খুঁজুন
সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদে জঙ্গি হামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই : র‍্যাব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৩, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
ঈদে জঙ্গি হামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই : র‍্যাব

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে কোনো জঙ্গি হামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) এম খুরশীদ হোসেন।

আজ শুক্রবার (২১ এপ্রিল) বেলা পৌনে ১১টায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে ব্রিফ্রিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

র‌্যাবের ডিজি এম খুরশীদ হোসেন বলেন, গোয়েন্দা ও সাইবার মনিটরিংয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে জঙ্গি হামলার ব্যাপারে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্য পায়নি র‌্যাব। তবে যে কোনো নাশকতা ও হামলা মোকাবিলায় র‌্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স ও কমান্ডো টিমকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সাদা পোশাকে টহল জোরদার থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষে এই মুহূর্তে মার্কেট, বিপণিবিতানগুলোতে প্রচুর বেচা-কেনা, আর্থিক লেনদেন ও জনসমাগম হচ্ছে। বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও ভেজাল খাদ্য বিক্রির বিষয়টিও আমরা মাথায় রেখেছি। ঘরমুখো মানুষ যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য আমরা ব্যাটালিয়নগুলোতে সাপোর্ট সেন্টার চালু করেছি। সেখান থেকে ঘরমুখো মানুষরা অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করাসহ পানি ও ইফতারের ব্যবস্থা রেখেছি।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, ঈদুল ফিতরের নামাজের নিরাপত্তার জন্য আমরা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। ঈদে ঢাকার দোকানপাট ও ঘরবাড়ি খালি থাকে। এই সময়টায় আমরা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। প্রত্যেক বছরের মতো এবারও সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রত্যেক ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক র‌্যাব সদস্য মোতায়েন রেখেছে। দেশব্যাপী ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কন্ট্রোল রুম, স্ট্রাইকিং ফোর্স, ফুট মোবাইল প্যাট্রল, সিসি টিভি মনিটরিং, ভেহিক্যাল স্ক্যানার, রিজার্ভ ফোর্স, অবজারভেশন পোস্ট ও চেকপোস্ট থাকবে। এ ছাড়া বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াডসহ সব উইংকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সড়ক, রেল এবং নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও হয়রানি, অজ্ঞান/মলম পার্টি, চাঁদাবাজি এবং ছিনতাই রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও র‍্যাব সাপোর্ট সেন্টারে জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানে মেডিকেল টিম, ইফতার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।

ঈদগাহের নিরাপত্তার বিষয়ে র‍্যাব ডিজি বলেন, ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঈদগাহে ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মাধ্যমে সুইপিং করা হবে। সিসিটিভি কাভারেজ থাকবে। এ ছাড়াও পর্যাপ্ত ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে টহল পরিচালনা করা হবে।

শপিংমলের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ শপিংমল, বিপণিবিতান, জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যাতে করে সাধারণ জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে এবং নিরাপদে কেনাকাটা শেষ করে বাড়ি ফিরতে পারে।

Feb2

কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি

বিশ্বকাপ অভিষেকে মাত্র ২১ মিনিটেই গোল করে ইতিহাস গড়েছিল কুরাসাও। ঐতিহাসিক সেই গোলের পর ধারাভাষ্যকার ইয়ান ডার্ক বলেন, ‘হিউস্টনে ইতিহাস। মাত্র এক লাখের একটু বেশি মানুষের একটি দেশ কোটি কোটি মানুষকে বিস্মিত করে দিয়েছে।’ তখনও ইয়ান জানতেন না ব্রাজিলের বিপক্ষে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ৭-১ গোলের স্মৃতি ফেরাতে যাচ্ছে জার্মানি। কুরাসাওকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করে গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছে জার্মানরা।

কুরাসাওয়ের জালে বল পাঠাতে জার্মানির সময় লেগেছিল মাত্র ৬ মিনিট। মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচার গোলে শুরুতেই এগিয়ে যায় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তখন মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে কুরাসাওকে কঠিন এক পরীক্ষার মুখেই পড়তে হবে। কিন্তু হিউস্টনের স্টেডিয়ামে এরপর দেখা গেল ভিন্ন এক গল্প।

মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই চমকে দেয় জার্মানিকে। ২১ মিনিটে সমতায় ফেরে তারা। ডান প্রান্ত থেকে আক্রমণে উঠে আসা রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়া বক্সের ভেতর বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে পরাস্ত করেন ম্যানুয়েল নয়্যারকে। বল জড়িয়ে যায় জালে, আর গর্জে ওঠে গ্যালারিতে থাকা কুরাসাও সমর্থকেরা।

