কক্সবাজার প্রতিনিধি: উচ্চ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টের সেই ৫২ স্থাপনা অবশেষে উচ্ছেদ করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
যদিও এ উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে তৈরী হয়েছিল এলাকাটি। শনিবার দুপুর থেকে দ্বিতীয় দফায় উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়ার পর ব্যবসায়ীদের কফিনের কাপড় পড়ে বিক্ষোভ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ফাঁকা গুলি বর্ষণ, টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে অনেকক্ষণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে সাংবাদিক সহ অনন্ত ১০ জন। আটক করা হয়েছে ৮ জনকে।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবু জাফর রাশেদ জানান, এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল নোটিশ প্রদান করে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এর বিরুদ্ধে ১৬ এপ্রিল হাইকোর্টে রীট দাখিল করেন ব্যবসায়ীরা। ওই দিন উচ্ছেদ স্থগিতাদেশ প্রদান করে রুল জারি করে আদালত। সরকার পক্ষের আপিলে প্রেক্ষিত গত ১ অক্টোবর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে উচ্ছেদের আদেশ প্রদান করা হয়। এ রায়ের প্রেক্ষিতে কউক, জেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্টরা বৃহস্পতিবার উচ্ছেদ অভিযান নামে। অভিযানের প্রথম দিন দুপুর ২ টার মধ্যে মালামাল সরিয়ে নেয়ার আহবান জানানো হয়। কিন্তু ব্যবসায়ী আরো বেশি সময় চাইলে শনিবার পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আবু জাফর রাশেদ আরো জানান, শনিবার দুপুরে দ্বিতীয় দফায় উচ্ছেদে নামে প্রশাসন। এসময় বাঁধা প্রদান করেন ব্যবসায়িরা। তারা কফিনের কাপড় পড়ে রাস্তায় বিক্ষোভ করছেন। কিন্তু আপিল বিভাগের নির্দেশ পালন করতে প্রশাসন ব্যবসায়ীদের সহায়তা চেয়ে দফায় দফায় মাইকিং করেন। এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে প্রশাসন উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করলে এতে বাঁধা প্রদান করা হয়। পুলিশ ধাওয়া করলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ সময় ব্যবসায়ীরা তিন দিক থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে সাংবাদিক সহ অনন্ত ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকাগুলি, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন। এতে ব্যবসায়ীরা পিছু হঠলে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। অভিযানে ধারাবাহিকভাবে ৫২ টি স্থাপনা উচ্ছেদ করে।
সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান এবং হামলা ঘটনায় মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পংকজ বড়ুয়া। তিনি জানান, এর মধ্যে ৮ জনকে আটকও করেছে পুলিশ।
২৪ঘণ্টা/এন এম রানা/ইসলাম