অর্থ আত্মসাতের দায়ে ফটিকছড়ির নারী সাংসদ সনি’র স্বামী শশুরকে গ্রেফতারের নির্দেশ

604

নিজস্ব প্রতিবেদক:ফটিকছড়ির সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ খাদিজাতুল আনোয়ার সনি’ র স্বামী পারভেজ আলম হিরু এবং শশুর এম এস আলমকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার (১০জুন) অর্থঋণ আদালতের ম্যাজিস্টেট মুজাজিদুর রহমান এক আদেশে এই দুই পিতা পুত্রকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।

ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের সাড়ে ১৫ কোটি টাকা লোপাটের অপরাধে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ খাদিজাতুল আনোয়ার সানির স্বামী মো. পারভেজ আলম ও শ্বশুর এমএস আলম ওরফে শাহ্ আলমের বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।ওয়ান ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে মেসার্স শাওন এন্টারপ্রাইজের নাম দেখিয়ে ঋণ নেয় পারভেজ ও শাহ আলম। কিন্তু সেই ঋণের বকেয়া সাড়ে পনেরো কোটি টাকা পরিশোধ করার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কয়েকবার নোটিশ দিলেও তা আমলে নেয়নি আসামিরা। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আদালতের মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে আদালত।

সাংসদ সানির শ্বশুর শাহ আলম আট ব্যাংকের ৩০০ কোটি টাকা লোপাটের অপরাধে তার কাঁধে রয়েছে ৫৪ টি মামলা। তার মধ্যে ৬টি মামলায় তার সাজা হয়েছে ৬ বছরের।অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামের সদরঘাটে মেসার্স আলম এন্ড কোম্পানির স্বত্বাধিকারী এমএস আলম ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখযোগ্য না হলেও বছরের পর বছর কায়দা করে ঋণ ভাগিয়েছেন ব্যাংক থেকে। ঋণ পেতে খাটিয়েছেন রাজনৈতিক প্রভাব। সেই টাকায় জমির ব্যবসা করে নিজে ফুলেফেঁপে উঠলেও আটটি ব্যাংক এখন তার কাছ থেকে পাবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।

এমএস আলমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দেখাশোনা করছেন আরেক আসামী বড় ছেলে পারভেজ আলম হীরা। পারভেজের স্ত্রী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি সংরক্ষিত আসনে মনোনীত সংসদ সদস্য।চট্টগ্রাম ভিত্তিক মাশরিফা ফুড প্রোডাক্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে চেয়ারম্যান হিসেবে নাম আছে এমএস আলমের। ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে পারভেজ আলম এবং ডিরেক্টর হিসেবে রয়েছে তার কন্যা ফারজানা আলম এবং কনিষ্ঠ দুই পুত্র ফরহাদ আলম ও ফয়সাল আলমের নাম। এর মধ্যে ফারজানা আলম চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের ছেলের বউ।

জানা গেছে, ২০১১ সালের পর থেকে বিভিন্ন ব্যাংক ঋণের টাকা পেতে এমএস আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের শুরু করে। ৩০০ কোটি টাকা আদায়ের জন্য তার বিরুদ্ধে আটটি ব্যাংক সব মিলিয়ে ৫৪টি মামলা দায়ের করে। এর মধ্যে সাতটি শুধু অর্থঋণ আদালতে দায়ের করা মামলা। যার মধ্যে চারটি মামলার রায় হয়েছে ইতোমধ্যে। বাকি সবগুলোই এনআই অ্যাক্টের মামলা। এনআই অ্যাক্টের ৬ মামলায় তার ৬ বছরের সাজাও হয়েছে।

২৪ঘণ্টা /রানা