খুঁজুন
, ,

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মিাণে স্মার্ট ভূমিসেবার বিকল্প নেই: ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 23 May, 2023, 12:59 am
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মিাণে স্মার্ট ভূমিসেবার বিকল্প নেই: ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার

চট্টগ্রাম বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী বলেছেন, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছে। ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজ করে জনগণের দৌড় গোড়ায় সেবা প্রদান করা হচ্ছে। অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, ই-নামজারী, ই-পর্চা, অনলাইন জলমহাল ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল রেকর্ডরুম থেকে মৌজাম্যাপ ও পর্চা ডাকযোগে সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবা ইতিমধ্যেই জনগণকে প্রদান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে স্মার্ট সিটিজেন তৈরীসহ আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্মার্ট ভূমিসেবার বিকল্প নেই।

সোমবার (২২ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর চট্টেশ্বরী রোডস্থ সদর ভূমি অফিস কার্যালয়ে আয়োজিত ভূমিসেবা সপ্তাহের (২৫-২৮ মে) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন-পায়রা উড়িয়ে ও ফিতা কেটে ভূমিসেবা সপ্তাহের উদ্বোধন করেন।

ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সেবাপ্রার্থীরা ভূমি অফিসে গেলে বিভিন্ন কারণে ভোগান্তিতে পড়ে। দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরদতা রোধে সরকার অনলাইনে ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা নিশ্চিত করছে। ফলে সেবা প্রার্থীরা মোবাইল থেকে বিক্যাশ বা নগদের মাধ্যমে সরকারী ফি জমা সাপেক্ষে খুব অল্প সময়ে ও হয়রানি ছাড়াই ঘরে বসে সেবা পাচ্ছে। সকল ডকুমেন্ট ঠিক থাকা সাপেক্ষে মাত্র ২৮ দিনের মধ্যে ই-নামজারী খতিয়ান ডেলিভারী দেয়া হয়। ভূমিসেবা হবে স্মার্ট। এজন্য স্মার্ট সিটিজেন প্রয়োজন। অফিসে কম আসা-যাওয়া হলে দালালের তৎপরতা কমে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, চট্টগ্রামকে দেশের প্রথম স্মার্ট জেলা করতে গেলে সরকারী সেবা আরও স্মার্ট করতে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এ জেলায় ভূমি উন্নয়ন কর আদায় শতভাগ অনলাইনে চলে গেছে। সরকারের প্রয়োজনে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের চেক প্রকৃত মালিকের হাতে পৌঁছে দেয়ার কারণে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালেরা আর সুবিধা করতে পারছে না। ভূমি ও অন্যান্য সেবায় দালাল রোধে সরকারী কার্যক্রমগুলো এখন থেকে পেপারলেস, ক্যাশলেস ও প্রিন্টলেস পর্যায়ে যেতে চাই। এজন্য সকলের সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

এর আগে ভূমিসেবা উপলক্ষে বিকেল ৩টায় সার্কিট হাউজে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) গালিব চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ভূমিসেবা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মাসুদ কামাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) মোঃ আবু রায়হান দোলন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার একেএম সরোয়ার কামাল। বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) নু এমং মারমা মং, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোজাম্মেল হক, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা তানভীর ফরহাদ শামীম, চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাসুদ রানা, কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ উমর ফারুক, পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মিজানুর রহমান ও বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জামিউল হিকমা।

সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডা. ফরিদুল আলম ও এডভোকেট ফয়জিয়া খানম। অনুষ্ঠান শেষে কয়েকজন সেবা গ্রহীতার হাতে নামজারনী খতিয়ান তুলে দেন ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।

এদিকে ভূমি সেবাসপ্তাহ উপলক্ষে বিকেলে সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী জানান, ২২ মে থেকে ২৮ মে পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে ভূমি সেবা সপ্তাহ উদযাপন করা হবে। এর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম জেলাসহ এ বিভাগের ১১টি জেলা, ১০৩টি উপজেলা, সার্কেল এবং সকল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমি সেবা সপ্তাহ-২০২৩ উদযাপন করা হবে।

ভূমিসেবা সপ্তাহ-২০২৩ এর এবারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে “স্মার্ট ভূমিসেবায় ভূমি মন্ত্রণালয়”।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও জেলা প্রশাসন কর্তৃক যৌথভাবে আগামী ২৭ মে শনিবার চট্টগ্রাম এম.এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম হলে “ভূমি সেবা সপ্তাহ-২০২৩” সংক্রান্তে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্বামান চৌধুরী এমপি।

তিনি আরও বলেন, এবার ভূমি সেবা সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষ্যে সেবাগ্রহীতাদের যে সকল সেবা প্রদান করা হবে সেগুলো হচ্ছে-চট্টগ্রাম এম.এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে ১০ টি স্টলের মাধ্যমে আগত সেবা প্রার্থীদের সেবা প্রদান করা হবে। ১০টি স্টলের মধ্যে ৬টি স্টলে মহানগরের ৬টি সার্কেল ভূমি অফিসের ভূমি বিষয়ক যাবতীয় সেবা প্রদান করা হবে। ১টি স্টলের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এলএ শাখা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সেবা প্রদান করা হবে। ১টি স্টলের মাধ্যমে রেকর্ডরুমের খতিয়ান সরবরাহ সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হবে এবং অপর ২টি স্টলের মাধ্যমে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্তের ভূমি বিষয়ক সেবা অর্থাৎ অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, ই-নামজারীর আবেদনসহ অন্যান্য সেবা প্রদান করা হবে। ভূমিসেবা সপ্তাহ উপলক্ষে স্টলগুলোতে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের জন্য রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং বর্তমান ভূমি উন্নয়ন কর সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে গ্রহণকরণ বিষয়ে তথ্য প্রদান, ই-নামজরির আবেদন গ্রহণ, নিষ্পত্তিকৃত এল.এ কেইসের ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ, অনলাইনে খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ ও তাৎক্ষণিকভাবে তা সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি অনলাইনের মৌজা ম্যাপ ডাকবিভাগের মাধ্যমে সরবরাহ করণের বিষয়ে তথ্য প্রদান, মাঠ পর্যায়ে চলমান জরিপ কার্যক্রম বিষয়ে গণশুনানি, আপত্তি/আপিল দাখিল ও নিষ্পত্তির কার্যক্রম গ্রহণ, মাঠ পর্চা, রেকর্ড হস্তান্তরসহ জনগণকে সকল সেবা প্রদান করা হবে। সেবা গ্রহীতাদের সেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন জিজ্ঞাসার জবাব সরাসরি উত্তর প্রদানের জন্য সেবা বুথে একজন কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন।

