বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ)

  |  রবিবার, অক্টোবর ১০, ২০২১ |  ২:১৯ অপরাহ্ণ
24ghonta-google-news

তিনি মাইজভাণ্ডারী ত্বরিকার একজন প্রখ্যাত সুফি সাধক ছিলেন । তিনি বিশ্বঅলি, শাহানশাহ, জিয়া বাবা এবং শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাসা সিরাহুল আজিজ নামে বহুল পরিচিত।তিনি ১০ পৌষ ১৩৩৫ বঙ্গাব্ধ, ২৫ ডিসেম্বর ১৯২৮ খৃষ্টাব্ধ, ১২ রজব ১৩৪৭ হিজরী চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত ফটিকছড়ি থানার মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ নামক স্থানে জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মের সাত দিনের মাথায় তার নাম সৈয়দ বদিউর রহমান রাখা হলেও তাঁর পিতা সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (কঃ) স্বপ্নে যোগে হুজুরে গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ)’র আদেশ প্রাপ্ত হয়ে নাম বদলে রাখেন সৈয়দ জিয়াউল হক। তাঁর মাতা সৈয়দা সাজেদা খাতুন ছিলেন বাবা ভাণ্ডারী (কঃ)’র দ্বিতীয় কন্যাপ্রথমদিকে গৃহ শিক্ষক মৌলভী মোজাম্মেল হকের নিকট তিনি আরবি বর্ণমালা ও কলমা শিক্ষা লাভ করেন। এরপর মাইজভাণ্ডার আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসায় তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে নবম শ্রেণী পর্যন্ত তিনি পড়াশুনা করেন নানুপুর আবু সোবহান হাই স্কুলে। তৎপরবর্তীতে নবম ও দশম শ্রেনীর পাঠ শেষে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল হতে এ্যান্ট্রেন্স বা প্রবেশিকা পরিক্ষায় উর্ত্তীণ হলে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্জনের উদ্দেশ্যে ভর্তি হন চট্টগ্রাম কলেজে। কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোস ডিগ্রী কলেজে বি.এ. বা স্নাতক ডিগ্রী সমাপনী পরীক্ষার তৃতীয় দিনে হঠাৎ তার স্বাভাবিক ভাবের পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। তিনি আধ্যাত্মিক কিছু অলৌকিক অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত হতে থাকলে অবশেষে সাদা খাতা জমা দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিত্যাগ করে সরাসরি মাইজভাণ্ডার প্রত্যাগমন করেন। এ ছিল তাঁর জীবনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শেষ প্রহর।

◑ সুফি মতাদর্শ:একথা সর্বজন বিদিত যে, উপরিউক্ত ঘটনার পর তিনি বোয়ালখালী হতে মাইজভাণ্ডারে ফিরে এসে একাগ্রচিত্তে আধ্যত্ম সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তাঁর জীবন আধ্যাত্মিক রহস্যমন্ডিত সূফিত্বে বিকশিত হয়। প্রকাশনাদি হতে জানাযায়, সূফিতাত্ত্বিক সাধনাকালে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে তিনি দিনের পর দিন অনাহারে নির্ঘুম অবস্থায় কাটিয়ে দিতেন। কখনো তীব্র শীতে পুকুড়ের কনকনে ঠান্ডা জলে দিন-রাত একাধারে ডুবে থাকতেন। আবার কখনো সকল প্রকার জৈবনিক ক্রিয়া কলাপ মুক্ত থেকে ঘরের দরজা বন্ধ অবস্থায় আপাদমস্তক চাদর মুড়ি দিয়ে কাটিয়ে দিতেন দিনের পর দিন। সন্তানের এমতাবস্থায় তাঁর পিতা যখন খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তখন তাঁকে স্বপ্নযোগে হুজুর গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) আদেশ করেন, ‘কেন তুমি এত উদ্বিগ্ন? যাও আমার লম্বা সবুজ জুব্বাটি(আলখেল্লা) তাকে পরিয়ে দাও’। তিনি সহসা গিয়ে সন্তানকে জুব্বাটি পরিয়ে দেন। এ ঘটনার পর হতে ধীর-স্থির হয়ে যাওয়ার মত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (কঃ)’র প্রাত্যহিক আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তাঁর জীবনী লেখকগণ তাকে মজ্জুবে ছালেক দরবেশ ( ﺍﻟﺼّﻮﻓﻲ ﺍﻟﻤﺠﺬﻭﺏ ﺍﻟﺴﺎﻟﻚ ) বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি কখনো সমূদ্রের তীরবর্তী অঞ্চলে, গহীন জঙ্গলে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতেন। তাঁর বহুল আলোচিত রহস্যময় অলৌকিক ঘটনাবহুল জীবন চিরস্মরণীয়। তিনি ত্বরিকার ধারাবাহিকতায় তাঁর পীর স্বীয় পিতার স্থলাভিষিক্ত হন। তাঁর পীরগত শাজরা ছোট মৌলানা সৈয়দ আমিনুল হক ওয়াছেল মাইজভাণ্ডারী হয়ে হুজুর গাউসুল আযম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী(কঃ)’র সাথে মিলিত হয়ে হুজুর আযম শেখ সৈয়দ আব্দুল কাদের জিলানী ও হযরত আলী (রাঃ) মারফত বিশ্ব নবী হযরতমোহাম্মদ (সঃ) পর্যন্ত ব্যাপৃত।

