গায়েবী মামলা

ডেস্ক নিউজ : চলাফেরা করতে অক্ষম প্রয়াত এক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের স্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ‘গায়েবী’ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে মামলাটি দায়ের করেন নাজেহাদ ফারজানা। এতে নিজের স্বামী রাঙ্গুনীয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের জালাল উদ্দিন, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আহম্মদ মিয়ার স্ত্রী ও বাদির শাশুড়ি মঞ্জুরা বেগম, ননদ তারিন আকতার তারুসহ পাঁচ জনকে আসামি করা হয়। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যৌতুকের জন্য বাদিকে মারধর করে।

সম্প্রতি মামলার দায়েরের বিষয়টা প্রকাশ্যে আশার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে এলাকার গণ্যমান্য মানুষসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ মামলার সুষ্ট তদন্ত দাবি করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি এজাহারভুক্ত আসামী জালাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন। মামলার অপর বিবাদী মঞ্জুরা বেগম দীর্ঘদিন ধরে চলাফেরা করতে অক্ষম এবং চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখিত তারিখে তিনি ঢাকায় ছিলেন।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনীয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে তারাই বলতে গেলে ভিকটিম। মামলার বাদিই শাশুড়িকে নির্যাতন করতো বলে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সামাজিক ভাবেও তা মিমাংসা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মামলার বাদির উগ্রতার কারনে তা সমাধান সম্ভব হয়নি।

এলাকার সর্দার আহমেদ ছবির বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের পরিবার এলাকায় প্রচুর দান করেন। তারা যৌতুকের জন্য গৃহবধুকে মারধর করবে তা অবিশ্বাস্য। যে তারিখে মারধরের কথা উল্লেখ হয়েছে সে তারিখে মামলার আসামীদের কেউ এলাকায় ছিল না।

রাঙ্গুনীয়া থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুব মিল্কি মামলার বিষয়টি স্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মামলাটি মামলা তদন্ত করছি। তদন্তে যা উঠে আসবে তাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় অনেক ক্ষেত্রে সাজানো অনেক ঘটনা উল্লেখ থাকে। এ মামলাটিতেও সেরকম কোন সাজানো ঘটনা আছে কিনা তা আমরা তদন্তে খতিয়ে দেখবো।

এদিকে, মামলার বিষয়ে জানতে মামলার বাদী নাজেহাদ ফারজানার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে কল রিসিভ করে নাজেহাদ ফারজানা পরিচয় দিলেও পরে সাংবাদিক পরিচয় পেলে মোবাইল সংযোগ কেটে দেন।

২৪ ঘণ্টা/