চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, করোনা কালীন সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের উচ্চ আদালতে জামিন থাকা সত্ত্বেও সরকার প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিএনপি নেতাদের কারাগারে পাঠিয়েছে। বর্তমানে করোনা ঝুকির মধ্যেই নেতাকর্মীরা কারাগারে দিনাপাত করছে। কারাগারে বন্দীদের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দী থাকার পরেও মিথ্যা মামলায় বিএনপির নেতাদের কারাগারে পাঠাচ্ছে। দিন দিন সরকার হিংস আচরণ করছে। সব কিছুর একদিন শেষ হবে, অন্যায় অত্যাচারের দিন শেষে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবেই।

বিজ্ঞাপন

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম আদালতে গায়েবী মামলায় বিএনপি ও যুবদলের ১৫ জন নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, সামনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, আর সে নির্বাচনে বিএনপি নেতাকর্মীদের আতঙ্কিত রেখে রাতের ভোট করার কৌশল হিসাবে এখন থেকে সরকারের নির্দেশনায় বিএনপি নেতাদের কারাগারে পাঠাচ্ছে। মামলা হামলা করেই সরকার আবারো বিনাভোটের নির্বাচন করার পায়তারা করছে। এবার সজাগ হয়েছে চট্টগ্রামবাসী, কোন ভাবেই রাতের আধাঁরে দলীয় সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সরকারকে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে যে মামলা করছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। যদি মামলা প্রত্যাহার করে জেল জুলুম বন্ধ করা না হয় তাহলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। সরকারকে কঠোর হাতে জবাব দেওয়া হবে। জেল জুলুম সহ্য করতে করতে বিএনপি নেতাকর্মীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। জেলের ভয় বিএনপি নেতাকর্মীরা পায় না। এবার প্রতিরোধের মাধ্যমে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা জনগণকে সাথে সরকারের পতন নিশ্চিত করা হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহসভাপতি এডভোকেট আবদুস সাত্তার, এডভোকেট সাত্তার সরোয়ার, যুগ্ম সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মনজুর আলম মনজু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, হকার সম্পাদক আবদুল বাতেন, সহ-স্ংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সহ-শ্রম সম্পাদক আবু মুছা, সহ-প্রকাশনা সম্পাদক আবদুল হাই,গ্রাম বিষয়ক সহ-সম্পাদক সালাউদ্দীন লাতু, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আসলাম, ইলিয়াস চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ও আবুল কালাম আবু, নগর ছাত্রদলের সহসভাপতি জসিম উদ্দীন চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া প্রমুখ।

কারাগারে যাওয়া নেতাকর্মীরা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী, বিএনপি নেতা ডা. ফরহাদ, রুহুল আমিন, হাসান সওদাগর, মনজুরুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মন্জুর হোসেন, এরশাদ হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমেদ খোকন, সহ-প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েল, সহ-সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বাবু, পাঁচলাইশ থানা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মনির হোসেন ভূট্টো, হুমায়ুন কবীর, সদস্য মোহাম্মদ নাছির, ছাত্রদল নেতা ফখরুল ইসলাম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আকবর হোসেন, খাজা স্বপন প্রমুখ। আসামী পক্ষে আইনজীবি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট নাজিম উদ্দীন, আবদুস সাত্তার, সিরাজুল ইসলাম, জহুরুল আলম, তারেক আহমদ, নেজাম উদ্দীন, নাজমুল হাসান সিদ্দিকী, এরফানুর রহমান, জায়েদ বিন রশিদ, এহসানুল হক।

এদিকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতাদের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধ করে তাদের নিংশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

২৪ ঘণ্টা/এম আর