খুঁজুন
, ,

রাহাত্তারপুলে লিটনের রমরমা গ্যাসের অবৈধ ক্রস ফিলিং ব্যবসা! প্রশাসন নীরব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 January, 2020, 2:56 pm
রাহাত্তারপুলে লিটনের রমরমা গ্যাসের অবৈধ ক্রস ফিলিং ব্যবসা! প্রশাসন নীরব

২৪ ঘন্টা ডট নিউজ। বিশেষ প্রতিবেদন : চট্টগ্রাম মহানগর ও আশপাশের উপজেলায় চলছে অবৈধভাবে ক্রস ফিলিং করা এলপি গ্যাসের রমরমা ব্যবসা। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রামে কয়েকটি চক্র এসব কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে গ্যাসের সিলিন্ডারে ক্রস ফিলিং করে অবৈধভাবে এলপি গ্যাস বাজারজাত করে গ্রাহক ঠকাচ্ছে। একই সঙ্গে যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণের ঝুঁকিতেও থাকছে গ্রাহকরা। তবে এসব কাজের সঙ্গে জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না।

অনুসন্ধানে গ্যাসের অবৈধ ক্রস ফিলিং ব্যবসায়ী ও বেশ কিছু চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম নগরীর রাহাত্তারপুল, বায়েজিদ, কদমতলী, হালিশহর, কাঠগড়, মাদারবাড়ী, মোগলটুলী, পানাপাড়া (কামাল গেট) এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকান ও কারখানায় এলপি গ্যাসের ভরা সিলিন্ডার থেকে খালি সিলিন্ডারে কনভার্টার ব্যবহার করে ক্রস ফিলিং করা হয়।

এর মধ্যে নগরীর বাকলিয়া থানা রাহাত্তার পুল ওয়েডিং পার্ক সংলগ্ন এলাকায় মোক্তার হোসেন লিটন নামে এক ব্যাক্তি দাপুটের সাথে গ্যাসের অবৈধ ক্রস ফিলিং ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নাজিম উদ্দিন শাহ এন্টারপ্রাইজ এন্ড মুক্তা ট্রেডিংয়ের আড়ালে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গ্যাস ফিলিংয়ের এ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।

কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পরিচালিত এ কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোন বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ছাড়াই অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকরা এক সিলিন্ডার থেকে গ্যাস প্রবেশ করান অন্য সিলিন্ডারে। অধিক মুনাফার লোভে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে যে কোন সময় বড় ধরণের যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে সেদিকে কারো হুশ নেই।

বিশেষভাবে তৈরি কনভার্টার ব্যবহার করে শ্রমিকরা দুটি ভর্তি সিলিন্ডার থেকে খালি একটি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে থাকে। এলপি গ্যাসের ৪৫ ও ৩৩ কেজি ওজনের সিলিন্ডার থেকে পাইপ দিয়ে সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার ফিলিং করেন। পুরোপুরি ১২ কেজি না দিয়ে ৮-৯ কেজি গ্যাস দেওয়া হয়। এতে প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এতে গ্রাহকরা যেমন প্রতারিত হচ্ছে ঠিক তেমনিভাবে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তাছাড়া এ ফিলিং প্রক্রিয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমন গ্যাসের ব্যবহারও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এ কাজটি অটোমেটিক মেশিন দিয়ে চাপ পরীক্ষা করে বাল্ব ও সেফটি ক্যাপ স্থাপন করার কথা থাকলেও লিটনের কারখানায় ম্যানুয়ালি বসাচ্ছে বাল্ব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার এক শ্রমিক জানায়, এ ক্রস ফিলিং গ্যাস সিলিন্ডার চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলা উপজেলার সর্বত্র বিক্রি হয়। প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি থেকে গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার ক্রয় করে তা এক সিলিন্ডার থেকে গ্যাস সরবরাহ করে অন্য সিলিন্ডারে। সিলিন্ডারের গায়ে লাগানো হয়, ওমেরা গ্যাস, বসুন্ধরা, বিএম গ্যাস নাভানা গ্যাসসহ বিভিন্ন কোম্পানির স্টিকার। বাসাবাড়িসহ ঘনবসতি এলাকা হওয়ায় তার এই অবৈধ গ্যাস ফিলিং কারখানাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সখ্য রেখেই চলছে এ ভয়ঙ্কর কারবার। প্রশাসন তাদের আয়ের নতুন খাত হিসেবে নিয়েছে বিষয়টিকে। সে কারণে দেখেও না দেখার ভান করছে। তা না হলে প্রকাশ্যে এ ভয়ঙ্কর কাজ হয় কী করে? এতে একদিকে যেমন গ্রাহকরা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে শারীরিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবহারকারীরা।

এখনই কঠোরভাবে দমন করা না গেলে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে চক্রটি। এজন্য কঠোর আইন ও প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেন এলপি গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।মোক্তার হোসেন লিটন

এ বিষয়ে অবৈধ গ্যাস ফিলিং ব্যবসায় জড়িত অভিযুক্ত মোক্তার হোসেন লিটনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো উদ্ধ্যতপূর্ণ আচরণের সহিত ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, আমরা ব্যবসা সম্পর্কে প্রশাসন থেকে সংশ্লিষ্ট সকলেই অবগত আছেন। সকলকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আপনারা ভূয়া সাংবাদিকরা যা ইচ্ছে লিখতে পারেন। এতে আমার কিচ্ছু যায় আসেনা। এ ব্যাপারে কথা বলার মতো সময় আমার নেই।

বিষয়টি নিয়ে বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ আমাদেরকে অভিযোগ করেনি। বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর,ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্টরাই বলতে পারবে। তাছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন যদি পুলিশের সহযোগীতা চাই সেক্ষেত্রে আমরা সর্বাত্মক সহযোগীতা প্রদান করবো।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর বাকলিয়া এলাকার পরিদর্শক মাহবুব এলাহী ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে জানান, আমরা গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য প্রতিষ্ঠানের নামে অনুমতি দেয়া হতে পারে। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করার অনুমতি প্রদানের কোন প্রশ্নই আসে না।রাহাত্তারপুলে গ্যাস ক্রস ফিলিং

এসব এলাকায় ঝুঁকিপূর্ন গ্যাস সিলিন্ডার প্রক্রিয়াকরণ সম্পূর্ণ অবৈধ। এরপরও গোপনে যদি এ ধরনের ব্যবসা করে থাকে তাহলে তদন্ত করে প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিকের কাছে জানতে চাইলে তিনিও একই মত প্রকাশ করেন। তিনি ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানা রাহাত্তার পুল ওয়েডিং পার্ক সংলগ্ন এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার প্রক্রিয়াজাত ব্যবসার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যাক্তি তাদের থেকে ছাড়পত্র নেয়নি।

তাছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ব্যবসার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা। বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছ থেকে জানতে পেরে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারি বিস্ফোরক পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী হাসান খান ২৪ ঘন্টা ডট নিউজকে বলেন, এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে আমরা বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি, অভিযানও পরিচালিত হয়েছে। আপনারা তথ্য ও ছবিসংযুক্ত নিউজ করেন। আমরা নিউজের সূত্র ধরে এ কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে প্রতিষ্ঠানটি একেবারে সিলগালা করে মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক সম্মত কাজের মান যাচাই করে দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এসব ছোট প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা।

বি : দ্র : এলপি গ্যাসের বড় বোতল থেকে ছোট বোতলে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ক্রস ফিলিং ব্যবসা নিয়ে আরো অনুসন্ধানী খবর থাকছে দ্বিতীয় পর্বে।

উল্লেখ্য : ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পটিয়ায় বাবুল মিয়া নামে একজনের গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে অবৈধ ‘ক্রস ফিলিং’র মাধ্যমে এলপি গ্যাস চুরির সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৫ জন দগ্ধ হবার ঘটনা ঘটে।

