হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়ার কথা বলে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহির বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

এঘটনায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানোর পর উল্টো চরম হুমকির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন মাধবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী মাহতাবুর আলম জাপ্পি।

মাহতাবুর আলম জাপ্পির অভিযোগ, আগামী এক বছরের জন্য মাধবপুর উপজেলা শাখার অনুমোদন দেয়া হলো। এতে সভাপতি শহীদ আলী শান্ত ও সাধারণ সম্পাদক মাহতাবুর আলম জাপ্পি- গত ১৮ মে সভাপতি সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহির স্বাক্ষরিত প্যাডটি জাপ্পির ভাই আমেরিকা প্রবাসী শাহীনের কাছে পাঠানো হয়।

এরপরই আমেরিকা প্রবাসী শাহীন ৭৮০০ ডলার, যার ক্যাশ ডিপোজিট নম্বর: ৯৫, একাউন্টের শেষের নম্বর: ১২৩০ তারিখ ১৮/০৫/২০২০। আমেরিকায় সাইদুরের এক আত্মীয়র একাউন্টে দেন। ওই ব্যক্তি সাইদুরের পক্ষ থেকে টাকাগুলো বুঝে নেন। তাছাড়া গত ১০ মে বাংলাদেশে সাইদুরের ডাচ বাংলা ব্যাংকের একাউন্টে (একাউন্ট নম্বর: ১৮৭১৫১০০৫০৮৯৫) ৩৮৪৫১৬৪ নং রশিদে ২ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জমা দেন। (যার একাউন্ট নম্বর: ১৮৭১৫১০০৫০৮৯৫ এবং বাকি টাকা নগদে জমা দেয়া হয়।)

এছাড়া আরও ৫০ হাজার টাকা সাইদুরের একাউন্টে জমা দেওয়া হয়। এছাড়া জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহিকে ৯ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে নগদে ৫ লাখ ও ৪ লাখ টাকার চেক দেয়া হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

প্রবাসী শাহীন বলেন, আমি সরল বিশ্বাসে টাকা দিয়েছি। এখন টাকা পেয়ে পদতো দিচ্ছেই না, পাল্টা টাকা নেয়ার কথাও স্বীকার করতে চায় না।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, নেতৃত্ব বিক্রির নামে টাকা লেনদেনকারীদের ছাত্রলীগে থাকার অধিকার নেই। শিগগিরই ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে। ঘটনা প্রমাণিত হলে যারা টাকা দিয়েছে এবং যারা টাকা নিয়েছে দুই পক্ষই ছাত্রলীগ করার অধিকার হারাবে। তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। যাতে তারা কেউই ভবিষ্যতে আর ছাত্রলীগে যোগ দিতে না পারে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য না।
২৪ ঘণ্টা/এম আর