চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ৪৩ টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডে ইউনিট পর্যায়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ভোগ্যপন্য উপহার সামগ্রী প্রদানের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল) ৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর ৪০ নং উত্তর পতেঙ্গা ও ৪১ নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডে ১ শত ৫০ জন করে কর্মী সমর্থকদের মাঝে এই উপহার সামগ্রী তুলে দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন।

এই কার্যক্রম মাসব্যাপী চলমান থাকবে।

আজ প্রদত্ত ভোগ্যপন্য উপহসার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাউল, মশুর ডাল, সয়াবিন তেল, ছোলা, আলু, পিয়াজ ও লবন।

এইসব উপহার সামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এড.ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল্ মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুক, আইন সম্পাদক এড. ইফতেখার হোসেন চৌধুরী সাইমুল, বন ও পরিবেশ সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুল হাসান ভুলু, রোটারিয়ান মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ইপিজেড থানা আওয়ামীলীগের চৌধুরী হারুনুর রশিদ, এ.এস.এম ইসলাম, ৪১ নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আলহাজ্ব ছালেহ আহমদ চৌধুরী, সুলতান নাসির উদ্দীন, সফিউল আলম, হাজী মোহাম্মদ আলী, হাজী জয়নাল আবেদীন, জয়নাল আবেদীন আজাদ, কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

ভোগ্য পন্য উপহার সামগ্রী তৃনমূল কর্মীদের হাতে তুলে দিয়ে ট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ. জ. ম নাছির উদ্দীন বলেন, এযাবত কাল বাংলাদেশে যত দূর্যোগ-দূর্বিপাক হয়েছে প্রত্যেক সময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের পাশে দঁড়িয়েছে এবং সাহস যুগিয়েছে। এবারাও তার ব্যতিক্রম নয়। একজন কর্মীও যাতে অনাহারে না থাকে সেই পদক্ষেপ নিয়েই কার্যক্রম হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ।

তিনি আরো বলেন, মানব জাতির ইতিহাসে অনেক বড় বড় মহামারীর প্রাদুর্ভাবের কথা জানি, বিশ্বযুদ্ধের কথা জানি, কিন্তু সমগ্র বিশ্ব একসাথে করোনা ভাইরাসের কারণে এমন করে অর্থনীতি,রাজনীতি, ব্যবসায় বাণিজ্য সহ সব দিক দিয়ে সম্ভবত এতবড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় নি।

মেয়র বলেন, করোনার সংক্রমনের ফলে থমকে গেছে বিশ্বের অর্থনীতি। আগামী দিনে বিশ্বের দেশে দেশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণকে বৈশ্বিক মহামারী হিসাবে ঘোষণা করেছে। গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম দিকে যখন চিনের উহান প্রদেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে তখন আমরা কেউ ভাবতে পারিনি, আমাদের মত দেশে এর বিস্তৃতি ঘটবে।

মেয়র বলেন, করোনার ভয়াল থাবা বিশ্বকে বুঝিয়ে দিচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উদাসীনতার পরিণাম। এই ধরনের পরিস্থিতিতে দেশের অনেক শিল্পপতি, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এগিয়ে এসেছেন।যা একটি ভালো দিক। জাতির সংকটময় মুহূর্তে এগুলো দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং অকাতরে দান করছেন। বিশ্বের সবচাইতে উন্নত দেশগুলো যেখানে এ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে আমাদের মত দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে শংকিত হতেই হয়। আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণই উত্তম। সেক্ষেত্রে বতর্মানে সারা বিশ্বে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। যেহেতু করোনা ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কৃত হয় নি, সেহেতু এটির প্রসারণের হার কমিয়ে রাখাই হচ্ছে সর্বোত্তম পন্থা। তবে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি মানুষ ধীরে ধীরে অনুধাবন করতে পারছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিনকার খবরে বিদেশে মৃত্যুর মিছিল দেখে শিহরিত হই। কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুই আমাদের কাছে কাম্য নয়।

২৪ ঘণ্টা/এম আর