চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য উপাত্ত প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ফরম পূরণের সময় ভুল তথ্য দিলে পাসপোর্টধারীকে অনাকাক্সিক্ষত বিড়ম্বনা পোহাতে হয়, তাই ধৈর্যের সাথে সঠিক তথ্য দিয়ে ই- পাসপোর্ট এর ফরম পূরণের জন্য তিনি আবেদনকারীদের প্রতি আহবান জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি আজ সকালে মুনসুরাবাদে বিভাগীয় পাসপোর্ট কার্যালয়ে ই-পাসপোর্ট, এম আরপি, পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ ও ডেলিভারি কার্যক্রম পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন।

প্রশাসকের আগমনে বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

তিনি বিভাগীয় পাসপোর্টের কার্যালয়ের অফিস ব্যবস্থাপনা সহ সামগ্রিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রবাসীদের পাসপোর্ট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যাতে কোন হয়রানি না হয় সে বিষয়ে অধিকতর মনোযোগী হওয়ার জন্য তিনি বিভাগীয় পাসপোর্ট পরিচালককে অনুরোধ করেন। কারণ পাসপোর্ট গ্রহীতা দেশের নাগরিকরা বিদেশ ভ্রমনের পাশাপাশি রেমিটেন্সও প্রেরণ করেন।

তিনি আরো বলেন, ই-পাসপোর্ট পদ্ধতিতে অনিয়ম ও দালাল চক্রের উৎপাতের সুযোগ নেই। তাই স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠারও অবকাশ নেই। তারপরও অনিয়ম ও দুর্নীতি বা আইনী কোন ফাঁক-ফোকর যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকেও সজাগ থাকতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস চট্টগ্রামের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাইদ, চসিক প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, সহকারী পরিচালক সাধন সাহা সহ পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মকর্রা-কর্মচারীবৃন্দ।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত খতমে কোরান, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভায় মুনাজাত করছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

এবারের মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপনের বিশেষত্ব রয়েছে : সুজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, আগামীকাল ১২ রবিউল আওয়াল মুসলিম সম্প্রদায়ের দুটি ঈদ। একটি ঈদ হলো বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স.) এর জন্মদিন। এ বছর ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপিত হচ্ছে শুক্রবার জুম্মাবারে। জুম্মাবারও মুসলিমদের আরেকটি ঈদ আনন্দ। তাই এবারের মিলাদুন্নবী (স.) পালনের বিশেষত্ব রয়েছে।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকালে আন্দরকিল্লাস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পুরনো নগর ভবনের কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত খতমে কোরান, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আল্লামা সৈয়দ অছিয়র রহমান, হযরত খাজা গরিবুল্লাহ শাহ (র.) মসজিদের খতিব আল্লামা হাফেজ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান আলকাদেরী।এতে উপস্থিত ছিলেন কর্পোরেশনের সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়–য়া, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা দায়রা জজ) জাহানারা ফেরদৌস, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আক্তার, প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, চসিক মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা হারুন উর রশিদ চৌধুরীসহ কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

আলোচনা অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন আরো বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়ন না হলে আমাদের সব অর্জন বৃথা। তিনি চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিলাদুন্নবীর উছিলায় যাতে বৈশ্বিক মহামারী করোনা থেকে দেশের জনসাধারণ রক্ষা পান এবং মানুষের আয় রোজগারে যাতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বরকত দান করেন সেই প্রার্থনা করতে বলেন।

কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমাদের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানের সাথে পবিত্র মিলাদুন্নবী (স.) এর অনুষ্ঠানও এখন যুক্ত হয়েছে। এবারের মিলাদুন্নবী বৈশ্বিক মহামারীর কারণে বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করে উদ্যাপনের সরকারি সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা যারা মুসলিম তারা যেন ধর্মীয় আবেগ আড়ম্বরের সাথে মিলাদুন্নবী পালন করতে গিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের সাথে বিরোধ তৈরি না করি, সেই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নিজেকে সুরক্ষিত না রাখলে জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি ও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, ইসলাম আধুনিক ধর্ম। এই ধর্ম প্রযুক্তির সাথে সঙ্গতি রেখে পালন করা যায়। প্রধান নির্বাহী মুসলিমদের ধর্মীয় অনুশাসন মানার পাশাপাশি নিজ ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান আহরণের অনুরোধ করেন।

