খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আওয়ামী পরিবার হয়েও মুনিয়া হত্যার বিচার পাইনি, বান্ধবীকে দিয়ে ঘুষ নেন আইনমন্ত্রী’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০২৪, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
‘আওয়ামী পরিবার হয়েও মুনিয়া হত্যার বিচার পাইনি, বান্ধবীকে দিয়ে ঘুষ নেন আইনমন্ত্রী’

উচ্চ পর্যায়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বোন মুনিয়া হত্যার বিচার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া। তিনি বলেছেন, তারা আওয়ামী লীগ পরিবার, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েও আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বোন মোসারাত জাহান মুনিয়া হত্যার বিচার পাননি।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি৷

সংবাদ সম্মেলনে মুনিয়ার বড় বোন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমি জানতে পারি তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার বান্ধবী তৌফিকা করিমকে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আনভীরের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে মামলা প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। আমি এসব ব্যাপারে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য একাধিকবার আবেদন করি এবং প্রায় ২৬ পৃষ্ঠার একটি চিঠি লিখে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করি। কিন্তু তিনি আমার সাথে সাক্ষাৎ দেননি।’

এ সময় ছাত্র আন্দোলনে হতাহত ও ভাঙচুরের ঘটনায় শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তানিয়া, ‘ছাত্র গণহত্যার সময়েও তিনি ভবন এবং অবকাঠামোর ক্ষতি দেখতে যান, অথচ ছাত্রদের দেখতে যাওয়ার সময় তার হয়ে ওঠে না। একইভাবে তিনি খুনি আনভীর ও শাহ আলমের সাথে ঠিকই দেখা করেন। অথচ আমার সাথে একটিবার সাক্ষাতের সময় হয়ে ওঠেনি শেখ হাসিনার৷’

মুনিয়া হত্যার সংবাদ পাওয়ার পর গুলশান থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন নুসরাত জাহান তানিয়া। তখন থেকেই অভিযুক্তরা এই হত্যা ও ধর্ষণ মামলার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে কিনে ফেলতে চেয়েছিল বলে অভিযাগ করেন তিনি।

মুনিয়ার বোন বলেন, ‘তৎকালীন আইজিপি বেনজির (বেনজির আহমেদ) এবং গুলশান থানার ওসি সুদীপ কুমার আনভীরকে বাঁচিয়ে দেয়ার জন্য নির্লজ্জ ভূমিকা রেখেছিল। পরে গুলশান থানা আনভীরকে অব্যাহতি দিয়েই তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।’

সংবাদ সম্মেলনে নুসরাত জাহান তানিয়ার লিখিত বক্তব্যের তথ্যমতে, তিনি আওয়ামী পরিবারের একজন সন্তান। তার প্রয়াত বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং তিনি কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তানিয়া বিশ্বাস করেন, শেখ হাসিনার প্রশ্রয় না পেলে আনভীররা এতটা বেপরোয়া হয়ে ওঠার সাহস পেতেন না।

পিবিআইতে মামলাটি গেলে সেখানেও অর্থ ঢেলে তৎকালীন পিবিআই প্রধান বনজ কুমারকে দিয়ে একটি একপেশে তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে আসে বসুন্ধরা গ্রুপ- এমন অভিযোগ করে মুনিয়ার বোন বলেন, ‘ওই রিপোর্টেও আনভীরসহ সবাইকে অব্যাহতি দেয়া হয়। আমি নারাজি জানানোর পর সেটাও আদালতে খারিজ হয়ে যায়।’

‘সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো মুনিয়া গর্ভবতী ছিল, পিবিআই তাদের তদন্তেও বলেছে সেটা ছিল আনভীরেরই সন্তান। অথচ সেই আনভীরকে তারা স্যাম্পল টেস্ট করতে বলল না।’ বলেন তানিয়া।

মামলার অন্যান্য আসামি যেমন সাইফা মিম ও পিয়াসাকে গ্রেপ্তার করা হলেও আনভীরকে একটিবারের জন্য জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন মুনিয়ার বড় বোন। বলেন, ‘বিচারের নামে কী রকম তামাশা হয়েছে! এত অন্যায় ও অবিচারের পরও আমি আনভীরদের হুমকি, টাকা ও প্রলোভনের কাছে বিক্রি হইনি। আমি হালও ছেড়ে দেইনি। আমি বিশ্বাস করি স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পর এই স্বাধীন বাংলাদেশে আমি ন্যায়বিচার এখন প্রত্যাশা করতে পারি।’

এ সময় তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের প্রতি মুনিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ভূমিকা রাখতে অনুরোধ জানান।

তানিয়া হত্যার ঘটনা নিয়ে অনেক মিডিয়া সংবাদ প্রকাশ করলেও কেউ কেউ বিজ্ঞাপন হারানোর ভয়ে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশের ঝুঁকি নেয়নি বলে মন্তব্য করেন মুনিয়ার বোন। তারপরও সাংবাদিকরা পাশে ছিলেন, তাই দেশবাসীকে মুনিয়া হত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার করানো গেছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মুনিয়া হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসাইন, অ্যাডভোকেট মাসুদ সালাউদ্দিন, অ্যাডভোকেট মানিক চন্দ্র শর্মা উপস্থিত ছিলেন৷

