সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে ফেনী নদীর তীরে প্রাচীর নির্মাণ করেছে ভারত; পতাকা বৈঠকে কড়া প্রতিবাদ বিজিবি’র

124

ফটিকছড়ি প্রতিনিধিঃ আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্গণ করে ফেনী নদীর তীরে পাথর ও সিমেন্টের শক্ত প্রচীর নির্মাণ করছে ভারত। খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১৯৭৫ সালের (ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি) সীমান্ত আইন লংঘনের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র কাছে। গত শনিবার ফেনী নদীর রামগড় ও ত্রিপুরার সাব্রুম সীমান্ত এলাকায় এঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রামগড় পৌরসভার মন্দিরঘাট সীমান্তের ওপারে ফেনী নদীর তীর ঘেঁষে জিরো লাইলের মাত্র ৩০-৪০ গজের মধ্যে
পাথর ও সিমেন্টের ঢালাইয়ে নির্মাণ করেছে ভারত। যা আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুসারে জিরো পয়েন্টের ১৫০ মিটারের মধ্যে কোন স্থাপনা নির্মাণ অবৈধ।

অপর দিকে রামগড় থানার বিপরীতে সাব্রুমের দশমিঘটে এলাকায় সীমান্তের দেড়‘শ গজের মধ্যে পাকা ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করলে বিজিবির বাঁধায় তা বন্ধ করেছে।

জানা গেছে, গত শনিবার (১ মে) রামগড়-সাব্রুম সীমান্তে মৈত্রী সেতুর উপর ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফের সাথে অনুষ্ঠিত এক পতাকা বৈঠকে বিজিবি এ প্রতিবাদ জানায়। বৈঠকে রামগড়স্থ ৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে.কর্ণেল মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাযহার এবং সাব্রুমের ৬৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট দীনেশ কুমার সিং নিজ নিজ পক্ষের নেতৃত্ব দেন। বৈঠক শেষে ৪৩ বিজিবির পরিচালক লে.কর্ণেল মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাযহার সাংবাদিকদের জানান, রামগড় মন্দিরঘাট ও থানাঘাট এলাকার বিপরীত অংশে (ভারতের সাব্রুমে) দুটি কাজই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, রামগড় পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মন্দিরঘাট এলাকায় ২২১৬/৬ আর.বি সীমানা পিলারের বিপরীত অংশে ভারত ফেনী নদীর কিনারাঘেঁষে তরিগরি করে পাথর ও সিমেন্টের ঢালাইয়ে একটি বড় মজবুত প্রাচীর নির্মাণ করে। বিএসএফের পাহারায় ভারী মেশিনারিজ ব্যবহার করে তারা বিজিবির নজরে আসার আগেই অল্প সময়ের মধ্যে প্রাচীরটির নির্মাণ কাজ শেষ করেছে। বিষয়টি সীমান্তের দুই পাড়ের মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। তারা দুই পাড়ের আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্গণ এবং দীর্ঘ দিনের সম্প্রীতির ফাঁটল ধরাতে এই প্রচীর নির্মাণ করে বলে সমালোচনা করেন।

সাব্রুমের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সীমান্তে পাকা সড়ক নির্মাণের জন্যই তারা মজবুত প্রাচীরটি নির্মাণ করছে। প্রাচীরের পাশে মাটি ভরাট করা হয়েছে। বিজিবির নজরে আসার আগেই দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তারা স্কেভেটর, মিক্সার ভ্যাহিক্যাল, ড্রাম ট্রাক ইত্যাদি ব্যবহার করেছে। প্রাচীরের নির্মাণ কাজ শেষে মাটি ভরাটের কাজ করার সময় শনিবার (১ মে) এটি বিজিবির নজরে আসার পর বাঁধা দিয়ে কজ বন্ধ করে দেয়া হয়।
অন্যদিকে, রামগড় থানা এলাকায় ২২১৫/৬ আর.বি সীমানা পিলারের বিপরীতে সাব্রুম বাজার সংলগ্ন দশমি ঘাট এলাকায় ফেনী নদীর তীর ঘেঁষে জিরো লাইন হতে ১৫০ গজের মধ্যে প্রায় ১০ ইঞ্চি প্রস্থের ইট সিমেন্টের পাকা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ শুরু করে ভারত। কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অজুাহাতে তারা শতাধিক ফুট লম্বা এ প্রাচীরের নির্মাণ কাজ করছিল। শনিবার( ১ মে) বিজিবি বাধা দিয়ে কাজটি বন্ধ করে দেয়।

রবিবার (২ মে) দুপুরে থানাঘাট ও মন্দির ঘাট সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দুইটি এলাকায়ই ভাারতের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। এপারে বিজিবির প্রহরা রয়েছে।

এ ব্যাপারে বিজিবি লে.কর্ণেল মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাযহার বলেন, রামগড়-সাব্রুম সীমান্তে দুটি স্থানে প্রাচীর নির্মানের বিষয়টি বিজিবি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। কড়া পাহারা রাখা হয়েছে।