শেষে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা ও বৈশ্বিক মহামারী করোনা থেকে দেশের জনসাধারণের রক্ষা এবং সাবেক প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর রূহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। মুনাজাত পরিচালনা করেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আল্লামা সৈয়দ অছিয়র রহমান।

দারুল উলুম আলীয়া মাদ্রাসা’র আয়োজিত পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে খতমে কোরান, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

দারুল উলুম আলীয়া মাদ্রাসা’র আয়োজিত পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা) উপলক্ষে খতমে কোরান ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স:) বিশ্বের ঈমানী প্রেরণার জয় বাণী নিয়ে আমাদের সামনে রবিউল আওয়াল মাসে হাজির হয়। আগামীকাল শুক্রবার মুসলিম উম্মাহ জন্য দুইটি ঈদ। একটি হচ্ছে ঈদে মিলাদুন্নবী (স:) আরেকটি জুম্মাবার হিসেবে ঈদ। এই জন্য এ বছরের ঈদে মিলাদুন্নবী (স:) অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষের মনে কালিমা দূর করার জন্য ঈদে মিলাদুন্নবীতে রাসুল (সা:) এর আকীদা ও নির্দেশনা মেনে চলাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র পাথেয়।

তিনি আরো বলেন, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) -এর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়।

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ সমগ্র বিশ্বজগতের রহমত ও শান্তির দূত হসিেেব হযরত মুহাম্মদ সাল্লালাহুআলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ জগতে প্রেরণ করেন। তিনি ছিলেন তাওহীদের প্রচারক, রিসালাতের ধারক ও বাহক এবং সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল। প্রশাসক এই মহামারী করোনা থেকে মুক্তি পেতে হলে রাসুলের জীবনাদর্শকে ধারণ করে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মহান আল্লাহ’র নিকট প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।

তিনি পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে দারুল উলুম আলীয়া মাদ্রাসা কর্তৃক আয়োজিত আজ বৃহস্পতিবার সকালে চন্দনপুরা মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে খতমে কোরান ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি ছৈয়দ মোহাম্মদ অছিয়র রহমান আল কাদেরী বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘হে নবী! আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সর্তককারীরূপে, আল্লাহর নির্দেশ সাপেক্ষে তার দিকে আহবানকারীরূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে।মহানবী (সা.)-এর জীবনার্দশ আমাদের সকলের জীবনকে আলোকিত করুক, পবত্রি ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.)-এর দিবসে মহান আল্লাহর কাছে এ র্প্রাথনা জানান। প্রিয়নবী (সা.)-এর অনুপম শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে, পাপাচার, অত্যাচার, মিথ্যা, কুসংস্কার ও সংঘাত র্জজরিত পৃথিবীতে তিনি মানবতার মুক্তিদাতা ও ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। পবিত্র দিনে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহ তথা বিশ্ববাসীর শান্তি ও কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়।

মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন এর সঞ্চালনায় মাহফিলে বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ হযরত মাওলানা মাহবুবুল আলম ছিদ্দিকী, শায়খুল হাসিদ হযরত মাওলানা মকছুদ আহমদ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি ছৈয়দ মোহাম্মদ অছিয়র রহমান আল কাদেরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দারুল উলুম কামিল (অনার্স-মাষ্টার্স) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সাহাবউদ্দিন আহমেদ, সদস্য মো. শহিদুল আলম, শিক্ষক প্রতিনিধি হাফেজ মাওলানা হারুনুর রশিদ, বিশেষ মুহাদ্দিস শাহজাদা শাহ হজরত মাওলানা মুনিরুল মন্নান আল মাদানী সহ অন্যরা।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম