বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল বর্তমান সরকার। তারা ভিন্ন আঙ্গিকে জনসমর্থনহীন একটি তামাশার নির্বাচনে সেই একদলীয় বাকশালের নতুন সংস্কৃতি চালু করেছে। সবার মতামতকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র এক ব্যক্তির ইচ্ছায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। যারা জ্বালাও—পোড়াওয়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য আন্দোলন করেছিল, তারাই আজীবন ক্ষমতায় থাকার লালসায় সেই ব্যবস্থাটি সংবিধান থেকে মুছে দেয়।

বিজ্ঞাপন

৫ জানুয়ারী গণতন্ত্রের পথচলাকে থমকে দেয়া হয়েছিল। একদলীয় ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রিত হাইব্রিড গণতন্ত্রকে জেঁকে বসানো হয়েছে জনগণের কাঁধের ওপর। তিনি বলেন, আসন্ন চসিক নির্বাচন একটি অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিবে আমরা প্রত্যাশা করি। যদি চসিক নির্বাচনে কারচুপির করে ভোট ডাকাতি করা হয় তাহলে ওই চট্টগ্রাম থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করা হবে।

তিনি আজ মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারী) দুপুরে নগরীর একটি রেষ্টুরেন্টে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চসিক মেয়র প্রার্থী ডা, শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। দেশে ভোটের অধিকার, মানবিক মূল্যবোধ, কথা বলার অধিকার ও আইনের শাসন কোন কিছুই আজকে উপস্থিত নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই মির্জা কাদের ইতিমধ্যে বলেছেন, যদি দেশে সুষ্ঠু ভোট হয় তাহলে আওয়ামী লীগের কোন এমপি পালানোর সুযোগ পাবে না। এটাই হচ্ছে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি।
নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে চসিক নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে করার আহবান জানিয়ে ডা: শাহাদাত বলেন, প্রশাসন যেন আওয়ামী যন্ত্রে পরিণত না হয়। ভোট মানুষের পবিত্র আমানত। এই ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে হবে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারে নির্বাচন কমিশনকে তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। চসিক নির্বাচনের জন্য আমরা শতভাগ প্রস্তুত, ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবো।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, দেশে এক ভয়াবহ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা বিরাজমান। বিরোধী কণ্ঠ, মত ও পথকে নিশ্চিহ্ন করে বেপরোয়া দেশ শাসন করতে গিয়ে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। জনগণ যাতে কোনো প্রতিবাদ করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনকে নগ্ন ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গণতন্ত্রকে রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে দেশের আপামর নির্যাতিত জনগণ এখন গতন্ত্র পুণরুদ্ধারের জন্য ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। জনগণের উদ্বেল অভিযাত্রা যেকোনো মূহূর্তে রাজপথে প্রবল স্রোত তৈরি করবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয সহ সংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসেও গণতন্ত্রকে এখনো বিকশিত করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ বর্তমানে জোর করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসে আছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে কিন্তু আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার মূলমন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আগামী চসিক নির্বাচনে জনগনের ভোটাধিরার রক্ষার শপথ নিতে হবে।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপি নির্বাচনে যাচ্ছে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য। যদিও নির্বাচন নিয়ে এখন কারও আগ্রহ নেই। তারা প্রকাশ্যে ভোট চুরি করছে, তারপরও র্নিলজ্জ নির্বাচন কমিশন পদত্যাগ না করে সেটাকে ডিফেন্ড করছে। এর চেয়ে কলঙ্কময় অধ্যায় আর হতে পারে না

পরিচিতি সভায় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মো: মিয়া ভোলা, এড. আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দীন, এস এম সাইফুল আলম, এস কে খোদা তোতন, নাজিমুর রহমান, শফিকুর রহমান স্বপন, কাজী বেলাল উদ্দীন, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, মো, শাহ আলম, ইসকান্দার মির্জা, আবদুল মান্নান, আহবায়ক কমিটির সদস্য এরশাদ উল্লাহ, শামসুল আলম, জয়নাল আবেদীন জিয়া, হারুন জামান, মোঃ আলী, মাহবুবুল আলম, এড. মফিজুল হক ভুইয়া, নিয়াজ মোঃ খান, ইকবাল চৌধুরী, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, এস এম আবুল ফয়েজ, আশরাফ চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, আবুল হাসেম, মনজুর আলম মঞ্জু, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী মোঃ সিরাজ উল্লাহ, মনজুর আলম মঞ্জু, কামরুল ইসলাম প্রমুখ।