খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাহাত্তারপুলে লিটনের রমরমা গ্যাসের অবৈধ ক্রস ফিলিং ব্যবসা! প্রশাসন নীরব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জানুয়ারি, ২০২০, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
রাহাত্তারপুলে লিটনের রমরমা গ্যাসের অবৈধ ক্রস ফিলিং ব্যবসা! প্রশাসন নীরব

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। বিশেষ প্রতিবেদন : চট্টগ্রাম মহানগর ও আশপাশের উপজেলায় চলছে অবৈধভাবে ক্রস ফিলিং করা এলপি গ্যাসের রমরমা ব্যবসা। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রামে কয়েকটি চক্র এসব কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে গ্যাসের সিলিন্ডারে ক্রস ফিলিং করে অবৈধভাবে এলপি গ্যাস বাজারজাত করে গ্রাহক ঠকাচ্ছে। একই সঙ্গে যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণের ঝুঁকিতেও থাকছে গ্রাহকরা। তবে এসব কাজের সঙ্গে জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না।

অনুসন্ধানে গ্যাসের অবৈধ ক্রস ফিলিং ব্যবসায়ী ও বেশ কিছু চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম নগরীর রাহাত্তারপুল, বায়েজিদ, কদমতলী, হালিশহর, কাঠগড়, মাদারবাড়ী, মোগলটুলী, পানাপাড়া (কামাল গেট) এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকান ও কারখানায় এলপি গ্যাসের ভরা সিলিন্ডার থেকে খালি সিলিন্ডারে কনভার্টার ব্যবহার করে ক্রস ফিলিং করা হয়।

এর মধ্যে নগরীর বাকলিয়া থানা রাহাত্তার পুল ওয়েডিং পার্ক সংলগ্ন এলাকায় মোক্তার হোসেন লিটন নামে এক ব্যাক্তি দাপুটের সাথে গ্যাসের অবৈধ ক্রস ফিলিং ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নাজিম উদ্দিন শাহ এন্টারপ্রাইজ এন্ড মুক্তা ট্রেডিংয়ের আড়ালে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাস ফিলিংয়ের এ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।

কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পরিচালিত এ কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোন বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ছাড়াই অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকরা এক সিলিন্ডার থেকে গ্যাস প্রবেশ করান অন্য সিলিন্ডারে। অধিক মুনাফার লোভে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যে কোন সময় বড় ধরণের যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে সেদিকে কারো হুশ নেই।

বিশেষভাবে তৈরি কনভার্টার ব্যবহার করে শ্রমিকরা দুটি ভর্তি সিলিন্ডার থেকে খালি একটি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে থাকে। এলপি গ্যাসের ৪৫ ও ৩৩ কেজি ওজনের সিলিন্ডার থেকে পাইপ দিয়ে সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার ফিলিং করেন। পুরোপুরি ১২ কেজি না দিয়ে ৮-৯ কেজি গ্যাস দেওয়া হয়। এতে প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এতে গ্রাহকরা যেমন প্রতারিত হচ্ছে ঠিক তেমনিভাবে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তাছাড়া এ ফিলিং প্রক্রিয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমন গ্যাসের ব্যবহারও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এ কাজটি অটোমেটিক মেশিন দিয়ে চাপ পরীক্ষা করে বাল্ব ও সেফটি ক্যাপ স্থাপন করার কথা থাকলেও লিটনের কারখানায় ম্যানুয়ালি বসাচ্ছে বাল্ব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার এক শ্রমিক জানায়, এ ক্রস ফিলিং গ্যাস সিলিন্ডার চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলা উপজেলার সর্বত্র বিক্রি হয়। প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি থেকে গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার ক্রয় করে তা এক সিলিন্ডার থেকে গ্যাস সরবরাহ করে অন্য সিলিন্ডারে। সিলিন্ডারের গায়ে লাগানো হয়, ওমেরা গ্যাস, বসুন্ধরা, বিএম গ্যাস নাভানা গ্যাসসহ বিভিন্ন কোম্পানির স্টিকার। বাসাবাড়িসহ ঘনবসতি এলাকা হওয়ায় তার এই অবৈধ গ্যাস ফিলিং কারখানাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সখ্য রেখেই চলছে এ ভয়ঙ্কর কারবার। প্রশাসন তাদের আয়ের নতুন খাত হিসেবে নিয়েছে বিষয়টিকে। সে কারণে দেখেও না দেখার ভান করছে। তা না হলে প্রকাশ্যে এ ভয়ঙ্কর কাজ হয় কী করে? এতে একদিকে যেমন গ্রাহকরা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে শারীরিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবহারকারীরা।

এখনই কঠোরভাবে দমন করা না গেলে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে চক্রটি। এজন্য কঠোর আইন ও প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেন এলপি গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।মোক্তার হোসেন লিটন

এ বিষয়ে অবৈধ গ্যাস ফিলিং ব্যবসায় জড়িত অভিযুক্ত মোক্তার হোসেন লিটনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো উদ্ধ্যতপূর্ণ আচরণের সহিত ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, আমরা ব্যবসা সম্পর্কে প্রশাসন থেকে সংশ্লিষ্ট সকলেই অবগত আছেন। সকলকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আপনারা ভূয়া সাংবাদিকরা যা ইচ্ছে লিখতে পারেন। এতে আমার কিচ্ছু যায় আসেনা। এ ব্যাপারে কথা বলার মতো সময় আমার নেই।

বিষয়টি নিয়ে বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ আমাদেরকে অভিযোগ করেনি। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর,ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্টরাই বলতে পারবে। তাছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন যদি পুলিশের সহযোগীতা চাই সেক্ষেত্রে আমরা সর্বাত্মক সহযোগীতা প্রদান করবো।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর বাকলিয়া এলাকার পরিদর্শক মাহবুব এলাহী ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানান, আমরা গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য প্রতিষ্ঠানের নামে অনুমতি দেয়া হতে পারে। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করার অনুমতি প্রদানের কোন প্রশ্নই আসে না।রাহাত্তারপুলে গ্যাস ক্রস ফিলিং

এসব এলাকায় ঝুঁকিপূর্ন গ্যাস সিলিন্ডার প্রক্রিয়াকরণ সম্পূর্ণ অবৈধ। এরপরও গোপনে যদি এ ধরনের ব্যবসা করে থাকে তাহলে তদন্ত করে প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিকের কাছে জানতে চাইলে তিনিও একই মত প্রকাশ করেন। তিনি ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানা রাহাত্তার পুল ওয়েডিং পার্ক সংলগ্ন এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার প্রক্রিয়াজাত ব্যবসার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যাক্তি তাদের থেকে ছাড়পত্র নেয়নি।

তাছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ব্যবসার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা। বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছ থেকে জানতে পেরে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারি বিস্ফোরক পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী হাসান খান ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে আমরা বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি, অভিযানও পরিচালিত হয়েছে। আপনারা তথ্য ও ছবিসংযুক্ত নিউজ করেন। আমরা নিউজের সূত্র ধরে এ কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে প্রতিষ্ঠানটি একেবারে সিলগালা করে মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক সম্মত কাজের মান যাচাই করে দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এসব ছোট প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা।

বি : দ্র : এলপি গ্যাসের বড় বোতল থেকে ছোট বোতলে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ক্রস ফিলিং ব্যবসা নিয়ে আরো অনুসন্ধানী খবর থাকছে দ্বিতীয় পর্বে।

উল্লেখ্য : ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পটিয়ায় বাবুল মিয়া নামে একজনের গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে অবৈধ ‘ক্রস ফিলিং’র মাধ্যমে এলপি গ্যাস চুরির সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৫ জন দগ্ধ হবার ঘটনা ঘটে।

তাছাড়া ২০১৫ সালে লোহাগাড়া সদরের রশিদারপাড়ায় নিজের বসতঘরে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে ক্রস ফিলিং (এক সিলিন্ডার থেকে অন্য সিলিন্ডারে ভরা) করতে গিয়ে চারজন দগ্ধ হয়। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবী হোসেন নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় গ্যাসের ক্রস ফিলিং ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য আলমগীর চৌধুরীও আহত হন।

এর আগে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সাতকানিয়ার কেরানি হাটে গ্যাস ক্রস ফিলিং করার সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে আরো একজনের মৃত্যু হয়। চট্টগ্রাম শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিস্ফোরণে একাধিক ব্যক্তির আহতের খবর পাওয়া গেছে।

Feb2

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করেছে সরকার।

বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেল তাদের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছে।

পোস্টে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের ১০০ দিন-জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছিলেন, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহার করা হবে।

বর্তমানে প্রিপেইড মিটারে প্রতি কিলোওয়াটে মাসিক ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা এবং সিঙ্গেল ফেজে মিটার ভাড়া ৪০ টাকা। এ চার্জের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়। এই অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল।

নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

সুপার সাব মোসাম্মাৎ সাগরিকার গোলে নেপালকে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বুধবার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ২-১ গোলে হারিয়েছে নেপালকে।

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার পর টানা তৃতীয়বার ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগের দু’বার এই নেপালকে হারিয়েই হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। এবার চ্যাম্পিয়নশিপের হ্যাটট্রিক করার মিশন বাংলাদেশের সামনে।

দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে দুই বদলি খেলোয়াড় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সাগরিকার চমৎকার বোঝাপড়ায় লিড নেয় বাংলাদেশ। ডান দিক দিয়ে ঢুকে শামসুন্নাহার বল ফেলেন গোলমুখে। কোনো ভুল করেননি সাগরিকা। নেপালের এক ডিফেন্ডার তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও পারেনি। বল ঠেলে দেন জালে। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে। বাকি কয়েক মিনিট ওই লিড ধরে রেখে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা উঠে যায় ফাইনালে। এই নিয়ে বাংলাদেশ টানা তিনবার উঠলো সাফের ফাইনালে।

২৩ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তারপর সমতায় ফেরে ইনজুরি সময়ে প্রথম মিনিটে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা ঋতুপর্ণার কর্নার থেকে করা গোলে স্বস্তি ফিরেছে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েদের ডাগআউটে। ডানপ্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণার নেওয়া অসাধারণ কর্নার কিকটি হাতে লাগিয়েছিলেন নেপালের গোলরক্ষক। তবে থামাতে পারেননি। গোলরক্ষকের হাত হয়ে বল চলে যায় জালে।

দিপা শাহীর কর্নার হাতে লাগিয়েও ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি মিলি আক্তার। বল চয়ে যায় একটু ফাঁকায় দাড়ানো গিতা রানার কাছে। তিনি সুযোগ বুঝে বলটি পাঠিয়ে দেন জালে। ম্যাচের প্রথম লিড নিয়েছিল নেপাল।

৩৬ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে প্রীতি রানীর নেওয়া শট গোলরক্ষক মিলি আক্তারের হাতে লেগে ক্রসবার হয়ে ফিরে আসলে বাংলাদেশ বেঁচে যায়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের গোলে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম অর্ধ।

কোচ পিটার বাটলার ৪০ মিনিটে দুটি পরিবর্তন করেন। সুরভী আকন্দ প্রীতির জায়গায় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও উমেহলা মারমার জায়গায় তহুরা খাতুনকে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ। শেষ দিকে আনিকাকে উঠিয়ে কোচ মাঠে নামান সাগরিকা। সেই সাগরিকাই বাংলাদেশকে ভাসান ফাইনালে ওঠার আনন্দে।

নেপালকে ফাইনালে হারিয়ে গত দুটি সাফের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের লড়াইও জিতলো বাংলাদেশের মেয়েরা। বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের স্বপ্নও টিকে থাকলো।

৪৭ মিনিটে বাংলাদেশ গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের ভুলে শট নিয়েছিলেন রেখা পাউদেল। তবে তার শট পোস্টে লেগে ফিরলে আবার বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ৭৮ মিনিটে বদলি সাগরিকার শট অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দেন নেপালের গোলরক্ষক আনজিলা।

এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের কাছে টানা তিন ম্যাচ হারলো নেপাল। তবে ভুটানের রেফারি ৬ মিনিটের ইনজুরি সময়ের খেলা চালিয়েছেন ১৩ মিনিটের মতো।

বাংলাদেশ একাদশ

মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার, কোহাতি কিসকু, মমিতা খাতুন (মনিকা চাকমা, ৪৬ মিনিট), মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী (সাগরিকা), উমেহলা মারমা (তহুরা খাতুন, ৪০ মিনিট), সুরভী আকন্দ প্রীতি (শামসুন্নাহার জুনিয়র, ৪০ মিনিট), সুরভী আক্তার আরফিন ও ঋতুপর্ণা চাকমা।

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনের ষষ্ঠ তলায় কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি।

নতুন মূল্য গত ১ জুন থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

এর আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছে।

তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে।

সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।