তাছাড়া ২০১৫ সালে লোহাগাড়া সদরের রশিদারপাড়ায় নিজের বসতঘরে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে ক্রস ফিলিং (এক সিলিন্ডার থেকে অন্য সিলিন্ডারে ভরা) করতে গিয়ে চারজন দগ্ধ হয়। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবী হোসেন নামে এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় গ্যাসের ক্রস ফিলিং ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য আলমগীর চৌধুরীও আহত হন।

এর আগে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সাতকানিয়ার কেরানি হাটে গ্যাস ক্রস ফিলিং করার সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে আরো একজনের মৃত্যু হয়। চট্টগ্রাম শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিস্ফোরণে একাধিক ব্যক্তির আহতের খবর পাওয়া গেছে।

Feb2
Feb2

বাস-মিনিবাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 23 September, 2026, 2:46 pm
বাস-মিনিবাসের ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নতুন নির্ধারিত ভাড়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৭০ পয়সা এবং আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসের ভাড়া ২ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দিন মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপনে সই করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলার অভ্যন্তরীণ রুটের বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নতুন ভাড়া শুধু ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। গ্যাসচালিত বাস ও মিনিবাসে এই ভাড়ার হার কার্যকর হবে না।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বিআরটিএর অনুমোদিত আসন সংখ্যা কমিয়ে কোনো বাস বা মিনিবাসের আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে নির্ধারিত ভাড়া আনুপাতিক হারে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ বা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির কাছ থেকে আনুপাতিক ভাড়ার হার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

এ ছাড়া প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে নতুন ভাড়ার তালিকা বাধ্যতামূলকভাবে প্রদর্শন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বিআরটিএর পক্ষ থেকে সিটি সার্ভিসে কিলোমিটারপ্রতি ১৮ পয়সা এবং দূরপাল্লার বাসে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে তিন শ্রেণির ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।

নতুন ভাড়া নির্ধারণের মধ্য দিয়ে ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া সংক্রান্ত আগের সব প্রজ্ঞাপন ও আদেশ রহিত করা হয়েছে।

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 10:17 pm
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: এরশাদ উল্লাহ

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেছেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নাশকতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে। দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে কেউ যাতে ষড়যন্ত্র বা অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নসিমন ভবনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার’ বিরুদ্ধে সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি আয়োজন নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এরশাদ উল্লাহ বলেন, “গণরোষে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট অপশক্তি দিল্লি থেকে দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।” তাঁর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে এবং মানুষকে উসকে দিয়ে কৃত্রিম অরাজক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে কোনো অপকর্ম বা নাশকতা করতে না পারে, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। সুযোগসন্ধানী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি কোনো অপতৎপরতার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানায় বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা হবে এবং এসব কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতা আবু সুফিয়ান বলেন, “নাশকতার চেষ্টা হলে মাঠেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।” দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য কেউ নাশকতা, সহিংসতা কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে কোনো অপশক্তির কর্মকাণ্ডে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া কোনো অপশক্তি কিংবা তাদের সহযোগীরা যেন আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। গুজব, অপপ্রচার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি ছড়িয়ে যারা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালালে তার দায় দল নেবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আবু সুফিয়ান আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র ও নাশকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও স্থিতিশীলতার পথে কোনো ষড়যন্ত্র যাতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা জোরদার এবং নাশকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ,এড. আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন ও শিহাব উদ্দিন মুবিন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, সদস্য ইকবাল চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন জিয়া, এস এম আবুল ফয়েজ, আবুল হাশেম, ইস্কান্দার মির্জা, মুজিবুল হক, মোহাম্মদ মহসিন, মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, মোশারফ হোসেন ডিপটি, জাফর আহমেদ, মাহাবুব রানা, আবু মুসা, হানিফ সওদাগর, মোহাম্মদ আজম ও মোহাম্মদ ইউসুফ ।

এ ছাড়া মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তী, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, তরুণ দলের সেলিম হাফেজ ও মনিরুজ্জামান মুরাদসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পলাতক ফ্যাসিস্টের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ: দীপ্তি-শাহেদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 8:38 pm
পলাতক ফ্যাসিস্টের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ: দীপ্তি-শাহেদ

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বা সহিংসতার নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরী।

তিনি আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে দেশকে অস্থিতিশীল করার চলমান রাজনীতির বিরুদ্ধে করণীয় শীর্ষক প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীপ্তি বলেন, জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে বেকাঁদায় ফেলতে পলাতক ফ্যাসিস্ট পুরানো জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি বেচে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের এ জ্বালাও পোড়াও রাজনীতি এ দেশে আর চলবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সফর বানচাল করতে পলাতক আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও আগুন সন্ত্রাস শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, সন্ত্রাসের জবাব আরেক সন্ত্রাস নয়-আইনের শাসন। প্রতিহিংসার জবাব প্রতি হিংসা নয়-ন্যায় বিচার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবার আগে বাংলাদেশ হৃদয়ে ধারণ করে সরকার কর্তৃক জনগণের কল্যাণে গৃহিত কর্মসূচি ঘরে ঘরে পৌছে দিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন সহায়কের ভূমিকা পালন করছে। জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তাই হবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি এসময় রাজনৈতিক সহিংসতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আওতাধীন ১৫টি থানা ও ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড যুবদল নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলে প্রস্তুতি সভায় অন্যান্যের মধ্য উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন, এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, সহ সভাপতি ফজলুল হক সুমন, জাহাঙ্গীর আলম, গফুর বাবুল, সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু, মোহাম্মদ মুসা, মিয়া মোহাম্মদ হারুন, জসিমুল ইসলাম কিশোর, মুজিবুর রহমান, অরুপ বড়ুয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, হুমায়ুন কবির, রাশেদুল হাসান লেবু, সেলিম উদ্দিন রাসেল, সহ সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি সিকদার, মুজিবুর রহমান রাসেল, আসাদুর রহমান টিপু, জাহাঙ্গীর আলম বাঁচা, হেলাল হোসেন, গুলজার হোসেন, তানভীর মল্লিক, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান জুয়েল, মহিউদ্দিন মুকুল, আসাদুজ্জামান রুবেল, এস এম বখতিয়ার উদ্দিন, ইফতেখার শাহরিয়ার আজম, সহ- সম্পাদক মনোয়ার হোসেন মানিক, কামরুল ইসলাম, কমল জৌতি বড়ুয়া, শাহেদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, হাফেজ কামাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম মানিক, মোহাম্মদ ইউসুফ, মিজানুর রহমান দুলাল, মো: হাসানুজ্জামান, ইয়াছিন আজাদ, আবুল কালাম, ফারুক হোসেন স্বপন, সদস্য কলিম শিকদার, গোলাম ইয়াজদানী সাবাব, প্রফেসর সাইদুল হক শিকদার, আবদুল্লাহ আল মামুন, থানা যুবদলের আহবায়ক মোহাম্মদ আজম, মোশাররফ আমীন ,বজল আহমেদ, খোরশেদ আলম, সদস্য সচিব শওকত খান রাজু, মোহাম্মদ মুসা, মো: ইলিয়াস, মনজুর আলম মনজু, মোরশেদ কামাল, আশিক মল্লিক, মোস্তাকিম মাহমুদ, সাইফুল ইসলাম রুবেল, মো: ইয়াছিন, সাজ্জাদ হোসেন সাদ্দাম, মোহাম্মদ সোহেল, ওয়ার্ড যুবদলের আহবায়ক এস এম আলী, মোহাম্মদ হাসান, আবু বক্কর বাবু, বাদশাহ আলমগীর, সাইফুল ইসলাম, মাসুদ আলমসহ থানা ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড যুবদলের নেতৃবৃন্দ।