লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসাছাত্রী হত্যায় ৪ আসামির যাবজ্জীবন

 ২৪ ঘন্টা নিউজ ডেস্ক |  বুধবার, মে ১৮, ২০২২ |  ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
24ghonta-google-news

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদ্রাসাছাত্রী রোজিনা আক্তারকে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলায় চার আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ সময় প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৮ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন আনোয়ার হোসেন কইলা (২০), আঁখি আক্তার রুমা (১৯), হুমায়ুন কবির (২৮), মো. বাহার ওরফে জামাই বাহার (২৫)। এদের সবার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে। রায়ের সময় আনোয়ার হোসেন কইলা ও আঁখি আক্তার রুমা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ মামলার অপর আসামি বাহার প্রথম থেকেই পলাতক। আর হুমায়ুন কবির উচ্চ আদালত থেকে জামিনে নিয়ে পলাতক রয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন এ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রোজিনা আক্তার রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর গ্রামের বয়াতী বাড়ির মনোয়ারা বেগম ও মৃত সফিক মিয়ার পালিত কন্যা ছিল। তিনি একই এলাকার মীরগঞ্জ রোডের হজরত খাদিজাতুল কোবরা মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্রী ছিল। আনোয়ার হোসেন কাইলা ও অন্য আসামিরা একই এলাকার।

আনোয়ার হোসেন কাইলা আঁখি আক্তার ও বাহারের মাধ্যমে রোজিনাকে মাদরাসায় আসা-যাওয়ার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিত।

২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর বিকেলে মাদরাসা থেকে পরীক্ষা শেষে বাসায় ফিরছিল রোজিনা। এ সময় সাবেক পৌরসভা ভবন কার্যালয়ের সামনের সড়কে পৌঁছলে ওত পেতে থাকা আঁখি আক্তার তাকে ফুসলিয়ে পার্শ্ববর্তী বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে আনোয়ার হোসেন কাইলা, বাহার ও হুমায়ুন উপস্থিত ছিলেন। তারা রোজিনাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ওড়না দিয়ে গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান।

১২ ডিসেম্বর স্থানীয়রা রোজিনার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ওই দিনই নিহতের পালিত মাতা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০১৭ সালের ২৮ জুন পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে ১২ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজ এ রায় দেন।

রায়ে সরকারপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসামিপক্ষ অসন্তুষ্ট। তাদের আইনজীবী রফিক উল্যা ও আবদুল আহাদ উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান।

এন-কে

24ghonta-google-news
24ghonta-google-news