তিনমাসের জন্য বন্ধ হলো ফৌজদারহাট-বায়েজিদ লিংক রোড

213

কামরুল ইসলাম দুলু পাহাড় ধসের শঙ্কায় তিন মাসের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে চট্টগ্রামের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড। সড়কটিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয় বলে জানান লিংক রোড নির্মাণকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস। চট্টগ্রাম শহরকে যানজটের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড নির্মাণ করে সরকার।

প্রায় এক বছরের অধিক সময় আগে সড়কটি চালু হয়েছে। কিন্তু সড়কটির দুই পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে খাড়া দাঁড়িয়ে থাকা ১৬টি পাহাড়কে ঝুঁকিমুক্ত করতে সিদ্ধান্ত হয়নি এই দীর্ঘ সময়ে। এরমধ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ধস শুরু হয়েছে পাহাড়গুলোতে। রোববারের টানা বৃষ্টির পর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরামর্শে সড়কটি দুইদিকেই যান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।মঙ্গলবার সকাল থেকেই সড়কটি বন্ধ করে দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট টোল রোডের মুখ থেকে বায়েজিদ বোস্তামি পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সিডিএ।

প্রকল্পের আওতায় একটি রেলওয়ে ওভারব্রিজসহ ছয়টি ব্রিজ ও কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের ৬ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে সিডিএ ছোট-বড় ১৬টি পাহাড় কেটেছে। ২৬ ডিগ্রি করে এসব পাহাড় কাটার অনুমতি থাকলেও কাটা হয়েছে ৯০ ডিগ্রি কোণে। এতে পুরোপুরি কাটিং ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান লঙ্ঘন করা হয়। এজন্য সিডিএকে ১০ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৩ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট টোল রোডের মুখ থেকে বায়েজিদ বোস্তামি পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সিডিএ। প্রকল্পের আওতায় একটি রেলওয়ে ওভারব্রিজসহ ছয়টি ব্রিজ এবং কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের ৬ কি.মি. রাস্তা নির্মাণে কাটা হয় ১৬টি পাহাড়। একেবারে নতুন রাস্তাটি নির্মাণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আড়াই লাখ ঘনফুট পাহাড় কাটার অনুমোদন নেয়া হলেও সিডিএ ১০ লাখ ৩০ হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটে। এনিয়ে সিডিএকে নোটিশ করে গত বছরের ২৯ জানুয়ারি শুনানিতে তলব করে পরিবেশ অধিদপ্তর। শুনানিতে অনুমোদনের চেয়ে বেশি পাহাড় কেটে জীববৈচিত্র ধ্বংস, পাহাড়ের উপরিভাগের মাটি এবং ভূমির বাইন্ডিং ক্যাপাসিটি নষ্টসহ পরিবেশ-প্রতিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। প্রবল বর্ষনে সড়কটির পাশের খাড়া পাহাড়গুলো ধসের আশঙ্কা রয়েছে। সেজন্য মঙ্গলবার সকাল থেকে সড়কটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

নতুন এ সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচলের জন্য উদ্বোধন করা না হলে এসড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহণ চলাচল করছে। প্রকল্পের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। সড়কের পাশে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ বাকি।

২৪ঘণ্টা/এন এম রানা