চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন,করোনা মহামারি প্রাদুর্ভাব পূর্ববর্তী বাংলাদেশে দারিদ্রের নিম্নমূখি হার ৭ শতাংশে নেমে এলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কর্মহীন হয়ে পড়ায় দারিদ্রের হার উর্দ্ধমুখি হয়ে ৩০ শতাংশে উন্নিত হওয়ার আশংখা দেয়া দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ হিসেবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জীবন-জীবিকার সমন্বয়ে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা। তাই নিজের সুস্থতাই হলো সামাজিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা পুন:রুদ্ধারের পূর্বশর্ত।

বিজ্ঞাপন

আজ সকালে টাইগারপাসস্থ নগরভবনের সম্মেলন কক্ষে ইউএনডিপি ও ইউকে এইড’র প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্ড এলাকায় দ্বিতীয় দফা সাবান বিতরণ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন একথা বলেন।

তিনি জানান নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের মাঝে করোনা সচেতনতা বাড়াতে “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৭৪টি সিডিসি’র মাধ্যমে নগর জুড়ে উঠান বৈঠকের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। প্রকল্পের সিডিসি ক্লাস্টার নেত্রীরা স্ব স্ব সিডিসি-তে বসবাসকারী জনগণকে উঠান বৈঠক আয়োজন করে করোনা প্রতিরোধে নানামুখী সচেতনতা জ্ঞান প্রদান করবেন।

তিনি সিডিসি নেত্রীবৃন্দদের স্ব স্ব ওয়ার্ডে সিডিসি-তে উঠান বৈঠক করে নগরবাসীর মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করার নির্দেশনা দিয়ে বলেন বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে সাবানের গুরুত্ব অপরিসীম। স্বাস্থ্যবিধি জানা সবার জন্য যেমন জরুরী তেমনি তা মেনে চলাও অত্যাবশ্যক। ঘরে এবং বাইরে সব সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধির সতর্কতাগুলো আমাদের অবশ্যই অনুসরণ ও মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্টির জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র বসতি এলাকার মানুষকে কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে সচেতন করার জন্য লিফলেট, পোস্টার, স্টিকার, ক্যাবল নেটওয়ার্কিং ও মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরের ৩৭৪ টি হাত ধোয়ার পয়েন্টের প্রতিটিতে ৫৬ টি করে মোট ২১ হাজার সাবান বিতরণ করা হয়েছে। গত এপ্রিলে প্রথম দফায় ৪৫ হাজার সাবান বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ১ লাখ নগরবাসী হাত ধোয়ার সুবিধা ভোগ করবে।

অনুষ্ঠানে চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজম, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেম, প্রকল্পের টাউন ম্যানেজার মো. সারোয়ার হোসেন খান,আউটপুটপ্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান চৌধুরী, টাউন ফেডারেশন চেয়ারম্যান কোহিনূর আক্তারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সিটি মেয়রের নিকট প্রয়োজনীয় ওষুধ দিল হাজারী লেইন ঔষধ ব্যবসায়ী সিমিতির নেতৃবৃন্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, কোভিড ১৯ ভাইরাসটি দেশ এবং পরিবেশ অনুযায়ী তার চরিত্র বদলাচ্ছে। ফলে এর কোনও একক, ও বিশেষায়িত চিকিৎসা পদ্ধতি নির্দিষ্ট করে দেওয়া সম্ভব নয়। এক দেশে, এক ধরনের পরিবেশে যে ওষুধ, যে চিকিৎসা পদ্ধতি কাজ করবে, আরেক দেশে তা কাজ নাও করতে পারে।কারণ ভাইরাসটি তার চরিত্র বদলাচ্ছে। কাজেই করোনার চিকিৎসায় সাফল্য পেতে গেলে, কোভিড ১৯ ভাইরাসের তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী যে জিনটি নিজেকে বদলে নিয়ে আরও বেশি সংক্রামক হয়ে উঠছে, সেটা শনাক্ত করা জরুরি।

আজ সকালে চসিক মেয়র দপ্তরে হাজারী লেইন ঔষধ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে হাজারী লেইন ঔষধ ব্যবসায়ী সিমিতির নেতৃবৃন্দ সিটি মেয়রের কাছে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধক সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রদানকালে মেয়র একথাগুলো বলেন।

মেয়র এই ক্রান্তিলগ্নে ওষুধ ব্যবসায়ীরা মানবতার কল্যাণে ওষুধ-পত্র নিয়ে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেয়ায় তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নিয়মকানুন মেনে সতর্ক থাকা ও অনুমান নির্ভর পথ্য ছাড়া এখনও পর্যনÍ এই ভাইরাসের চিকিৎসা সঠিক প্রতিষেধক আবিস্কার হয়নি। তবে বিজ্ঞানীরা এর ভ্যাকসিনের জন্যে চেষ্টা করছেন। আমরা আশাবাদী অতি শীঘ্রই এর ভ্যাকসিন আমরা পাবো।

ওষুধ প্রদানকালে সমিতির সভাপতি সফিউল আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদারুল আলম, সহ-সভাপতি বিকাশ কান্তি সিংহ, আশীষ কুমার চৌধুরী, বিপ্লব কান্তি ঘোষ, সুরেশ বড়ুয়া, শ্যামল চৌধুরী, মোহাম্মদ লেয়াকত আলী উপস্থিত ছিলেন।

ছালেহ আহমদ খুরশিদা ফাউন্ডেশন : ছালেহ আহমদ খুরশিদা ফাউন্ডেশন পক্ষথেকে ৩শ পিস হাইফো অক্সিজেন ক্যানোলা প্রদান করেছেন।

আজ মেয়র দপ্তরে সিটি মেয়র আ জ.ম নাছির উদ্দীন এই পিছ হাইফো অক্সিজেন ক্যানোলা গ্রহণ করে বলেন, জরুরী এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে যারা সহযোগিতার হাত প্রসারিত করছেন তারা আমাদের সকলের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ অন্যতম সহায়ক শক্তি।

এসময় মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হুমায়ুন মোর্শেদ সিদ্দিকী শাকিল, ওয়াসিফ, ছাত্রনেতা অনিন্দ্যদেব উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষিণ বাকলিয়া জাতীয় শ্রমিকলীগ: দক্ষিণ বাকলিয়া জাতীয় শ্রমিকলীগের উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে ভোগ্যপন্য উপহার সামগ্রী ও রান্নাকরা খাবার বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন।

গতকাল সন্ধ্যায় দক্ষিণ বাকলিয়ায় মনোহর আলী মাস্টার বাড়ীতে এই উপহার সামগ্রী তুলে দেয়া হয়।

এসময় মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আবু বক্কর, সাধারণ সম্পাদক মিজান চৌধুরী, বাকলিয়া থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক হাজী ছিদ্দিক আলম, বিপনী বিতান কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, শফিউল আলম, গোলাম রাব্বানী, আ খ ম আরিফ, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আলম জাহেদ, এড.জি এম জাহেদ, হাজী বেলাল আহমদ, এস এম মামুনুর রশিদ, আনিসুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্ম জুয়েল, মোহাম্মদ রুবেল, জামশেদ উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর