খুঁজুন
, ,

বিএনপির রাজনীতি দফার বিভ্রান্তিতে ঘুরপাক খাচ্ছে: কাদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 July, 2023, 3:36 pm
বিএনপির রাজনীতি দফার বিভ্রান্তিতে ঘুরপাক খাচ্ছে: কাদের

বিএনপির রাজনীতি দফার বিভ্রান্তিতে ঘুরপাক খাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এমন মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে বিএনপির রূপরেখাকে ‘অন্তঃসারশূন্য ও অকার্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি দফার বিভ্রান্তিতে ঘুরপাক খাচ্ছে। কখনো ১০ দফা, কখনো ২৭ দফা, কখনো এক দফা, আবার কখনো ৩১ দফা! বিএনপি কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে ঘোষিত এসব দফা জনগণ কর্তৃক ইতোমধ্যেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাই তারা কিছুদিন পরপর নতুন নতুন দফা নিয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকার ব্যর্থ চেষ্টা করছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির এই দফা জনগণের চাহিদা বিবেচনা করে নয় বরং ঐতিহ্যগতভাবে তাদের দুর্নীতি, লুটপাটতন্ত্র এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের স্বৈরতান্ত্রিক অপরাজনীতি ফিরিয়ে আনার কূটকৌশল।’

বিএনপি ঘোষিত দফা ও রূপরেখায় ‘জনকল্যাণের সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মপন্থা নেই’ মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জনগণ তাদেরকে আস্থায় না নিলেও জনগণকে বিভ্রান্ত করতে বিএনপি মরিয়া হয়ে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি আজ যেসব রূপরেখা ও দফা তুলে ধরছে, প্রকৃতপক্ষে তারা তা বিশ্বাস ও ধারণ করে না। কারণ তারা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এসব নীতির বিরুদ্ধে সব ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে ছিল। গণতন্ত্রকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে তারা দুর্নীতির বরপুত্র, একুশে আগস্টের নারকীয় গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিএনপি জনগণকে সেই ‘হাওয়া ভবন’-এর দুঃশাসনের যুগে ফিরিয়ে নিতে চায়। আজ তারা দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের কথা বলছে। অথচ বিএনপির শাসনামলে টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের কলঙ্কের কথা জনগণ ভুলে যায়নি।’

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি তাদের তথাকথিত রূপরেখায় ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলেছে! শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির কথা বলেছে! কৃষকের অধিকারের কথা বলেছে! এ যেন ভূতের মুখে রাম নাম। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সামরিক স্বৈরাচার জিয়াউর রহমানই এদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতায় প্রথম আঘাত হেনেছিল এবং বিএনপির এমপি, মন্ত্রী ও ক্যাডারবাহিনী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের ওপর পাশবিক ও বর্বর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছিল। তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বার বার আঘাত হেনেছে বিএনপি।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি তাদের শাসনামলে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কিছুই করেনি বরং তাদের হাত শ্রমিকের রক্তে রঞ্জিত। এমনকী পবিত্র রমজান মাসে বেতন-বোনাসের দাবিতে আন্দোলন করায় ১৭ শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করেছিল। কানসাটে বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনরত মানুষকে গুলি করে হত্যা এবং সার ও তেলের দাবিতে আন্দোলন করায় কৃষকের বুকে বুলেটবিদ্ধ করেছিল বিএনপি। তাদের অতীত অপকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হয়ে, জাতির সামনে ক্ষমা প্রার্থনা না করে আজ তারা বিভ্রান্তির রূপরেখা উপস্থাপন করছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি মুখে গণতন্ত্রের কথা বলছে! আসলে গণতন্ত্রের মোড়কে তারা তাদের সেই হিংস্র রাজনীতির পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায়। গণতান্ত্রিক পন্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নত-সমৃদ্ধ শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণকর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রধানতম অন্তরায় বিএনপি এবং তার দোসররা।’

বিবৃতিতে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী সকলের অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ। আজকের বাংলাদেশে কৃষক, শ্রমিক, জনতার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেছে। যে কয়বার শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে, তা আওয়ামী লীগের আমলেই হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কৃষিখাতে ব্যাপক প্রণোদনা ও কৃষি গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ক্ষুধা ও চরম দারিদ্র্যের অভিঘাত থেকে মুক্তি পেয়েছে জাতি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটেছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন-গৃহহীন অসহায় মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং অর্থনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামীর উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশে জনকল্যাণের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। বিএনপির এই ধরনের তথাকথিত রূপরেখা ও আন্দোলনের হুমকি বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। বাংলাদেশের জনগণ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে এই অপশক্তির ষড়যন্ত্র পতিহিদ করবে।’