গোলের পর কোমেনেনসিয়ার উদযাপনও ছিল নজরকাড়া। রেসলিং তারকা জন সিনার বিখ্যাত ‘ইউ ক্যান্ট সি মি’ ভঙ্গিতে উদ্‌যাপন করেন তিনি। গোলের পর ধারাভাষ্যকার ইয়ান ডার্ক আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, ‘হিউস্টনে ইতিহাস। মাত্র এক লাখের একটু বেশি মানুষের একটি দেশ কোটি কোটি মানুষকে বিস্মিত করে দিয়েছে।’

বিশ্বকাপ ইতিহাসের জনসংখ্যার বিচারে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে খেলতে নামা কুরাসাও অবশ্য বেশিক্ষণ সমতা ধরে রাখতে পারেনি। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেডে গোল করেন নিকো শ্লটারবেক। তার গোলে আবারও এগিয়ে যায় জার্মানি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ান কাই হাভার্টজ। ফেলিক্স এনমেচাকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পটকিক থেকে লক্ষ্যভেদ করেন হাভার্টজ।

বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জার্মানি। ৫২ মিনিটে ইয়োশুয়া কিমিখের পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। তাতে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪–১। এরপর কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ যেন ভেঙে পড়ে। ৬৮ মিনিটে পঞ্চম গোলটি করেন লেফটব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন। ১০ মিনিট পর গোলদাতাদের তালিকায় নাম লেখান ডেনিজ উনদাভ। জার্মানদের গোল উৎসব শেষ হয় ম্যাচের শেষ দিকে। কাই হাভার্টজ নিজের দ্বিতীয় ও দলের সপ্তম গোলটি করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৭–১।

একসময় সমতায় ফেরা কুরাসাও শেষ পর্যন্ত আর জার্মানদের আক্রমণের ঢেউ সামলাতে পারেনি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই বড় জয় তুলে নিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

শিক্ষার্থী সাজ্জাদুলের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থী সাজ্জাদুলের উদ্ভাবনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী

মৌলভীবাজারের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবক সাজ্জাদুল ইসলামের উদ্ভাবনের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী সাজ্জাদুলের উদ্ভাবন সম্পর্কে অবগত হন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানিয়েছেন।

এসময় সাজ্জাদুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তিনি পচা ও পরিত্যক্ত সবজি থেকে পচনশীল পলিথিন এবং কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে ঢেউটিন, টাইলস ও বোর্ড তৈরি করেছেন।

দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব এসব উদ্ভাবনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি সাজ্জাদুল ইসলামের উদ্ভাবনী কাজে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে তরুণ এই উদ্ভাবককে উৎসাহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাবেক আইজিপি বেনজীরকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
সাবেক আইজিপি বেনজীরকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের পুলিশ। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন।

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে সংসদ অধিবেশনের শুরুতে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

বেনজীরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন। তাকে পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি মহান জাতীয় সংসদকে অবহিত করছি যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা কর্তৃক ইন্টারপোলে আবেদন করা হয়। গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে এটি পাঠানো হয়েছিল এবং আমরা বিষয়টি মনিটর করেছি। ইন্টারপোল ২০২৫/২৩৯ নম্বর ফাইল ও ৫৭৪/২০২৫ কন্ট্রোল নম্বরের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের প্রতি রেড নোটিশ জারি করে। উক্ত রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল কর্তৃক সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অনুরোধ করা হয়।

তিনি বলেন, আমি এ মহান সংসদের মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে জানাচ্ছি যে, গত ১২ জুন ২০২৬ তারিখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ, ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে প্রেরিত একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক আছেন।

মন্ত্রী আরও জানান, আমি এই মহান সংসদকে আরও অবহিত করছি যে, এনসিবি আবুধাবি জানিয়েছে, ইউএই ফেডারেল ল’ নাম্বার ৩৯ অব ২০০৬ অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট (প্রত্যর্পণ প্রস্তাব) প্রেরণ করতে হবে। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ এবং ১০৯ সেকশন; ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ সেকশনের ৫(২), ২৬(২) এবং ২৭(১) ধারা; এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারার সেকশন ১১ অনুযায়ী মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই বিষয়ে এনসিবি ঢাকা ইন্টারপোলের চ্যানেলের মাধ্যমে রেড নোটিশ প্রকাশ, আন্তর্জাতিক সমন্বয়, বিদেশি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ এবং গ্রেপ্তার পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত সংক্রান্ত দলিলাদি প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক এক্সট্রাডিশন প্রপোজাল প্রস্তুত ও অনুমোদন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট প্রেরণ করে এনসিবি আবুধাবির সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক অতি দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।

এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ। এর মাধ্যমে আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে, বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সরকার আমলের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ‘রেড নোটিশ’ জারি করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।

২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট নবায়ন ও জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।

বেনজীর ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন— পাসপোর্টের সাবেক পরিচালক ফজলুল হক, মুন্সী মুয়ীদ ইকরাম, টেকনিক্যাল ম্যানেজার সাহেনা হক ও বিভাগীয় পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ ২০২১০ সালের ১১ অক্টোবর ডিআইজি হিসাবে কর্মরত থাকাবস্থায় হাতে লেখা পাসপোর্ট সমর্পণ করে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ব্যতীত অফিসিয়াল মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এর জন্য আবেদন করেন। আবেদন ফরমে ‘অফিসিয়াল’ হিসেবে মার্ক করা হয়। তার আবেদনপত্রের প্রফেশন এর ক্রমিকে সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও জাল-জালিয়াতি, প্রতারণা, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্রাইভেট সার্ভিস উল্লেখ করা হয়। পরে র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায়ও পাসপোর্টের আবেদনপত্রে জালিয়াতি-প্রতারণা, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ উল্লেখ করেন। অন্যান্য সময়েও বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ব্যতীত মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি)/ই-পাসপোর্ট (ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট) এর জন্য আবেদন করেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের আসামিরা বেনজীর আহমেদ-এর দাপ্তরিক পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জ্ঞাত থেকেও অন্যান্য আসামিরা বিভাগীয় অনাপত্তি সনদ সংগ্রহ না করে কিংবা যাচাই না করে স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে তার নামে সাধারণ পাসপোর্ট কিংবা ই-পাসপোর্ট ইস্যুর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দি বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩ এর ১১ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতি মামলাসহ মোট ৬টি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। যা বিচারাধীন।

বেনজীরের পাসপোর্ট সংক্রান্ত ইতিহাস

১৯৮৮ সালে চাকরিজীবন শুরু করেন বেনজীর। তিনি তার পুরোনো হাতে লেখা পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেন ২০১০ সালের ১১ অক্টোবর। সে সময় নীল রঙের অফিশিয়াল পাসপোর্ট না নিয়ে নেন সবুজ রঙের সাধারণ পাসপোর্ট। আসল পরিচয় আড়াল করে নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী বলে পরিচয় দেন। আবেদন ফরমে পেশা হিসেবে লেখেন ‘প্রাইভেট সার্ভিস’।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ওই বছরের ১৪ অক্টোবর বেনজীরকে নবায়ন করা এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) দেওয়া হয়। যার মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছিল ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর। যদিও মেয়াদপূর্তির আগেই ২০১৪ সালে ফের বেনজীর পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেন। কিন্তু এবারও যথারীতি নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী বলে পরিচয় দেন। ২০১৪ সালে বেনজীর ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছিলেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও তিনি অফিশিয়াল পাসপোর্ট নেননি।

দ্বিতীয় দফায় নবায়ন করা পাসপোর্টের মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পরে ২০১৬ সালে তিনি ফের পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন জমা দেন। সে সময় তিনি ছিলেন র‌্যাব মহাপরিচালক। সেবারও যথারীতি তিনি বেসরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেন তার আবেদনে। সে দফায় পাসপোর্টে বেনজীরের তথ্য গোপন ও জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে যায়।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরে সূত্র জানায়, র‌্যাব মহাপরিচালকের বেসরকারি পাসপোর্ট দেখে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। কর্মকর্তারা পরে বিষয়টি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালকের নজরে আনলে বেনজীরের আবেদনপত্র আটকে যায়। তখন বেনজীরকে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দাখিল করতে বলা হয়। কিন্তু এনওসি জমা না দিয়ে পাসপোর্ট নবায়নের চাপ দেন তিনি।

পরে সন্দেহজনক বিবেচনায় বেনজীরের বেসরকারি সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণের পক্ষে যথাযথ ব্যাখ্যা চেয়ে র‍্যাব সদরদপ্তরে চিঠি দেয় পাসপোর্ট অধিদপ্তর। কিন্তু এতে কাজ হয়নি। চাপের মুখে একদিনের ব্যবধানে তাকে পাসপোর্ট দেয় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট বিভাগ (ডিআইপি)।

২০২০ সালে ৩০তম আইজিপি হিসেবে পুলিশ বাহিনীর প্রধান পদে দায়িত্ব নেন বেনজীর। নিয়মানুযায়ী সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা হিসেবে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার কথা। কিন্তু বেনজীর মর্যাদাপূর্ণ লাল পাসপোর্টও নেননি। আইজিপি হয়েও তিনি ফের বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেন। সে সময় দেশে চালু হয় ই-পাসপোর্ট। বেনজীরের আবেদন নিয়েও দেখা দেয় জটিলতা। তা সমাধান করতে তিনি আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিসে যাননি। অসুস্থতার কথা বলে পাসপোর্টের ডিআইপির মোবাইল ইউনিট চেয়ে পাঠান। পরে পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তার বাসায় গিয়ে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়াসহ সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। ২০২০ সালের ৪ মার্চ তার আবেদনপত্র জমা হয়ে যায়। ওই বছরের ১ জুন বেনজীরের নামে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়।