চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নব নিযুক্ত প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। টাইগারপাসস্থ চসিকের অস্থায়ী নগরভবনে এক আনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সদ্য বিদায়ী মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের কাছ থেকে এ-দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

দায়িত্ব গ্রহণ শেষে পরম করুণাময় আল্লাহ তা’য়ালার নিকট শুকরিয়া আদায় এবং নগরবাসীর সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শুরুতেই তিনি বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আত্নার মাগফেরাত কামনা সহ মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদের আত্নার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ২২জুন ১৮৮৩ সন থেকে চট্টগ্রাম পৌরসভা থেকে বিগত সময়ে যারা পৌরসভা,মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এবং সিটি কর্পোরেশন এর চেয়ারম্যান, প্রশাসক ও মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তাঁদের মধ্যে যারা প্রয়াত হয়েছেন তাঁদের আত্নার মাগফেরাত এবং জীবিত জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘায়ু ও সু-স্বাস্থ্য কামনা করেন। তিনি ১৯৯৪ সন থেকে ২০২০ সালের ০৫ আগস্ট পর্যন্ত যে তিন জন নির্বাচিত মেয়র চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে সেবা দিয়ে গেছেন তিনি তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি তাদের সেবাধর্মী সকল কর্মকাণ্ড ও নিরলস পরিশ্রম চট্টগ্রামবাসীর স্বার্থে করে গেছেন বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আমি আশা করি অনিয়ম ও দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দায়বদ্ধতা থেকে সততা, নিষ্ঠা ও যোগ্যতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যেতে পারবে এবং চট্টগ্রাম নগরীকে স্বপ্নের মেগাসিটিতে উন্নিত করতে স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রাপ্তিযোগে পরিপূর্ণ করতে সকল সামর্থ ও সক্ষমতা উজাড় করে দিতে সচেষ্ট হব। এছাড়াও আমি সরকারী, আধা সরকারী, স্বায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সমূহ বিশেষ করে দেশপ্রেমিক নগর বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নিয়ে চট্টগ্রাম নগরবাসীর সুযোগ সুবিধা সম্প্রসারিত করবো এবং সকলের প্রত্যাশা পূরণে আমি ১৮০ দিন প্রশাসক হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে থাকবো।

তিনি গণমাধ্যমের সর্বস্তরের কর্মকর্তা, সংগঠক, কর্মী, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অন-লাইন ও পোর্টালসহ সকলের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেন।

এর পূর্বে প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন হযরত আমানত শাহ (র.) মাজার শরীফ জেয়ারতের পর প্রয়াত জননেতা এম.এ আজিজ,জহুর আহমদ চৌধুরী, এম এ মান্নান ও সাবেক মেয়র এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কবর জেয়ারত ও মুনাজাত শেষে নগর ভবনে আসেন।

তিনি নগরবাসী ও চসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে নগরভবনে উপস্থিত হন।

পরে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভাগীয় প্রধানদের সাথে তাঁর দপ্তরে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি তাঁর ভিশন ও পরিকল্পনা গুলো তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রাম শহরের যে রাস্তাগুলো রাস্তাগুলো খারাপ সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করা হবে। পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমকে আরো গতিশীল হতে হবে। দূর্গন্ধ বা আবর্জনা যত্রতত্র পড়ে থাকতে পারবে না।

তিনি বলেন, কাজ যতই কঠিন হউক না কেন কঠিনকে জয় করতে হবে। জলাবদ্ধতার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, নগর উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ করে এই বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তিনি আরো জানান যে, এ বর্ষা মৌসুমেই জলাবদ্ধতার কারনগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে ড্রেনেজ প্লান কিভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা যায় তার উপায় অন্বেষন করা করা হবে। তিনি জাইকার চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে তিনি ৪১টি ওয়ার্ডের ড্রেইন নালা-নর্দমা ও কাঁচা রাস্তাগুলোসহ জনগুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোকে উন্নয়নের আওতায় এনে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সিটি কর্পোরেশনের ৮টি বিভাগীয় এলাকার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েবলেন, নগরবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে গৃহীত কর্মপরিকল্পনাগুলো কথায় ও কাগজে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বাস্তবে প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

বৈঠকে প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন সাবেক মেয়রের মেয়াদকালীন সময়ে অসম্পূর্ন উন্নয়নকাজগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করা, স্বচ্ছতা-কর্তব্যনিষ্ঠা নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম-দূর্নীতি পরিহার করা ও কাজের গতিকে সক্রিয় ও সচল রাখার উপর জোর দেন।

বৈঠকে চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, স্পেশাল ম্যাজেস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী,একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, রাজস্ব কর্মকর্তা সাহেদা বেগম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ.কে.এম রেজাউল করিম, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. সাইফুদ্দিন, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরসহ বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

পোর্ট কানেকটিং রোড পরিদর্শনকালে চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন
আগামী ৫দিনের মধ্যে যান
চলাচলের উপযোগী করতে হবে

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নব নিযুক্ত প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, চট্টগ্রাম নগরীতে পোর্ট কানেকটিং সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘসুত্রিতায় নিমজ্জিত হয়ে বছরের পর বছর এই সড়কের উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়নি। যা অত্যন্ত দু:খ জনক। এ-নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভ সৃষ্টি ও চট্টগ্রামের সৌন্দর্য ও সুনামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন বিগত দিনে যে সময় গড়িয়েছে এখন আর সময় ক্ষেপনের কোন সুযোগ নেই। এই সড়কে আগামী ৫ দিনের মধ্যে রাস্তায় যত গর্ত রয়েছে তা ভরাট করে যান চলাচলের উপযোগী ও আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে অবশ্যই কাজ সম্পাদনের কড়া নির্দেশনা দেন প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমি সর্বোচ্চ সততার মাধ্যমে পালন করতে চাই। আপনারাও আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করবেন। যারা দুর্নীতি করেছেন, তারা সাবধান হয়ে যান। আমি যার কাছে অনিয়ম দেখবো, দুই নাম্বারি দেখবো, নগরবাসীর সঙ্গে যারা বেইমানি করবেন তাদের আমি কোনোভাবেই ছাড় দেব না। নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিতরা যারা মানুষকে কষ্ট দেয় তাদের আমি ছাড় দেব না। এসব অন্যায়ের সঙ্গে আমি আপস করবো না। ভুল করা অপরাধ না। কিন্তু ইচ্ছা করে ভুল করা অপরাধ।’ ‘এই শহর আমাদের শহর। পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরের একটি চট্টগ্রাম। জলাবদ্ধতা এই শহরের প্রধান সমস্যা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করাচ্ছেন। উনারা রাতদিন পরিশ্রম করছেন। আশা করছি, এক বছরের মধ্যে একটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আমরা পৌঁছতে পারবো।’ আজ অপরাহ্নে পোর্ট কানেকটিং সড়কের সাগরিকা হতে নয়াবাজার মোড় পর্যন্ত উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু ছালেহ, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব, ঠিকাদার মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী, ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসমাইল, সাধারণ সম্পাদক মো: আসলাম, নুরুল আমিন, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফরিদ, এসি ট্রাফিক পশ্চিম কীর্তিমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন

২৪ ঘণ্টা/এম আর