খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : দীর্ঘ নয়বছর পর আবারো মিলেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কবাখালী হাট। ২০১১ সালের ১৪ ডিসেম্বরে এক সাম্প্রদায়িক অপীতিকর ঘটনার পর বাজারটি বর্জন করেছিল পাহাড়ি সম্প্রদায়। এর পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সাপ্তাহিক হাট।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৯ নভেম্বর) হাটবারে আবারো পাহাড়ি-বাঙালির উপস্থিতিতে মুখরিত হলো কবাখালী বাজার। সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে বাজার চালু করা হয়।

সোমবার সকালে কবাখালি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ নয়বছর পর নারী-পুরুষের লক্ষ্যনিয় উপস্থিতিতে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে বাজারটি। উৎসাহ- উদ্দীপনা আর প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে সকলের মাঝে। পাহাড়ি-বাঙ্গালীদের ক্রয়-বিক্রয়ে সরব হয়ে উঠেছে আবারো কবাখালী হাট।

পরিপূর্নভাবে জমেছে হাট; দীর্ঘদিনের আশংকা কাটিয়ে এ হাটের মাধ্যমে সম্প্রীতির আরেক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতারা।

উদ্যোক্তারা জানান, ২০১১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী বাজারে সংগঠিত একটি হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে বাজার বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল স্থানীয় পাহাড়ী জাতিগোষ্ঠীরা। এতোদিন বাজারে ক্রেতা না থাকায় অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

কবাখালী বাজারে পাহাড়ি-বাঙালির সরব উপস্থিতি

দীর্ঘ ৯ বছর পর বাজার খোলায় খুশি ব্যবসায়ী ও কবাখালীর সাধারণ জনগণ। প্রতি সোমবার মিলবে কবাখালীর সাপ্তাহিক হাট-বাজার।

বাজার চালুর প্রথমদিনে মরিচ বিক্রেতা বীর কুমার চাকমা (৫৫) জানান, এত বছর পর কবাখালী হাট চালু হওয়ার কারণে তারা অনেক উপকৃত হয়েছেন। এখন পার্শ্ববর্তী বাজারেই বিক্রয় করতে পারছেন। একই ধরনের অনুভূতি জানান ক্রেতা জাপান চাকমা (৩০), অনিমা চাকমাসহ (৪০) অনেকেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ’র সভাপতিত্বে উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জোনের জোনাল ষ্টাফ অফিসার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি মোহাম্মদ কাশেম, জেলাপরিষদ সদস্য মিস শতরুপা চাকমা, ওসি উত্তম চন্দ্র দেব, বোয়ালখালি (সদর) ইউপি চেয়ারম্যান এবং জেএসএস (এমএন লারমা) উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক চয়ন বিকাশ চাকমা, ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক জনপ্রিয় চাকমা, কবাখালি ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন, মেরুং ইউপি চেয়ারম্যান রহমান কবীর রতন, দীঘিনালা ইউপি চেয়ারম্যান প্রজ্ঞান জ্যোতি চাকমা ।

বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন প্রতিযোগীতামূলক। কারো ইন্ধনে বা উস্কানীতে যদি হাট-বাজার বর্জন করা হয় তবে এতে করে প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই কারো ইন্ধনে সামিল না হতে ব্যবসায়ী ও স্থানীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

প্রসঙ্গতঃ ২০১১ সালের ১৪ ডিসেম্বর উপজেলার কবাখালীর মোটরসাইকেল চালক সাত্তারের লাশ উদ্ধার হয় রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে। তিনি চাকমা সম্প্রদায়ের যাত্রী নিয়ে আগের দিন বাঘাইছড়ি গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। এ ঘটনায় উত্তেজিত বাঙালি সম্প্রদায় কবাখালী বাজার এলাকায় যাত্রীবাহি গাড়িতে হামলা চালায়। তখন জোড়াব্রীজ এলাকার চাকমা (৪৮) মারাত্মক আহত হন। পরে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী চিকনমিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকনমিলার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তখন থেকে কবাখালী বাজার বর্জন করেন পাহাড়ি সম্প্রদায়।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম/প্রদীপ চৌধুরী