২৪ঘণ্টা নিউজ ডেস্ক: দুদকের অনুসন্ধানে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রমাণ মিললেও, অর্থের বিনিময়ে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে মামলার আওতায় না এনে উল্টো আইনের ফাঁক ফোকরে ছাড় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং দুদকের বিরুদ্ধে। ২১-১১-২০২০ শনিবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইফনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মামলার বাদিরা।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিটও করেছে ভুক্তভোগিরা। যা আগামী ৩০ কার্য দিবসেরমধ্যে আদেশ বাতিল করে অভিযোগ কারীর আবেদন পূনঃবিবেচনার জন্য দুদক চেয়ারম্যানকে আদেশ দেন হাইকোর্ট।

দাঁতমারা ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকসমাজের পক্ষে মো. শাহিদুল আলম নাহিদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উপজেলার সর্ববৃহৎ ২নং দাঁতমারা ইউনিয়নের গত ২০১১ ইংসাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন মো. জানে আলম। গত ২০১৫-২০১৬ ও ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরেত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় থেকে হতদরিদ্রদেরজন্য ৪০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচীর প্রায় সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য গত ৮ নভেম্বর ২০১৬ ইং এবং ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখ দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পৃথক দুটি আবেদন করি। এ নিয়ে বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির টিম ৩৬০ ডিগ্রী অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারকরে। এ ছাড়াও স্থানীয় এবং জাতীয় প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় এসব অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ প্রচারিত হয়। এর পর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর তদন্ত কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্ত শেষে ৪১ জনসাক্ষীর স্ব-শরীরে সাক্ষ্য গ্রহন করেন। প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা এবং স্বাক্ষীদের সাক্ষ্যমতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় এবিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে দুদকসমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ একটি প্রতিবেদন দুদক চেয়ারম্যান বরাবরে প্রেরন করে। যেখানে চেয়ারম্যান মো. জানে আলম সহ সংশ্লিষ্ট ৫ জনের বিরুদ্ধে দুদক আইনে মামলা দায়ের, চেয়ারম্যান মো. জানে আলমের সম্পদ বিবরনীর নোটিশ জারি এবং উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম সহ অপরাপর সরকারী কর্মকর্তাদেও বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশকরা হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় দুদকের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা গুটিকয়েক অসাধু কর্মকর্তার গোপন আতাঁতের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে তদন্ত কর্মকর্তার সুপারিশকে উপেক্ষা কওে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে মামলা থেকে কৌশলেবাদ দিয়ে শুধুমাত্র আত্মসাৎকৃত সোয়া কোটি টাকা সরকারী অর্থেরমধ্যে মাত্রসাড়ে ৬ লাখটাকা কোষাগারে জমা প্রদানের অনুমোদন দেয়া হয়। বিষয়টি আমরা অবগত হওয়ার পর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর বিষয়টি পূনঃবিবেচনার জন্য গত ৮ অক্টোবর এবং ৯ নভেম্বর পৃথক দুটি আবেদন করি। কিন্তু আমাদের আবেদন গুলোকে দুদক প্রধান কার্যালয় আমলে না নিয়ে তাঁদের পূর্বেও সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

এমন অবস্থায় আমরা মহামান্য হাইকোর্টে রীট পিটিশন দায়ের করি। গত ১৯ নভেম্বর মাননীয় বিচারপতি এনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ শুনানী শেষেআ গামী ৩০ কার্য দিবসেরমধ্যে পূর্বেও আদেশ বাতিল কওে অভিযোগকারীর আবেদন পূনঃবিবেচনারজন্য দুদক চেয়ারম্যানকে আদেশ দেন।

শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত চেয়ারম্যান দুদকের মামলা ডিসমিস করেছে মর্মে এলাকায় নানাভাবে প্রচারনা চালাচ্ছে এবং অভিযোগ কারী হিসেবে আমাদেরকে ও নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে। ইতোমধ্যে অনিয়মের প্রতিবাদ কওে অভিযোগ করায় ইউপিসদস্য আনোয়ার হোসেনকে এবং অনিয়মের সংবাদ প্রকাশক করায় সাংবাদিক আবু মুছা জীবনকে দুটি করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। চেয়ারম্যান টাকার জোরে উপর মহলে সবকিছু ম্যানেজ করে ফেলেছে এই দম্ভোক্তি দেখাচ্ছে এলাকায়। এমতাবস্থায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারী অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে অভিযোগকারী হিসেবে আমরাশংকা ও নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। তদন্তে অভিযুক্ত প্রমাণিত হওয়ার পরেও এ ধরনের দুর্নীতিবাজদেরকে মামলার আওতায় না এনে উল্টো আইনের ফাঁক ফোকরে ছাড় দেয়া হলে দুদকের প্রতি দেশের জনমানুষের আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থাকার ফলে বিভিন্ন স্তরের দুর্নীতিবাজরা যখন একে একে পাকড়াও হচ্ছে। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতওে ঘাপটি মেরে বসে থাকা কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী ও তথাকথিত জনপ্রতিনিধির বির্তকিত ভূমিকায় বর্তমান সরকারের প্রসংশিত অর্জনগুলো ম্লান হচ্ছে।

২৪ঘণ্টা/এন এম রানা