Feb2
Feb2

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 2:26 pm
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার: মেয়র

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার।”

শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ চসিকের কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কর্মসূচিটি চট্টগ্রাম মহানগরীতে সফলভাবে বাস্তবায়নে করণীয় নির্ধারণে চসিকের বিভাগীয় প্রধানবৃন্দ, বিএনসিসিসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে সভা করেন।

সভা শেষে উক্ত কর্মসূচির অংশ হিসেবে থিয়েটার ইন্সটিটিউটের সামনে থেকে বিশেষ পরিচ্ছন্ন ও মশক নিয়ন্ত্রণ ক্রাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করেন তিনি। ক্রাশ প্রোগ্রামে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশার ঔষধ ছিটানো এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম তদারকি করেন মেয়র।

এসময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে এ কার্যক্রম সফল করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে৷

“আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডকে পরিচ্ছন্ন এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে পদক্ষেপ নিয়েছি৷ আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠ পর্যায়ে এ কার্যক্রম সফল করতে কাজ করবেন৷ ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এজন্য আমরা অন্যান্য সংস্থাকেও সম্পৃক্ত করছি। ”

মেয়র আরো বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পারলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য নগরীর প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক, পলিথিন, ফোম কিংবা ডাবের খোসা ফেলে রাখা যাবে না। এসব স্থানে সামান্য স্বচ্ছ পানি জমে থাকলেও এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। বাসার ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, এসির পানি জমার স্থান, পরিত্যক্ত পাত্রসহ সম্ভাব্য সব প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) স্বীকৃত বিটিআই (BTI) ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নগরীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। কোতোয়ালী, হালিশহর, বন্দর, আকবরশাহ, বাকলিয়া ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে মেয়র বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৭৪২ জন। তবে নগরীর পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া, জিকা ও অন্যান্য মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকিও রয়েছে। তাই শুধু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার দিকে নজর না দিয়ে রোগ প্রতিরোধে আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

মেয়র বলেন, বৃষ্টির পর নগরীর কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। কারণ জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। এ বিষয়ে নাগরিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজের ঘর, নিজের আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

অনুষ্ঠানে বিএনসিসি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগামী তিন মাস চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিটি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

পরে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামে একযোগে ২ হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 2:15 pm
চট্টগ্রামে একযোগে ২ হাজার মসজিদে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অভিযান শুরু হয়।

কর্মসূচির উদ্বোধনকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ঠেকাতে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা আর একটি প্রাণও হারাতে চাই না। হাসপাতালের শয্যা বাড়াতে পারি, ডেডিকেটেড ওয়ার্ড করতে পারি, চিকিৎসাসুবিধা দিতে পারি; কিন্তু একটি জীবন চলে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।’

পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশ পরিষ্কার রাখা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার একার দায়িত্ব নয়। এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।’

কর্মসূচিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, আলেম-ওলামা, স্কাউট, গার্ল গাইড, বিভিন্ন পরিবেশসচেতন সংগঠনের সদস্য ও তরুণেরা অংশ নেন।

গত ২৫ জুলাই থেকে প্রতি শনিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে আসছে জেলা প্রশাসন। প্রথম দিনের অভিযানে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও স্থাপনা থেকে প্রায় ১৩৫ মেট্রিক টন ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়।

এরপর বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এবং কালুরঘাটের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এ কার্যক্রমের আওতায় এসেছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, পুকুর ও জলাশয় পরিষ্কারের মাধ্যমে মশার প্রজননঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সেগুলো ব্যবহারযোগ্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেসব এলাকা এখনো এ কার্যক্রমের আওতায় আসেনি, পর্যায়ক্রমে সেখানেও অভিযান চালানো হবে।

এর আগে গত সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক কর্মশালায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ইউনিসেফ আয়োজিত ওই কর্মশালায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকে নাগরিক অভ্যাসে পরিণত করতে জেলাজুড়ে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 11:17 am
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সারা দেশের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবর্তন আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে দেশ গঠন করতে চাইলে কোনো বাধাই তা ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

তিনি বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু সমস্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। শতভাগ সমাধান সম্ভব না হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘নিজেকে সুস্থ রাখি, সমাজকে সুস্থ রাখি।’ প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা করে পরিচ্ছন্নতার জন্য সময় দিলে অবশ্যই পরিস্থিতির পরিবর্তন আসবে।

যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকতে সবাইকে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্ন দেশ গড়তে প্রত্যেক নাগরিকের ভূমিকা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে পরিবর্তন সম্ভব। এবার রাষ্ট্রকে পরিবর্তন করি।

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে করমর্দন করেন।

১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী এই ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে।