স্বর্ণ ক্রয়ে ব্যবসায়ী আসামী, আতঙ্কে প্রবাসীর পরিবার

ডাকাতের ডায়েরীতে প্রবাসীর তথ্য

 মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিনিধি  |  বুধবার, নভেম্বর ২৩, ২০২২ |  ৭:২৯ অপরাহ্ণ
24ghonta-google-news

প্রবাসীরা এয়ারপোর্টে নামার পর থেকে শুরু হয়ে যায় অপরাধীদের নজরদারী। ডাকাতের হাত থেকে রক্ষায় নানা গোপনীয়তা রক্ষার পরও শেষ রক্ষা হচ্ছে না প্রবাসীদের। ডাকাতদল ডায়রীতে লিখে রাখে প্রবাসীদের তথ্য। প্রবাসীরা কখন আসবে আবার কখন প্রস্থান করবে। যা প্রবাসীর পরিবারও জানেনা। তবে পাড়া বা মহল্লার চায়ের দোকান আর সেলুন দোকানই এ ধরনের তথ্যের উৎস যা র‌্যাবের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

প্রবাসীরা বাড়িতে আসার পর থেকে আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারগুলোকে। পুলিশের কাছেও অগ্রীম নিরাপত্তা পাওয়া যায় না। কারণ অঘটনের আগে কাজ করে না পুলিশ।

24ghonta-google-news

উল্টো নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে হাস্যরসে উড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাইতে গিয়ে অতীতে হিতে বিপরীত হয়েছে এমন নজিরও রয়েছে উপজেলা পযার্য়ে।

এমনও ঘটেছে পরিবারের গৃহকমীর্র কারণে ডাকাতের রেকিতে চলে আসে ঘরের ভেতরে থাকা ধন সম্পত্তির তথ্য। ফলে প্রবাস থেকে ফিরেও শান্তি নেই। আয়-রোজগারের টাকা নিয়ে মহা টেনশানে থাকতে হয়। স্বর্ণালংকার থাকলে আরো বিপদ।

চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরায় ডাকাতদল তাদের রেকি অনুযায়ী আলমারীর ভেতর থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও সত্তর ভরি স্বর্ণ লুটে নিয়েছিল।

এছাড়াও প্রবাসীর বাবাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। এতে প্রতিনিয়ত প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছে। গত মাসের ২৭ তারিখে রাউজানের হাজী মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বাড়ীর আলী চৌধুরীর ছেলে সরোয়ার চৌধুরী দুবাই থেকে দেশে ফিরেছে।

গত ২৯ অক্টোবর গভীর রাতে ভুক্তভোগী তার মামতো বোনের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে সে ও তার পরিবারের লোকজন নিজ বাড়ি হতে আধকিলোমিটার দূরে মামার বাড়িতে যান।

সে সময় ঘরে তার বৃদ্ধ বাবা ছাড়া আর কোনো মানুষ ছিলোনা। এই সুযোগে গভীর রাতে একদল ডাকাত পাকা ঘরের পিছনে জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। এসময় সরোয়ারের বৃদ্ধ বাবা ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন।

ডাকাত দল তখন কম্বল দিয়ে সরোয়ারের বাবার মুখ চেপে ধরে হাত পা বেধে গলায় চাকু ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে। ডাকাত সদস্য মুছা আলমারির চাবি নিয়ে নেয়।

এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা আলমারীতে রক্ষিত অবস্থায় থাকা ভিকটিমের মা, স্ত্রী ও বোনের স্বর্ণালংকার এবং অপরাপর আত্মীয় স্বজনের মোট ৭০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে।

এ ঘটনায় গত ৯ নভেম্বর ভুক্তভোগী ভিকটিম মোহাম্মদ সরোয়ার চৌধুরী বাদী হয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানায় একটি ডাকাতি মামলা (নং—৭৭/০৯ নভেম্বর ২০২২) দায়ের করেন।

এ ঘটনায় স্বর্ণের দোকানদার বিপ্লব চন্দ্র সাহাসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে সর্বমোট ৪৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও মোট ৩৫ লাখ ১ হাজার ৬০০ টাকা টাকা উদ্ধার করা হয়।

২৪ ঘণ্টা / জেআর

24ghonta-google-news
24ghonta-google-news