নেজাম উদ্দিন রানা, রাউজান (চট্টগ্রাম) : পরিবারের সাথে গ্রামের বাড়ীতে ঈদ উদযাপন করতে চট্টগ্রাম নগরীর বাসা থেকে রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের পাঁচখাইন গ্রামে ছুটে যান এলাকার সোবহান মাতব্বরের বাড়ির মোহাম্মদ মুরাদের পরিবার। নগরের ইট-পাথরের শিকলবন্দী জীবন থেকে গ্রামের কোলাহলমুখর পরিবেশ পেয়েই খুশীতে আটখানা মুরাদের ছেলে আলী হাসান আমরিন (১২) ও এক কন্যা সন্তান। দীর্ঘ সময় পর গ্রামে ফিরে এসে তাই বাড়ির সম বয়সী ছেলেদের সাথে আনন্দ-আহ্লাদে মেতে উঠে আলী হাসান আমরিন। কে জানত! হাসতে হাসতে ছেলেটি ঈদের একদিন পূর্বে সবার অলক্ষ্যে চিরতরে ঘুম পাড়বেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজন ও ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন অভি জানান, ৩১ জুলাই (শুক্রবার) বিকেলে বাড়ির সামনে সবার সাথে খেলায় মেতে উঠেছিল আমরিন। খেলার এক পর্যায়ে সবার অলক্ষ্যে সে পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। পরে তাকে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মাগরিবের পর পুকুরে ভাসমান অবস্থায় প্রতিবেশী লোকজন অচেতন অবস্থায় উদ্ধার স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ সময় তার স্বজনদের বিলাপে এলাকায় হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি ছাপিয়ে আলী হাসান আমরিনের মৃত্যু সংবাদে পুরো এলাকাজুড়ে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাউজানের পাঁচখাইন গ্রামের মোহাম্মদ মুরাদের দুই সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে সন্তান আলী হাসান আমরিন নগরীর একটি বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যায়নরত ছিল। নগরীতে বাসায় থাকতেন মুরাদের পরিবার। পারিবারিক অনুষ্ঠান ও ঈদের সময় গ্রামের বাড়িতে আসতো তার পরিবার।

প্রতিবারের মতো এবারো আদরের দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রামে ঈদ উদযাপন করতে এসেছিল মুরাদের পরিবার। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ঈদের একদিন পূর্বেই সবাইকে শোকাচ্ছন্ন করে তাদের আদরের মানিকধনটি পাড়ি জমালো না ফেরার দেশে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর