বোল্টদের কাছে তামিমদের অসহায় আত্মসমর্পণ

188

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডে কাছে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ের চরম ভরাডুবিতে প্রথম ইনিংসেই ম্যাচ চলে যায় স্বাগতিকদের কাছে। ১৩২ রানের লক্ষ্য ৮ উইকেট ও ১৭২ বল হাতে রেখেই টপকে যায় নিউজিল্যান্ড।

লক্ষ্যটা ছিল মাত্র ১৩২ রানের। অত্যন্ত মামুলি এ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল আর হেনরি নিকোলস মিলে ঝড়ো সূচনা এনে দেন। ডানেডিনের ছোট্ট মাঠে বাউন্ডারির ফোয়ারা ছোটান মার্টিন গাপটিল। প্রথম পাঁচ ওভারেই দলীয় অর্ধশত রান পূর্ণ করে নিউজিল্যান্ড।

এ জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিনের দারুণ এক ডেলিভারিতে পরাস্ত হন গাপটিল। ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের হাতে। ৩ চার ও ৪ ছক্কা মারা গাপটিল ২৭ বলে ৩৮ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। এরপর দেখেশুনে খেলতে থাকেন ডেভন কনওয়ে এবং হেনরি নিকোলস। এ দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের রানের লাগাম টেনে ধরেছিলেন দুই অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ এবং মেহেদী হাসান।

কনওয়ে আর নিকোলসের ৬৫ রানের জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। কনওয়ে ফ্লিক করতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর উইল ইয়ং আর হেনরি নিকোলস মিলে ইনিংসের ২২ তম ওভারেই দলকে জয় এনে দেন।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন স্বাগতিক অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তিন অভিষেক নিয়ে নিউজিল্যান্ড এবং এক অভিষেক নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ।

ইনিংসের প্রথম বলেই দারুণ এক ডেলিভারি করে বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবালকে পরাস্ত করেন ট্রেন্ট বোল্ট। প্রথম ওভারেই বোল্টের বলে তামিম অফ-সাইডে ছক্কা মেরে দারুণ কিছুর আভাস দিলেও তা মিলিয়ে যায়। ১৩ রান করে বোল্টের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন তামিম। তামিমকে ফুল লেংথে বেশ কিছু লেট আউটসুইং ডেলিভারি করেন বোল্ট। সেগুলো পিচ করে অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে চলে যাচ্ছিল। হুট করে একটা হালকা ভেতরে ঢোকা বলেই ধোকা খান তামিম।

তামিমের বিদায়ের দুই বল পরেই তিন নম্বরে উন্নীত হওয়া সৌম্য সরকার বোল্টের এক শর্ট ডেলিভারিতে বাজে শট খেলে ডেভন কনওয়ের হাতে ক্যাচ দেন। কোনো রান না করেই ফিরে যান তিনি।

তৃতীয় উইকেটে ২৩ রান যোগ করেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। জেমস নিশামের প্রথম ওভারেই থিতু হয়ে যাওয়া লিটন আউট হন। থিতু হওয়ার পর একটি শর্ট ডেলিভারিতে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন লিটন। ১৯ রান করেন তিনি। অপর প্রান্তে মুশফিক শুরু থেকেই ক্রিজে টিকে থাকতে সংগ্রাম করছিলেন। রানের গতি বাড়াতে গিয়ে আউট হন তিনি, নিশামের বলে কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দেন পয়েন্টে থাকা মার্টিন গাপতিলের হাতে। ৪৯ বলে ২৩ রান করেন মুশফিক।

এক ওভার পরেই সাজঘরে ফিরেন মোহাম্মদ মিঠুন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের স্ট্রেইট ড্রাইভ জেমস নিশামের হাতে লেগে নন স্ট্রাইকিং প্রান্তের স্টাম্প ভেঙে দেয়। ২৭ বলে ৯ রান করা মিঠুন রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেন।

মেহেদী হাসান মিরাজকে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন মিচেল সান্টনার। মাত্র ৭৮ রানেই ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর অভিষিক্ত মেহেদী হাসান ক্রিজে এসেই ছক্কা হাঁকান। ৯৪ মিটারের এক ছক্কা দিয়ে রানের খাতা খোলেন মেহেদী। কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তিনিও। ১৪ রান করে সান্টনারের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে তুলে মারতে গিয়ে বিদায় নেন মেহেদী।

রিয়াদকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন তাসকিন। অনেকক্ষণ ক্রিজে থাকার পর এক পর্যায়ে হাত খুলতে গিয়ে রিয়াদ ক্যাচ দেন স্যান্টনারের হাতে। ১ চার ও ১ ছক্কা মারা রিয়াদ ৫৪ বলে ২৭ রান করেন তিনি।

রিয়াদের বিদায়ের পর বোল্টের বলে ভুল লাইনে খেলে বোল্ড হন হাসান মাহমুদ। এক বল পরেই তাসকিনকে ফিরিয়ে দিয়ে ইনিংসের সমাপ্তি টানেন বোল্ট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ১৩১/১০, ৪১.৫ ওভার
রিয়াদ ২৭, মুশফিক ২৩, লিটন ১৯
বোল্ট ৪/২৭, সান্টনার ২/২৩, নিশাম ২/২৭

নিউজিল্যান্ড ১৩২/২, ২১.২ ওভার
নিকোলস ৪৯*, গাপটিল ৩৮, কনওয়ে ২৭
তাসকিন ১/২৩, হাসান ১/৪৯