ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারল না বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে দিশেহারা স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইন। ক্যারিবীয়দের হয়ে উইকেট লাভ করেন

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনও নিজেদের করে নিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অবশ্য দ্বিতীয় সেশনে বল হাতে ভালো জবাব দিয়েছে বাংলাদেশের বোলাররা। দ্বিতীয় সেশনে ক্যারিবীয়দের ৪০৯ রানে বেঁধে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। তবে শেষ সেশনে ব্যাটসম্যানরা দায়িত্বহীন পরিচয় দিবেন এমন কিছু হয়তো ভাবতেও পারেননি কেউ। সাদমানের বদলি একাদশে ঢুকা সৌম্য যেন সাজঘরে ফিরলেন শুরুতেই।

তৃতীয় সেশনের প্রথম ওভারের শেষ বলে শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে গালি তে ক্যাচ তুলে ‘শুন্য’ রান করেই ফিরেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেট যেতেও বেশিক্ষণ সময় লাগেনি বাংলাদেশের। ১৪তম বলে গ্যাব্রিয়েলের করা অফ স্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বল মারতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে এনক্রুমাহ বনারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এই ইনিংসেও বড় স্কোর পাননি তিনি, করেছেন কেবল চার রান।

দলীয় ১১ রানে দল যখন ব্যাটিং বিপর্যয়ে তখন হাল ধরেন তামিম ইকবাল এবং মুমিনুল হক। গ্যাব্রিয়েল, জোসেফদের বিরুদ্ধে কিছুটা আগ্রাসী ব্যাটিংই করেন তামিম। অন্যদিকে মুমিনুলও টেস্ট মেজাজের ব্যাটিং করে দলকে কিছুটা চাপমুক্ত করার চেষ্টা করেন। এই দুজনের ব্যাটিং যখন ভালো কিছুর আশা দেখাচ্ছিল সেটা স্বপ্নে পানি ঢেলে দেন রাকিম কর্ণওয়েল। দলীয় ৬৯ রানে কর্ণওয়েলের বল ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফিরেন দলের অধিনায়ক মুমিনুল।

আউট হওয়ার আগে ৩৯ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলেন মুমিনুল। দলের অধিনায়ক আউট হওয়াতে দল যখন আবারো ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে তখন বেশ তাড়াহুড়ো করেই আউট হন দারুণ খেলতে থাকা তামিম। বলতে গেলে অনেকটাই আত্মহত্যাই করেন এই ওপেনার। জোসেফের বলে ব্যক্তিগত ৫২ বলে ৪৪ রান করে আউট হন তামিম।

৭১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দল যখন আবারো বিপদে তখনই হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন জুটি। কোন ধরণের ঝুঁকি না নিয়েই রান বের করতে থাকেন মুশফিক। অন্যদিকে জোসেফের বলে মিঠুনকে আউট করতে আবেদন করেন উইকেটরক্ষক জশুয়া ডি সিলভা তবে রিভিউ নিয়ে সে যাত্রায় বেঁচে যান মোহাম্মদ মিঠুন। এক পাশ থেকে মুশফিক রান তুললেও অন্যপাশে রান না তুলে ক্রিজে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যান মিঠুন।

শেষ পর্যন্ত দুই ব্যাটসম্যানের লড়াকু মানসিকতায় দ্বিতীয় দিনশেষে আর উইকেট হারাতে হয়নি বাংলাদেশকে। চার উইকেট হারিয়ে ১০৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ৬১ বলে ৬ রান করে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন মিঠুন সেই সঙ্গে ৬১ বলে ২৭ করে অপরাজিত রয়েছেন মুশফিক।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১ম ইনিংস) ৪০৯

ডি সিলভা ৯২, বনার ৯০ঃ রাহী ৪-৯৮

বাংলাদেশ (১ম ইনিংস) ১০৫-৪

তামিম ৪৪, মুশফিক ২৭*, মিঠুন ৪*: গ্যাব্রিয়েল ২-৩।