ফৌজদারহাট : চারদিকে দেয়াল, ভেতরে স্পেকট্রা গ্রুপ কর্মকর্তাদের পাহাড় কাটার উৎসব
২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। কামরুল দুলু,সীতাকুণ্ড : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে পাহাড় কাটার উৎসবে মেতেছে কর্পোরেট শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে নাম সর্বস্ব সংগঠনগুলো। পাহাড় কেটে ভুমি দখল উৎসব প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছে স্থানীয় বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধিও। বাদ যায়নি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাও।
গত কয়েক বছরে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার একর পাহাড় দখলের পর তা কেটে পরিণত করা হয়েছে সমতল ভূমিতে। সেখানে তৈরি হচ্ছে শিল্প-কারখানা। এমনকি প্লট তৈরি করে বিক্রির ঘটনাও ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে নাকের ডগার ওপর পাহাড় ধ্বংসযজ্ঞ চললেও প্রশাসন রয়েছে দর্শকের ভূমিকায়।
বায়েজিদ বোস্তামি সড়ক থেকে ফৌজদারহাটের ঢাকা ট্রাংক রোড পর্যন্ত ৬ কিলোমিটারের বাইপাস সড়ক নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। চলছে সড়কের শেষ মূহুর্তের কাজ। তার সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব।
সিডিএ এর কাছ থেকে কাজ পেয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্টান স্পেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ফৌজদারহাট সড়ক দিয়ে অর্ধকিলোমিটার প্রবেশ করলে হাতের বাম পাশে দেওয়াল নির্মান করে পাহাড় কাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
স্পেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ এর নাম বিক্রিয় করে স্পেকট্রা গ্রুপের প্রজেক্ট ডিরেক্টর মো. মমতাজ উদ্দিন এবং প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. রবিউল হোসেন তাদের দু’জনের নামে ক্রয়কৃত ৩৫৯ নং দাগের জায়গাটি চারিদিকে দেওয়াল নির্মাণ করে ভিতরে দুটি পাহাড় সম্পূর্ণ কেটে ফেলেছেন।
এই বিষয়ে এক্সপেক্টা গ্রুপের প্রজেক্ট ডিরেক্টর মোঃ মমতাজ উদ্দিন এর সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন বলে জানান। এই বিষয়ে প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. রবিউল হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ চেষ্টা করলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এই বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর এর চট্টগ্রাম অঞ্চল এর সহকারী পরিচালক মুক্তদির হাসানের সাথে কথা বললে তিনি জানান বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। তিনি আরো জানান সত্যতা নিশ্চিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বি : দ্র : স্পেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের নাম দিয়ে অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পাহাড় নিধনের আরো তথ্যসহ নিউজ থাকছে পরের পর্বে। চোখ রাখুন
স্থানীয়রা মনে করছেন এভাবে নির্বিচারে পাহাড় কাটা হলে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্যের ওপর হুমকি তেমনি পরিবেশের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। এসকল ভূমিদস্যুদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
গত কয়েক বছরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার একর পাহাড় দখলের পর তা কেটে পরিণত করা হয়েছে সমতল ভূমিতে। সীতাকুন্ডে পাহাড় কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা। এমনকি প্লট তৈরি করে বিক্রির ঘটনাও ঘটছে।
উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব। এই এলাকায় এরই মধ্যে শত শত একর পাহাড় কেটেছে কথিত ছিন্নমূল নামে একটি সংগঠন। তারা এরই মধ্যে পাহাড় কেটে ছিন্নমূলদের জন্য তৈরি করা করেছে হাজার হাজার বসতবাড়ি। এখনো পাহাড় কেটে প্লট তৈরি করে নদী ভাঙা মানুষদের কাছে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন