খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনাকে ডুবিয়েছেন ‘গ্যাং অব ফোর’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৪, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ
শেখ হাসিনাকে ডুবিয়েছেন ‘গ্যাং অব ফোর’

‘আমি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারব না’; ‘আমি আত্মগোপনে আছি, ফোনে কথা বলতে পারি’; ‘নিরাপদ কোনো স্থানে আমি আপনার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করব’; ‘আপনার গতিবিধি নজরদারি করা হবে, তাই আমি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারব কি না, জানি না’।

এগুলো ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ তাঁর দল আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা–কর্মী ও সাবেক সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সদস্যদের পাঠানো কিছু বার্তা; যা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পেয়েছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস গত এক সপ্তাহে এই ব্যক্তিদের কারও কারও সঙ্গে অজ্ঞাত স্থানে দেখা করতে এবং বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিশোধের শিকার হওয়ার শঙ্কায় আত্মগোপনে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হয়েছে।

এই ব্যক্তিদের অভিন্ন কথা, ‘শেখ হাসিনা দল ও জনগণকে পরিত্যাগ করেছেন।’ তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘আপা (হাসিনা) আমাদের ছেড়ে গেছেন।’

আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, নির্যাতন, পুলিশের নিষ্ঠুরতায় জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তা আমরা বুঝছিলাম। বিএনপিকে নির্বাচনী তরিতে ওঠানো গেলে সেই ক্ষোভ হয়তো থামানো যেত। তাতে আমরাই আবার জিততে পারতাম এবং দল ক্ষমতায় থাকত।

নেতা–কর্মীদের পরিত্যাগ করে শেখ হাসিনার চলে যাওয়ার একই অনুভূতি শেয়ার করছেন আরও অনেকেই। ৫ আগস্টের ঘটনাবলি তাঁরা আগে থেকে আঁচ করতে পারেননি। সেদিন শেখ হাসিনা তাঁর বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ ভারতে রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য, এমনকি ঘনিষ্ঠ সহযোগীদেরও ‘পুরোপুরি বিস্মিত’ করেছে। এক নেতা বলেন, ‘আমরা টেলিভিশনের খবর থেকে এটা জানতে পারি।’

শেখ হাসিনার দেশত্যাগে বিপদে নেতা–কর্মীদের জীবন
এভাবে শেখ হাসিনার চলে যাওয়ার ঘটনা আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের জীবন বিপদের মধ্যে ফেলেছে। ‘বিক্ষোভকারী, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এবং সুযোগসন্ধানীরা’ আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়গুলো নিশানা বানান। করা হয় অগ্নিসংযোগ, লুট; চালানো হয় ভাঙচুর।

আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘(