বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস পরিপূর্ণ পাবে তখন, যখন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের অবদানকে স্বীকার করা হবে। এই চট্টগ্রামের মাটি থেকে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। সে ঘোষণায় সাড়া দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সশস্ত্রবাহিনীসহ সকলে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বসে থাকেননি, তিনি রণাঙ্গনে শত্রুর মোকাবেলা করে জীবনবাজি রেখে আমাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জিয়াউর রহমান একইসূত্রে গাঁথা। জিয়াউর রহমানকে অস্বীকার করা মানে মুক্তিয্দ্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করা।

বিজ্ঞাপন

আজ রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নগরীর কাজীর দেউড়ি নাসিমন ভবনস্থ মাঠে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান কোনো খেতাবের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেননি। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর হাত থেকে শোষিত নিপীড়িত নির্যাতিত দেশের মানুষকে রক্ষা করার জন্য য্দ্ধু করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ এখন সে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধকে বিক্রি করে দেশের গণতন্ত্রকে বার বার হত্যা করেছে। গণতন্ত্র, স্বাধীনতা বলতে দেশে কিছু নেই। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে একটি মাফিয়া রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিত করেছে। এ্ই ফ্যাসিবাদ সরকার বিএনপিকে ধংস করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। মিথ্যা সাজানো মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রাখা হয়েছে। তিনি এখনো মুক্ত নন, তাঁকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। একইভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় দিয়ে সাঁজা দিয়ে আসছে। শেখ হাসিনার সরকার তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় আতঙ্কিত হয়ে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। হাজারো ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বিএনপি এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘুরে দাড়িয়েছে। এ সরকারের অনিয়ম, দূর্নীতি, লুটপাটের বিরুদ্ধে আমাদের ইস্পাত কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পিছনে তাঁকানোর আর কোনো সুযোগ নেই, এবার সামনে যাওয়ার পালা। মানুষের ভোটাধিকার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদ সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতীক। তিনি এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের মুক্তির নায়ক। স্বাধীনতা যুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও স্বাধীনতার মহান ঘোষক। জিয়াউর রহমান ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। এদেশের ১৬ কোটি মানুষের হৃদয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান আছেন। খেতাব কেড়ে নিতে পারবে ফ্যাসিবাদ এ সরকার, কিন্তু জনগণের ভালোবাসা কেড়ে নিতে পারবে না।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছেন। পাকিস্তানি আর্মিতে থাকা অবস্থায় সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। আমরা বলে দিতে চাই, শহীদ জিয়াউর রহমানের সৈনিকরা বেঁচে থাকতে শহীদ জিয়া ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে তাঁর দাতভাঙা জবাব দিতে হবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান সঞ্চলনায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও আহবায়ক কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন, আবদুল গাফফার চৌধুরী, নাজমুল মোস্তফা আমিন, জামাল হোসেন, আবু মো. নিপার, মোজাম্মেল হক ভিপি, হুমায়ন কবির আনসার, লায়ন হেলাল উদ্দিন, এহসানে মওলা, বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লোকমান, বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইছহাক চৌধুরী, বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরী, বোয়ালখালী পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক শহীদুল্লাহ, সদস্য সচিব ইউসুফ চৌধুরী, আলহাজ্ব হাসান চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যান আবুল কালাম আবু, সরোয়ার হোসেন, এডভোকেট শওকত ওসমান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শহীদুল আলম শহীদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল কবির ফজলু, ওলামা দলের আহবায়ক মৌওলানা ফোরকান, সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক হাফেজ মৌওলানা আবদুল করিম, সদস্য সচিব মাহফুজুর রহমান আনিস প্রমুখ।