পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে চট্টগ্রামসহ বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষজন’কে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ শুভেচ্ছা জানান।

শামীম বলেন, ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত ঈদুল আযহা প্রতি বছর আমাদের মাঝে ফিরে আসে। স্বার্থপরতা পরিহার করে মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা ঈদুল আযহা’র মহান শিক্ষা। মানবিক মূল্যবোধে উদ্ভাসিত ঈদুল আযহা হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-ক্রোধ পরিহার করে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আত্মনিবেদিত হতে আমাদের উদ্বুদ্ধ করে। কোরবানীর যে মূল শিক্ষা তা ব্যক্তি জীবনে প্রতিফলিত করে মানব কল্যানে ব্রতী হওয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ সম্ভব। বিশ্বাসী হিসেবে সে চেষ্টায় নিমগ্ন থাকা প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য। পবিত্র ঈদুল আযহা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসবের দ্বিতীয়টি। উৎসব সকল ভেদরেখা অতিক্রম করে মানুষকে পারস্পরিক শুভেচ্ছাবোধে উদ্বুদ্ধ করে। মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় ভ্রাতৃত্বের নিবিড় বন্ধন। সকল বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা, প্রতিহিংসার বিষকে দুরীভুত করে সম্প্রীতির এক স্বর্গীয় অনুভুতি মানুষের মধ্যে জেগে ওঠে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ভয়ংকর কোভিড-১৯ এর আঘাতে বিশ্ব মানবগোষ্ঠীর জীবন, সমাজ, সংস্কৃতি যেন বদলে গিয়ে এক অচেনা রুপ ধারণ করছে। মানুষের দিন অতিবাহিত হচ্ছে আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে। বাংলাদেশও সেই বৈশ্বিক মহামারীতে আক্রান্ত। মানুষের জান, সহায়-সম্পদের কোনো নিরাপত্তা নেই। ঈদের প্রাক্কালে করোনা ভাইরাসের ছোবলে অসংখ্য প্রাণহানিসহ হাজার হাজার মানুষের অসুস্থতার ঘটনায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভয়াল দুর্দিনে উৎসবের আনন্দকে ম্লান করে দেয়। দেশের বর্তমান অবস্থায় সকলের পক্ষে ঈদের আনন্দ যথাযথভাবে উপভোগ করা কঠিন হবে।

তিনি বলেন, একদিকে গণতন্ত্রহীনতায় এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় দিনযাপন করছে দেশবাসী, মত প্রকাশের স্বাধীনতার টুঁটি চেপে ধরে বিরোধী শক্তির ওপর চলছে হামলা-মামলা-গুম-গ্রেফতারের মতো নির্দয় নিপীড়ণ। এদিকে চাল, ডাল, লবন, পিঁয়াজ, মরিচসহ দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতি দরিদ্র ও কম আয়ের মানুষকে চরম দূর্ভোগের মুখে ঠেলে দিয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষ আরো বিপন্ন হয়ে পড়েছে। পানি, জ্বালানী তেল, গ্যাস, বিদ্যূতের তীব্র সংকট, বর্ষার পানিতে সড়ক ও মহাসড়কের বেহাল অবস্থা জনজীবনে দূর্বিসহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে।

উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এবারে ভয়াবহ বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ী, জোত-জমিসহ সহায় সম্পদ বানের পানিতে ভেসে গেছে। এখনও ভেসে যাওয়া বসতবাড়ীর শুণ্য ভিটায় ঠাঁই করতে পারেনি হাজারো মানুষ। তাই করোনা ভাইরাসে আক্রমনের কারণে অসুস্থ রোগী ও নিন্ম আয়ের মানুষদের সহায়তা এবং বানভাসী অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্য ও সহমর্মিতার হাত প্রসারিত করার জন্য আহবান জানাচ্ছি। ঈদের আনন্দের দিনে কেউ যাতে অভুক্ত না থাকে-সেদিকে আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। ঈদের আনন্দকে ভাগ করে নিতে হবে সবাইকে এক কাতারে মিলে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর