকারী, বেসরকারী হাসপাতালের সকল চিকিৎসকের দৃষ্টি আকর্ষন করেন তিনি। তবে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ সৃষ্টি করে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে জলমগ্ন হয়ে পানিতে মশার বংশবৃদ্ধি ঘটছে। তিনি সামনে বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট বাঁধ অপসারণ করার জন্য জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সাথে নিয়োজিত সেবা সংস্থাসমূহের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। এছাড়া ডেঙ্গু রোগের বিস্তার ঠেকাতে মশক নিধনে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্ধ আনয়নের জন্যও সরকারের উর্দ্ধতন মহলের নিকট আবেদন জানান বলে নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন।

তিনি যে কোন দূর্যোগ কিংবা ভোগান্তিতে চসিক এর হটলাইন নাম্বার ১৬১০৪ এ যোগাযোগ করার জন্য নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হাজী মোঃ ইলিয়াছ, আব্দুর রহমান মিয়া, এস এম আবু তাহের, সাইদুর রহমান চৌধুরী, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন, এজাহারুল হক, মোরশেদ আলম, নুরুল কবির, মোঃ শাহজাহান, সমীর মহাজন লিটন, মাহাদী হাসান সনন প্রমূখ।