২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ : বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী (৫০ বছর পূর্তি) উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বিজ্ঞাপন

যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দলটি। এর মাধ্যমে তারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নানা অপবাদ মোকাবিলা এবং প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কাছে নতুন করে পরিচিত করানোর সুযোগ নিতে চায়। এ উপলক্ষে এরই মধ্যে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচির খসড়া করেছে দলটির পক্ষ থেকে গঠিত সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটি।

আজ সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আগামী মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া বছরব্যাপী এসব কর্মসূচি একমাস আগ থেকে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি। এক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রামের কালুরঘাট এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সভায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ ভুল তথ্য দিয়ে জনগণকে যেভাবে বিভ্রান্ত করেছে তা পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। সত্যিটা উঠে আসা জরুরি। ইতিহাস কিভাবে তৈরি হবে সেটার সিদ্ধান্ত যখন রাজনীতিবিদরা নিতে থাকেন তখন তা আর ইতিহাস থাকে না, হয়ে যায় প্রোপাগাণ্ডা।

তিনি বলেন, বছরজুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সত্যিকারের ইতিহাস কি হওয়া উচিত তা আলোচনা পর্যালোচনা করে তুলে ধরা হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতিমাসের কর্মসূচি আগে থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

সূত্র মতে, দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্যোগে দলের স্থায়ী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসে স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে ১১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সারা বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, ডকুমেন্টারি, ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনী, চিত্রনাট্য ও পথনাটক প্রদর্শনীর মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া সরকারের সফলতা, তাদের দর্শন এবং তারেক রহমানকে হাইলাইটস করা হবে। বিএনপি ঘোষিত ভিশন ২০৩০ কে হাইলাইটস করে উন্নতমানের সেমিনার, সিম্পোজিয়াম করা হবে।

আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এমনভাবে উদযাপন করতে হবে, যাতে নতুন প্রজন্ম বুঝতে পারে যে, বিএনপিই প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল। এর মাধ্যমে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার দর্শন আদর্শ তুলে ধরার বিরাট সুযোগ হবে। গত ১০ থেকে ১২ বছরে অনেক কিছুই আমরা করতে পারিনি। বিএনপি সবচেয়ে বড় গ্রহণযোগ্য একটি দল, সেটা প্রমাণিত করতে হবে এ কর্মসূচির মাধ্যমে।

মতবিনিময় সভার সভাপতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার ঘোষণা দিয়ে তার স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। আজকে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে। সেই বিকৃত ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে।

মতবিনিময় সভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম আকবর খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মীর হেলাল উদ্দীন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন মিডিয়া কমিটির সদস্য এডভোকেট ফারজানা শারমিন, নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ানসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।