ভূমিসেবা সপ্তাহ-২০২৩ এ ভূমি সেবা পেতে জেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহায়তা ও সেবা নিতে পারবেন। দক্ষ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ভূমি সেবা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের অঙ্গীকার।

Feb2
Feb2

পানিবন্দী মানুষের দুর্দশা লাঘবে খাবার নিয়ে দুয়ারে ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 11:07 pm
পানিবন্দী মানুষের দুর্দশা লাঘবে খাবার নিয়ে দুয়ারে ডিসি জাহিদ

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সাতকানিয়া উপজেলায়। পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে কার্যালয়ে বসে নির্দেশনা দেওয়ার বদলে দুর্গত মানুষের দুয়ারে পৌঁছে গেলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সঙ্গে ছিল জরুরি শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী।

শুক্রবার তিনি সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল এক কেজি করে মুড়ি, চিড়া ও চিনি, দুটি বিস্কুটের প্যাকেট, দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি, চারটি মোমবাতি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক জানান, দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে শনিবার থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামছে। কোন উপজেলায় কতটি স্পিডবোট প্রয়োজন এবং কোন এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সেনাবাহিনীকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, টানা প্রায় পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া উপজেলা। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুধু এ উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দী এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন।

জেলা প্রশাসক বলেন, অনেক এলাকায় সাধারণ নৌকাও পৌঁছাতে পারছে না। তাই দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। উদ্ধার হওয়া মানুষের জন্য জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ২৩ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে বর্তমানে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা জরুরি ত্রাণ হিসেবে মজুত রয়েছে।

সাতকানিয়ার জন্য ইতিমধ্যে ৯ লাখ টাকা ও ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে ওই চাল দিয়ে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। জেলার অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাতেও একই কার্যক্রম চলছে। সাতকানিয়ার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের পর চট্টগ্রামের জন্য অতিরিক্ত বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

বন্যাকবলিত সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। সন্দ্বীপে সহায়তা করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনেও সবাইকে মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু খাল দখল নয়, খালে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণেও পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। খাল পরিষ্কার করতে গিয়ে ফ্রিজ, জাজিমসহ নানা ধরনের বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে। খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত আরও কমলে পাহাড়ি ঢলের পানিও নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শনিবার সাংগু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্লুইস গেট ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখতে কাজ চলছে।

বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

প্রাথমিক হিসাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ২০টি সড়কের ৫০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৫১৪টি সড়কের ২৪৭ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার অংশ এবং ১৭৬টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “সরকার ও জেলা প্রশাসন বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে। উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতির সম্পূর্ণ উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

তিনি বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:14 pm
চট্টগ্রাম বোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে শনিবারের (১১ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবহাওয়ার মারাত্মক অবনতি ও বন্যা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলায় (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) আগামীকাল শনিবারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের (বিষয় কোড-২৭৫) পরীক্ষাটি স্থগিত করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার পরিবর্তিত সময়সূচি পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় সব কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাইকিং করে এলাকায় বিষয়টি জানিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে থাকবে জামায়াত: শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:38 pm
দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে থাকবে জামায়াত: শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের শিক্ষা ও মানবিক দায়িত্ব। জনগণের দুঃসময়ে পাশে থাকা জামায়াতে ইসলামীর নৈতিক অঙ্গীকার এবং সুযোগ পেলে ভবিষ্যতেও আমরা অসহায় মানুষের কল্যাণে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করবে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেক বাজার এলাকায় অতিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনাদের জন্য সামান্য কিছু খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছি। প্রকৃতপক্ষে এগুলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তব সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের আরও বেশি মানুষের সেবা করার তাওফিক দান করেন। আপনারা সে জন্য দোয়া করবেন। জামায়াতে ইসলামী সবসময় জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মানবসেবা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

নগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও চান্দগাঁও থানা আমির মুহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমির আলাউদ্দিন সিকদার এবং মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুছ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এস. এম. লুৎফর রহমান, নগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান ইলাহী, নগর কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, পাঁচলাইশ থানা আমির রুমি, চকবাজার থানা আমির আহমেদ খালেদুল আনোয়ার, চান্দগাঁও থানা সেক্রেটারি ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী জসিম উদ্দিন সরকার, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী রইছুর রহমান চৌধুরী তিতু, ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল হোসাইন, ওমর গণি, আজাদ চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতারা।

এর আগে ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৌঁছালে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ, চট্টগ্রাম মহানগরীর নায়েবে আমির আমিরুজ্জামানসহ স্থানীয় নেতারা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।