দেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান আর নেই। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর।

বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর উপসম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মিজানুর রহমান খান গত ২৭ নভেম্বর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। প্রথমে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সেখানে সমস্যা বাড়লে সেখান থেকে গত ১০ ডিসেম্বর তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার বিকালে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। আজ সন্ধ্যা ছয়টা পাঁচ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।

নলছিটির সন্তান মিজানুর রহমান খানের সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি এসএসসি পাস করার পর, বরিশালের স্থানীয় পত্রিকায়। নব্বইয়ের দশকে দৈনিক খবর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর দৈনিক বাংলাবাজারে প্রধান প্রতিবেদক ও দৈনিক মুক্তকণ্ঠে কূটনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেন। পরে ডেইলি নিউ ন্যাশন ও দৈনিক মানবজমিনে বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেন। দৈনিক যুগান্তর ও সমকালে উপসম্পাদক ছিলেন তিনি। এরপর দৈনিক প্রথম আলোতে যোগ দিয়ে সবশেষ যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন মিজানুর রহমান খান।

সংবিধান ও আইন-আদালত বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রচুর কলাম ও মতামত লিখেছেন মিজানুর রহমান খান। সংবিধান, সরকার ব্যবস্থা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ‘১৯৭১: আমেরিকার গোপন দলিল’, ‘সংবিধান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিতর্ক’, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এক অশনি সংকেত’, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের স্বরূপ’ ও ‘মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকাণ্ড’।