Feb2

ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিহ জেলার জেবদিনের একটি বাড়িতে দখলদার ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহত অপরজন সিরীয় নাগরিক।

সংবাদমাধ্যম লরিয়েন্ট টুডে আজ সোমবার (১১ মে) এ তথ্য জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশিদের নাম বা পরিচয় কিছু জানায়নি তারা। নিহতরা সেখানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন বলে উল্লেখ করেছে লরিয়েন্ট টুডে।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ধারণা করা হচ্ছে গতকাল এ হামলা চালানো হয়।

ইসরায়েলি হামলার জবাবে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। তারা আজও ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ইসরায়েলি সেনারা এটি অমান্য করে দক্ষিণ লেবাননে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধ্বংস করতে থাকে। এর পাশাপাশি হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদেরও টার্গেট করে তারা। জবাবে হিজবুল্লাহ পাল্টা হামলা চালায়।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে এগোচ্ছে সরকার: সেতুমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে এগোচ্ছে সরকার: সেতুমন্ত্রী

সরকার দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহায় নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতে প্রস্তুতি সভা শেষে মন্ত্রী এ কথা জানান।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‌হ্যাঁ, পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর তিনটি প্রস্তাবনা আছে। তার এক নম্বর প্রস্তাবনা আপনি যেটা বলেছেন ওই রুটে। আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলছি, বলবো আমি এই মুহূর্তে। ফিজিবিলিটি স্টাডি অলরেডি কমপ্লিট। অর্থায়নের জায়গাটা নিয়ে ভাবছি, কথা বলছি। আর ধরেন অন্যান্য প্রাক-প্রস্তুতি চলছে।’

মন্ত্রী বলেন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাক-প্রস্তুতির কাজও এগিয়ে যাচ্ছে বলেন তিনি।

প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়ে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মূল সেতু নির্মাণের অন্যান্য প্রাক-প্রস্তুতিমূলক কাজগুলোও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে এবং উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মানুষের যাতায়াতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে।

বিশেষ করে উৎসবের সময় মহাসড়কের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে এবং পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ বাঁচাতে এই সেতুটি বিকল্প ও শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, ঈদযাত্রায় নৌপথেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। আরিচা ঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে গাড়ির ব্রেক ত্রুটির বিষয় উঠে এসেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবার ফেরিতে গাড়ি ওঠার আগে ব্যারিকেড ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে ফেরি সম্পূর্ণ খালি না হওয়া পর্যন্ত নতুন গাড়ি প্রবেশ করতে না পারে।

এ ছাড়া সদরঘাটে স্পিডবোট ও লঞ্চ চলাচলে নতুন শৃঙ্খলা আনা হয়েছে। এখন থেকে স্পিডবোটের যাত্রীরা সরাসরি লঞ্চে উঠতে পারবেন না। তাদের নির্ধারিত পন্টুন ব্যবহার করতে হবে। এজন্য নতুন সংযোগ সেতুও নির্মাণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেড় কোটির বেশি মানুষের ঈদযাত্রা এবং প্রায় এক কোটি কোরবানির পশু পরিবহনকে কেন্দ্র করে এবারের ঈদ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করলে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

চসিক মেয়রের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ভারতের নতুন সহকারী হাইকমিশনার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
চসিক মেয়রের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ভারতের নতুন সহকারী হাইকমিশনার

চট্টগ্রামের বিপুল সংখ্যক মানুষের ভারত ভ্রমণ সহজ করতে মেডিকেল ও ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদানের হার ও গতি বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতের নতুন সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ অনুরোধ জানান।

আজ সোমবার (১১ মে) টাইগারপাসস্থ নগর ভবনে মেয়র কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মেয়র বলেন, “চট্টগ্রামের বিপুল পরিমাণ মানুষ চিকিৎসা গ্রহণ এবং পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভারতে যান। বিশেষ করে আজমীর শরীফ, নিজামউদ্দিন আউলিয়ার দরগাহ, আগ্রার তাজমহল এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন তীর্থস্থান থাকার কারণে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ ভারত ভ্রমণ করেন। চট্টগ্রামের এই মানুষদের সুবিধার্থে মেডিকেল এবং ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদানের হার ও গতি বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।”

এছাড়া মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবাদান কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কেও ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারকে অবহিত করেন।

এসময় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, চট্টগ্রামের সাথে ভারতের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

মেয়র নবনিযুক্ত সহকারী হাইকমিশনারকে চট্টগ্রামে স্বাগত জানান এবং তার দায়িত্ব পালনকালে চসিকের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

শ্রী হরিশ কুমার চট্টগ্রামের উন্নয়নে মেয়রের গৃহীত উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মেয়র মহোদয় সহকারী হাইকমিশনারকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেন।