ধর্ম ব্যবসায়ী, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী কর্তৃক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাস্কর্য অপসারণের হুমকির প্রতিবাদে এবং হুমকিদাতাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবীতে অপরাজেয় বাংলা, চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে শনিবার ২১ নভেম্বর বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সম্মুখে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন,”জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কোন ধরণের হুমকি সহ্য করা হবে না। আজকে জাতির পিতার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমস্ত মৌলবাদ ফ্যাসিবাদ ধর্মান্ধ শক্তিকে আমরা বাংলার মাটিতে চির তরে অবাঞ্চিত ঘোষণা করলাম এদের কোন জায়গা বাংলাদেশে নাই। আমি আজকে তরুন প্রজন্মকে অহবান জানিয়ে যাব এসব মৌলবাদীদের কোন প্রকার ছাড় না দেওয়ার জন্য।

প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্বে করেন অপরাজেয় বাংলা, চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ন আহ্বায়ক, নগর যুবলীগের সদস্য নুরুল আনোয়ার এবং সঞ্চালনা করেন অপরাজেয় বাংলা, চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনি।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য জামশেদুল আলম চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ হাসান, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, অপরাজেয় বাংলা কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এইচ রহমান মিলু, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমান্ত তালুকদার, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ.ন.ম মিনহাজুর রহমান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, টিভি জার্নালিস্টস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও দীপ্ত টিভি বিভাগীয় প্রধান লতিফা আনসারী রুনা, সুচিন্তা চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক জিনাত সোহানা চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সদস্য মেজবাহ চৌধুরী মোর্শেদ, হেলাল উদ্দীন, শাখাওয়াত হোসেন স্বপন, সাবেক সদস্য আসহাব চৌধুরী, মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী নোবেল, কাজী রাজেশ ইমরান, ১৪নং লালখান বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিল পদপ্রার্থী আবুল হাসনাত বেলাল, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা এমদাদুল হক রায়হান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুমেন বড়ুয়া, উপ-সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম, চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগ সভাপতি নুরুন্নবী শাহেদ, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম, মহানগর যুবলীগ নেতা জয় শংকর সরকার, সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেত্রী ফারজানা আক্তার মিশু।

বক্তারা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী বিরূপ মন্তব্য করছেন। তারা জানে না, ভাস্কর্য কী জিনিস, আর মূর্তি কী জিনিস। তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। জাতির পিতার এসব ভাস্কর্য দেখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে জানবে। নতুন প্রজন্ম যখন এসব ভাস্কর্য দেখবে, তখন তারা বঙ্গবন্ধুকে জানবে। কীভাবে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে, বঙ্গবন্ধুকে না জানলে তা জানা যাবে না।

এ ধর্ম ব্যবসায়ীরা আমাদের বাংলাদেশের সৃষ্টি সম্পর্কে জানতে দিতে চায় না। সেজন্য তারা ভাস্কর্যকে মূর্তি হিসেবে উপস্থাপন করে দেশে একটা অরাজকতা তৈরি করতে চায়। তারা জানে না এ ব্যবসা বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে গেছে। জঙ্গিবাদের ব্যবসা বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে গেছে। হিংসা বিদ্বেষ ও সন্ত্রাসের জায়গা ইসলামে নেই। ইসলাম শান্তির ধর্ম। অতীতেও ধর্মীয় শিক্ষাটাকে বিকৃত করে, ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিপথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদীদের আস্ফালন দিন দিন বেড়ে চলেছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তারা যে হুমকি দিয়েছে, এটা ভয়ঙ্কর। এটার প্রতিবাদ না করলে অসাম্প্রদায়িক জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব একদিন বিপন্ন হবে। মৌলবাদীরা লালনের ভাস্কর্য ভেঙেছে। তাদের চাপে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য সরানো হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মূর্তি ভাঙছে তারা। মৌলবাদীদের আর কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবেনা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর যুবলীগ নেতা এস.কে মাহমুদ হিরু, আব্দুর রাজ্জাক, হোসাইন আহমেদ রুবেল, খোরশেদ আলম, সৈয়দ রবি, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এহেসান চৌধুরী রিমন, রেজাউল করিম রিটন, শাহাদত সালাম শাওন, হুমায়ুন কবির রানা, তানভীর মেহেদী মাসুদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, এনামুল হক মানিক, মনির ইসলাম, মায়মুন উদ্দিন মামুন, আনোয়ার পলাশ, মুজিবুর রহমান রাসেল, নোমান চৌধুরী রাকিন, ইসতিয়াক শুভ, শিবলী রহমান।