ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের কীর্তিমান আধ্যাত্মিক মনীষী ইমামে আহলে সুন্নাত শায়খুল ইসলাম শাহ্সূফী আল্লামা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানীর (ক.) ৮৪তম খোশরোজ শরীফের তিন দিনের কর্মসূচি আজ ৮ ফেব্র“য়ারি সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে খতমে কুরআন, খতমে বুখারি, খতমে গাউছিয়া মাইজভাণ্ডারীয়া, খতমে খাজেগানসহ বিভিন্ন খতম আয়োজন করা হয়। মাইজভাণ্ডার শরীফ গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মন্জিলে দুপুরে আয়োজন করা হয় দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। মইনীয়া প্রকাশনী থেকে কুরআন মজিদের সূফীতাত্ত্বিক তফসীর গ্রন্থ ‘তফসীর-এ-মইনীয়া’ এবং ছামা’র বৈধতার পক্ষে দালিলিক গ্রন্থ ‘কিতাবুছ ছামা’ গ্রন্থ দুটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সূফীজের প্রেসিডেন্ট শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (মা.জি.আ.)।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. সেকান্দর চৌধুরী। তিনি বলেন, এদেশে ইসলামের প্রবেশদ্বারই হচ্ছে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম থেকেই সূফী সাধকরা ইসলামের ব্যাপ্তি ঘটিয়েছেন সারা দেশে। আর মাইজভাণ্ডারী মহাত্মাদের কল্যাণে এদেশে ইসলাম চর্চা ব্যাপকতা পেয়েছে। তিনি বলেন, তফসীর-এ-মইনীয়া ও কিতাবুছ ছামা’সহ মইনীয়া প্রকাশনীর সকল প্রকাশনা মৌলিক, তাত্ত্বিক ও গুণগত বিচারে উত্তীর্ণ। এতে সত্য সন্ধানী মানুষ দিশা খুঁজে পাবে। তিনি সময়োপযোগী গ্রন্থ প্রকাশ করায় প্রকাশক মহোদয়সহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার প্রশংসা করেন এবং তাঁদের প্রতি ধন্যবাদ জানান। সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, কুরআন মজিদের মনগড়া ইচ্ছাকৃত অপব্যাখ্যার কারণে ইসলামের নামে উগ্রবাদি তৎপরতা আজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ফলে মানুষ হচ্ছে ঈমানহারা ও বিপথগামী। কুরআন মজিদের সূফীতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ গ্রন্থই হলো ‘তফসীর-এ-মইনীয়া’। যাতে কুরআন মজিদের সারবত্তা, বাণী ও নির্দেশনা নির্মোহভাবে তুলে ধরেছেন লেখক-গবেষক অধ্যক্ষ আল্লামা গোলাম মুহাম্মদ খান সিরাজী।

আলোচক ড. মঞ্জুরুল আলম বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে ছামা’ বা আধ্যাত্মিক সংগীত যে বৈধ, সুন্নাত ও মুস্তাহাব আমল তা দালিলিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে ‘কিতাবুছ ছামা’ গ্রন্থে। উক্ত মৌলিক তাত্ত্বিক অপরিহার্য গ্রন্থ দুটি পাঠে উৎসুক সত্যানুসন্ধিৎসু মানুষের মনের খোরাক জুগাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আল্লামা মুফতি কাজী আব্দুল ওয়াজেদ বলেন, কুরআন মজিদের দু’ধরনের অর্থ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ রয়েছে। জাহেরি বা বাহ্যিক অর্থ। বাতেনি বা অন্তর্গূঢ় দিক। তফসীর-এ-মইনীয়ায় কুরআন মজিদের ভেতরগত মর্মার্থ ও সারবত্তা বিবৃত হয়েছে নির্মোহভাবে। কুরআন মজিদের সত্যিকার বাণী ও নির্দেশনা হৃদয়ঙ্গম করতে পারলে পথভ্রষ্টতার আশংকা থাকে না। এই দিকটি বিবেচনায় নিয়ে সূফীতাত্ত্বিক তফসীর গ্রন্থ ‘তফসীর-এ-মইনীয়া’ প্রকাশ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সাবেক সভাপতি আল্হাজ্ব মুহাম্মদ ইকবাল রিসালপুরী। তিনি বলেন, গ্রন্থ দুটি পাঠে মানুষের ঈমান আক্বিদা মজবুত হবে এ আশা করা যায়। কুরআন মজিদের অন্তর্গূঢ় বাণী ও নির্দেশনা তফসীর-এ-মইনীয়ায় উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে। আর ছামা’ যে বৈধ আমল তার দিক নির্দেশনা রয়েছে কিতাবুছ ছামা’ গ্রন্থে। তিনি গ্রন্থ দুটির বহুল প্রচার ও অধ্যয়ন কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে গ্রন্থ দুটির ওপর আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলম, অধ্যাপক ড. এসএম রফিকুল আলম, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের মহাসচিব অ্যাডভোকেট কাজী মহসীন চৌধুরী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার ফক্বীহ আল্লামা মুফতি কাজী আব্দুল ওয়াজেদ, ছোবহানিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি হারুনুর রশীদ, নেছারিয়া আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ আল্লামা রফিক উদ্দিন ছিদ্দিকী, তফসীর-এ-মইনীয়ার গ্রন্থকার অধ্যক্ষ আল্লামা গোলাম মুহাম্মদ খান সিরাজী, বুড়িশ্চর জিয়াউল উলুম ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আল্লামা এসএম ফরিদ উদ্দিন, অধ্যক্ষ আল্লামা ইব্রাহিম কাশেম, ফয়জুল বারী ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা কাজী আনোয়ারুল ইসলাম খান, ড. আল্লামা খলিলুর রহমান, আল্লামা বশির উদ্দিন প্রমুখ। অতিথিবৃন্দ উক্ত গ্রন্থ দু’টির মোড়ক উন্মোচক করেন। মিলাদ ক্বিয়াম শেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, দেশ ও বিশ্ববাসীর শান্তি সমৃদ্ধি কামনায় মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী। খতমে বুখারি শরীফ এবং মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট আলেম, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন।
২৪ ঘন্টা নিউজ/ এনএম রানা