নিলয় ধর, যশোর প্রতিনিধি : টানা ভারীবর্ষণে যশোরের প্রায় সাড়ে সাত হাজার হেক্টর জমির সবজি চাষিরা হুমকির মুখে পড়েছেন। শিম ও গ্রীষ্মকালীন টমেটো কিছুটা রক্ষা পেলেও অন্যান্য সবিজর উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। বিশেষ করে আগাম ফলনের আশায় যারা সবজি চাষ করছেন তারাই ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

যশোর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে আরও দু’-তিন দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। যশোরসহ এই অঞ্চলে গত সাতদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে, ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অফিস থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, যশোরাঞ্চলে গত ২০ সেপ্টেম্বর ৫১ মিলিমিটার, ২১ সেপ্টেম্বর ৩১ মিলিমিটার, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর ছিল ১৯ থেকে ২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।২৪ সেপ্টেম্বরে সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে।আগামী তিনদিন বৃষ্টি হতে পারে।

তবে, পরিমাণ কম থাকবে।এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমির সবজি চাষি ক্ষতির শিকার হয়েছে। তারা আগাম সবজি চাষ করেছে। ভারী বর্ষণে যশোরে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন নীচু জমিতে চাষ করা সবজি চাষিরা।

কৃষক বলছেন, বর্ষা আরও কয়েকদিন থাকলে ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে। এরই মধ্যে অনেক এলাকার সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে।

যশোরের কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি মৌসুমে জেলায় আগাম রবি ফসল চাষ হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চার হাজার হেক্টর জমিতে মুলা, বাধাকপি, ওলকপি, ঢেঁড়স, বেগুন, লাউ, কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজি রয়েছে। বাকি ৩ হাজার হেক্টরে চাষ হয়েছে গ্রীষ্মকালীন টমেটো, শিম, পটলসহ অন্যান্য সবজি। সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি, কাশিমপুর ও হৈবতপুর ইউনিয়নে মাঠের পর মাঠ সবজি চাষ করেছেন কৃষক।

বিশেষ করে সবজি অঞ্চল খ্যাত চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর, সাতমাইল, বারীনগর ও নোঙরপুর এলাকার শত শত চাষি বর্তমানে বিপাকে পড়েছে।

চুড়ামনকাটি এলাকার কৃষক আয়নাল হক জানিয়েছেন, তিনি ৩ বিঘা জমিতে বেগুন, শিম, মুলাসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করেছে। বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ সবজি খেতে পানি জমে গেছে। ২/১দিনের মধ্যে যদি বৃষ্টি না কমে তাহলে এসব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।

একই এলাকার চাষি আব্দুল হাকিম বলেন, ইতিমধ্যে এই অঞ্চলের অধিকাংশ চাষিই আগাম শীতকালীন সবজি চাষ শুরু করেছেন। তারা সবাই বিপাকে পড়েছেন। চুড়ামনকাটি উত্তরপাড়ার মিজানুর রহমান ও আবু জাফর বলেন, বৃষ্টির কারণে মুলা, পালংশাক, বেগুন, করোলা ও শিম খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব খেতের সবজির গোড়ায় পচন ধরতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, যশোরাঞ্চলে এবার আগাম রবি ফসল চাষ শুরু হয়েছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার হেক্টর জমিতে। গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে সবজি চাষিরা কিছুটা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ক্ষতি কোন পর্যায়ে তা বলা যাচ্ছে না। তিনি এ অবস্থায় জমে যাওয়া পানি নিষ্কাশনে কৃষককে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।

২৪ ঘণ্টা/আবরার