24ghonta-google-news

উপনাম:প্রকাশিত তথ্য মতে, বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ আশেক ভক্তগণের নিকট তিনি বেশ কিছু উপনামে বহুল পরিচিতি লাভ করেন। তন্মধ্যে দুইটি বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য। ‘বিশ্ব অলি’ তার মূল প্রসিদ্ধ উপাধি হলেও তিনি সাধনা কাল হতেই ‘শাহানশাহ বাবাজান’ বা জিয়া বাবা নামে সমাজে পরিচিত। বংশধারা:তিনি জনৈক বদিউজ্জামান চৌধুরীর (বদন সিকদার) ছোট কন্যা সৈয়দা মনোয়ারা বেগমের সাথে ১৯৫৫ সালের ২৮ জানুয়ারি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর সূফিতাত্ত্বিক পীর এবং পিতা, লেখক ও সূফি সাধক অসিয়ে গাউসুল আযম সৈয়দ দেলাওয়ার হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (কঃ) ১৯৮২ সালের ১৮ জানুয়ারি ওফাত বরণ করেন। সাজরা মোতাবেক তিনি বিশ্বনবী মোহাম্মদ (সঃ)’র বংশধর। এ ধারা হুজুর আযম শেখ সৈয়দ আব্দুল কাদের জিলানী এবং ফাতেমা জাহারা হয়ে বিশ্ব নবী মোহাম্মদ (সঃ)’র সাথে যুক্ত হয়।

উত্তরাধিকার:তিনি ছিলেন পাঁচ কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। তাঁর একমাত্র পুত্র আলহাজ্ব হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (মঃ) ইংরেজী বিষয়ে সম্মান ডিগ্রী লাভের পর তাঁর সুফিধারা উত্তরাধিকার বা সাজ্জাদানশীন হিসাবে স্থলাভিসিক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক ট্রাস্ট নামের প্রতিষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাস্টটি আর্তমানবতাসহ কতিপয় স্কুল, এতিমখানা এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে।ওফাত শরিফ:তিনি ২৬ আশ্বিন ১৩৯৫ বঙ্গাব্ধ, ১৩ অক্টোবর ১৯৮৮ খৃষ্টাব্দ, হিজরী সনের পহেলা রবিউল আউয়াল রাত ১২টা ২৭ মিনিটে ওফাত বরণ করেন। রওজা-এ-পাক:তাঁর সমাধির উপর স্থপতি আলমগীর কবিরের নকশায় শাপলা ফুলের আঙ্গীকে নতুন একটি রওজা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা স্থাপত্য শৈলীর আঙ্গীকে একটি আধুনিক স্থাপনা হিসাবে নানা প্রকাশনায় প্রসংসিত হতে দেখা যায়। প্রতি বছর ১১ অক্টোবর ২৬ আশ্বিন, বিশ্বঅলি শাহানশাহ হক ভান্ডারী কঃ উরশ শরিফ কে কেন্দ্র করে শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী কঃ ট্রাস্টের নিয়ন্ত্রিত মাইজভান্ডারী গাউছিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ দেশ ও বিদেশে মানব সেবা মুলক কর্মসুচি পালন করে তাকে।

লেখক:মুহাম্মদ মোরশেদ রিমন প্রতিস্টাতা পরিচালক আলোকধারা পাঠাগার

দক্ষিণ ধর্ম পুর ফটিকছড়ি

24ghonta-google-news
24ghonta-google-news