চট্টগ্রাম নগরীকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমার পরিকল্পনার সাথে একাত্ম হয়ে যিনি কাজ করে গেছেন তার কর্মক্ষেত্র যেখানেই হোক আমরা তাকে মনে রাখবো। এ শহরকে তিনি ভালোবেসেছিলেন বলে কর্ম জীবনের এক তৃতিয়াংশ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছিলেন এবং দায়িত্ব পালনকালে প্রকৃত পেশাদারিত্বেরও পরিচয় দেখিয়েছেন। তার দক্ষতা, নিষ্ঠা এবং কর্মক্ষেত্রে আন্তরিকতার কারণে আমার সাথেও তার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে। আমি মনে করি তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে সে অবস্থায়ও সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে প্রত্যাশা রাখি।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে চসিক প্রশাসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতবিনিময় সভায় প্রশাসক একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিদায়ী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা চসিকের দায়িত্ব পালনকালে যে প্রজ্ঞা, মেধা ও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তা প্রশংসার দাবী রাখে। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর যাবতীয় সমস্যা সমাধান কল্পে যে পরিকল্পনা ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুকৌশলে চসিকের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করেছেন অনুরূপ তা থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পেশাদারীত্বে সততার কোন বিকল্প নাই। বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বলেন, দীর্ঘ ৮ বছর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য গৌরবের। আমি আমার কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে সহযোগিতা পেয়েছি তা আমি চিরদিন মনে রাখব। আজকের এই দিনে চসিকের প্রশাসক মহোদয় চসিকে আমার কর্মক্ষেত্রে শেষ দিনে আমার জন্য যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন এজন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি যেখানে কর্মে যুক্ত থাকিনা কেন, চসিক যদি আমার সহযোগিতা প্রত্যাশা করে আমি অবশ্যই আন্তরিকভাবে সে সহযোগিতা প্রদান করবো।

তিনি আরো বলেন, আমার দায়িত্বপালন কালে আমি কাউকে কোন রকম দুঃখ দিতে চাইনি। তবুও কেউ যদি আমার ব্যবহারে অসন্তুষ্ট বা দুঃখ পেয়ে থাকেন আমি তার জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা জানাচ্ছি। তিনি যেখানে দায়িত্ব পালন করবেন সেখানে সুনাম রক্ষা করার জন্য আন্তরিক থাকবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

চসিকের সচিব মোহাম্মদ আবু সাহেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আন্দরকিল্লাস্থ কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুফিদুল আলম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, রাজস্ব কর্মকর্তা শাহেদা ফাতেমা, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকতা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, উপ সচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু, উপ পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. মোরশেদ আলম চৌধুরী, চসিক সিবিএ’র সভাপতি ফরিদ আহমদ ।

উল্লেখ্য যে, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র আদেশে পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পরিচালক হিসাবে যোগদান করবেন। অন্যদিকে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন কক্সবাজার শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কাজী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে সাক্ষাত করলেন ইউএস সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের প্রতিনিধি দল।

চসিক প্রশাসকের সাথে ইউএস সেন্টার ফর
ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেন, করোনা মহামারীকালীন সময়ে সরকার গৃহিত কর্মসূচির পাশাপাশি কোভিড-১৯ স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট, মাইকিংসহ চসিক পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চসিক জেনারেল হাসপাতালের মাধ্যমে জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছে। এছাড়াও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও আইসোলেশন সেন্টারের মাধ্যমে যাতে কোভিড আক্রান্ত রোগীরা সঠিক ভাবে চিকিৎসা পায় সে ব্যাপারে মনিটরিং করে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে।

তিনি কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মাইকেল ফ্রাইডম্যান এর কাছে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্নক সহযোগিতা কামনা করেন।

ইউএস সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মাইকেল ফ্রাইডম্যান করোনা মহামারীকালীন সময়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, চসিক এলাকায় কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জরিপ পরিচালনা, ডকুমেন্টারী তৈরি, চসিক স্বাস্থ্য কর্মীদের কোভিড-১৯ এর স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করলে চসিক প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন তাদের ধন্যবাদ জানান।

এ সময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, ইউএস সেন্টার ফর ডিজিস্ট কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মাইকেল ফ্রাইডম্যান ও কমিউনিকেশন কনসালটেন্ট রিয়ওতা ইফতেখার উপস্থিত ছিলেন।

আল্লামা শফীর মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে মোনাজাত করছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

আল্লামা শফীর মাগফেরাত কামনায় চসিক প্রশাসকের দোয়া মাহফিল

আল্লামা আহমদ শফীর রুহের মাগফেরাত কামনায় আজ বিকেলে টাইগারপাসস্থ চসিক প্রশাসক দপ্তরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন স্মৃতিচারণ করে বলেন, আল্লামা শফী দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে প্রাচীন ও বৃহত্তম চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে কওমি মাদ্রাসাগুলোর নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশে ইসলামী শিক্ষার বিস্তার ও স্বীকৃতি অর্জনে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাবোর্ড ও হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে আল্লামা শফী বাংলাদেশের রাজনীতি, শিক্ষা ও সমাজ গঠনে যোগ্য নেতৃত্বের আসন অলংকৃত করেছেন। বাধ্যক্য ও অসুস্থতার কারণে কখনো তিনি তাঁর আর্দশ ও মিশন থেকে প্রশ্চাদপ্রসরণ করেননি। জীবন-মৃত্যু সন্ধিক্ষনেও মসনদে হাদিসে বোখারী শরিফে দরস দিয়েছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, নাসিরাবাদ সরকারি কলোনী জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আ ন ম সোলাইমান, হাফেজ মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ আব্বাসুর রহমান, হাফেজ মহিবুল্লাহ, হাফেজ মোহাম্মদ বেলাল, হাফেজ মোহাম্মদ হাসান, হাফেজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম, হাফেজ মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন, হাফেজ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, হাফেজ মোহাম্মদ আবদুল মোমিন কাজেমী । মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা মোহাম্মদ হারুন-উর রশিদ চৌধুরী।

২৪ ঘণ্টা/এম আর