খুঁজুন
, ,

নতুন ১০টি ভেন্টিলেটর-আইসিইউ বেড পেল চমেক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 23 June, 2023, 4:30 pm
নতুন ১০টি ভেন্টিলেটর-আইসিইউ বেড পেল চমেক

ভেন্টিলেটরসহ দশটি নতুন আইসিইউ বেড পেয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল। এর সাথে গাইনী ওয়ার্ডের জন্য দুটি লেবার টেবিলও রয়েছে। প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম গত মঙ্গলবার হাসপাতালে পৌঁছেছে। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে এসব সরঞ্জাম হাসপাতালের স্টোরে রাখা হয়েছে বলেও জানান হাসপাতাল পরিচালক।

প্রসঙ্গত, সচরাচর নতুন যে কোন চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দ পেলে তা ঢাকার সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর ডিপো (সিএমএসডি) থেকে হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ ঢাকার সিএমএসডি থেকেই চিকিৎসা সরঞ্জাম বুঝে নিয়ে হাসপাতালে আনতে হয়। তবে সিএমএসডি’র পরিবর্তে এবার এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম আনা হয়েছে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এক দফায় ৩০টিরও বেশি ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ বেড বরাদ্দ পায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এসব আইসিইউ বেড–ভেন্টিলেটর বরাদ্দ পেতে সিলেটের স্থানীয় এমপি–মন্ত্রী ভূমিকা রাখেন বলে জানা যায়। ওই হাসপাতালে আগে থেকেই কিছু সংখ্যক আইসিইউ বেডের সেবা চলমান ছিল। তবে এক দফায় বেশি সংখ্যক আইসিইউ বেড–ভেন্টিলেটর পেলেও এর সব কয়টি সংস্থান (স্থাপন) করতে পারেনি সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্থাপন করতে না পারায় ২০টি করে ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ বেড হাসপাতালে অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি এক সভায় বিষয়টি জানাজানি হলে ওই ২০টি আইসিইউ বেড–ভেন্টিলেটর বরাদ্দ পেতে জোর চেষ্টা চালায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে খবর পেয়ে এর অন্তত অর্ধেক সংখ্যক (দশটি করে) আইসিইউ বেড–ভেন্টিলেটর চট্টগ্রামের জন্য দাবি করেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান। সিএমএসডির কাছে এ দাবি জানান তিনি। এই দাবির প্রেক্ষিতে শেষ মুহূর্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দশটি করে এবং চমেক হাসপাতালকে দশটি করে আইসিইউ বেড–ভেন্টিলেটর বরাদ্দ দেয় সিএমএসডি। পরে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকেই বরাদ্দ পাওয়া এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম সরাসরি চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।

চমেক হাসপাতালের স্টোর শাখার তথ্য অনুযায়ী– বরাদ্দ পাওয়া ভেন্টিলেটর গুলো জার্মানিতে তৈরি। দশটি ভেন্টিলেটরের দাম এক কোটি ৪০ লাখ টাকা (প্রায়)। আর আইসিইউ বেডগুলো চীনের তৈরি। দশটি আইসিইউ বেডের দাম প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এছাড়া গাইনী ওয়ার্ডে অপারেশন থিয়েটারের জন্য পাওয়া গেছে দুটি লেবার টেবিল। সবমিলিয়ে প্রাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জামের দাম প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা।

স্থাপন হতে যাওয়া নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ডে আইসিইউ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। হাসপাতালের মূল (পুরনো) ভবনের নিচ তলায় এই আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপনের কাজ চলছে। ভেন্টিলেটর ও আনুসঙ্গিক সব সুবিধাসহ সেখানেই এসব আইসিইউ বেড স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান।

Feb2
Feb2

যুবদল নেতা ইকবাল হোসেন’র পরিবারের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 3:21 pm
যুবদল নেতা ইকবাল হোসেন’র পরিবারের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন এর পরিবারের পক্ষ থেকে উত্তর পতেঙ্গা সি ইউনিট বিএনপি নেতা হাজী ইলিয়াছ হোসেন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিবৃষ্টির কারণে পানি বন্দি পরিবার এর মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।

ইকবাল হোসেন পানিবন্দি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং মাইজপাড় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উত্তর মাইজপাড়া ৪১ নং এবং ৪০ নং ওর্য়াড় মাইজপাড়া এলাকার ২০০ পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।

এ সময় নেতৃবৃন্দরাসহ এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 2:34 pm
জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে সকালে ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পৌঁছান। তার আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে ঢামেকের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। শহীদ মিনার এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, তিতুমীর কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 12:35 pm
বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে গত ৭ দিন ধরে দুর্বিষহ জীবন পার করছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ। গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত এ জেলায় পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে, চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে রসুলাবাদ এলাকার আবদুল মালেকের মেয়ে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার (১২) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঝর্ণার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

আগের দিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় স্থানীয় সোলতান আহমদের ২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।

একই দিন সকালে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে চকরিয়া থেকে বিভক্ত হয় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্পর (৩) এর মৃত্যু হয়। এছাড়া একইদিন ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে মারা যায় একটি পরিবারের দুই শিশু। কক্সবাজার সদর উপজেলা, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সদর উপজেলা, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান শহর থেকে পানি নামতে শুরু করায় মাতামুহুরি নদীর পানিও বেড়েছে। তাই চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার (মাতামুহুরীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পানি দ্রুত নামাতে স্লুইস গেটগুলো সচল রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে জানান তিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, সরকারি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন যার মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১৪ হাজার ৬১ জন।

এছাড়া তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার নগদ টাকা। ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত জেলায় গত ৬ দিনে ৭শ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান।