হাটহাজারীতে আজম হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন

  |  বুধবার, জুন ১৬, ২০২১ |  ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
24ghonta-google-news

হাটহাজারী প্রতিনিধি:

হাটহাজারীতে আলোচিত আজম হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। বড় ভাই সরোয়ার নিজ হাতে জবাই করে ছোট ভাই আজমকে হত্যা করে এইমর্মে দায় স্বীকার করে মঙ্গলবার (১৫ জুন) চট্টগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক শাহরিয়ার ইকবালের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে ঘাতক সরোয়ার। চলতি মাসের ২ জুন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বড় চৌধুরী বাড়ি এলাকায় নিজ দোকান থেকে আজম (২৬) নামে এক ব্যবসায়ীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।অবশেষে ঘটনার ১৩ দিনের মাথায় পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের রহস্য।

24ghonta-google-news

জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) রাজিব শর্মা জানান, প্রথম দিকেই পুলিশের সন্দেহ ছিল আজমকে তার বড় ভাই সরোয়ারই খুন করে। স্বীকারোক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে রাজিব শর্মা জানান, ঘটনার দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে আজমের জন্য দোকানে রাতের খাবার (ভাত) নিয়ে যায় সরোয়ার। ঠিক এসময় আজম প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে দোকান থেকে বের হলে তার জন্য নেয়া মাগুর মাছের ঝোলে সেরিটন ট্যাবলেট আর তেলাপোকা ও পিঁপড়া মারার কিটনাশক ছিটিয়ে দিয়ে বাড়িতে চলে যায় সরোয়ার। পরে রাত সাড়ে দশটার দিকে সরোয়ার আবারো দোকানে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়লে আজম কোনরকম ভাবে দোকান খুলে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সরোয়ার দোকানের ভেতর থেকে প্রধান দরজায় তালা লাগিয়ে দোকানের টুলের উপর বসে পড়ে। প্রায় দু ঘন্টা পর সরোয়ার দেখল আজম চেতন নাকি অচেতন।

অচেতন নিশ্চিত হওয়ার পর আজমের দোকানে থাকা মুরগি জবাই করার চাকু দিয়ে দু হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে আজমের গলা কেটে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিতের পনের মিনিট পর খুনি দোকান থেকে দোকানের তালা ও নাট নিয়ে বের হয়ে আসে। পরে বাহির থেকে দরজা সামান্য ফাঁক করে ভেতরে নাট এবং বাহিরে কোনমতে তালা অর্ধেক মেরে ঘরে চলে যায় এবং ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে দোকান খোলার সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও অনেক ডাকাডাকি করে দোকানের ভেতর থেকে আজমের সাড়া শব্দ না পেয়ে চায়ের দোকানে বসে থাকা মানুষ গুলো আজমের ঘরে খবর দেয়। খবর শুনে ঘাতক সরওয়ার, চাচাতো, ফুফাতো ভাইসহ এলাকাবাসী এসে দোকানের ছাদের টিন খুলে বড় ভাই সরওয়ার প্রবেশ করে লাশের পাশে থাকা চাকুটা স্পর্শ করে যাতে আঙ্গুলের চাপের কারণে পরবর্তীতে আটকে না যান। এমন সূক্ষ্ম পরিকল্পনার পরেও শেষ রক্ষা হল না ঘাতক সরওয়ারের। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয় আদালত।

২৪ঘণ্টা/রানা /পারভেজ

24ghonta-google-news
24ghonta-google-news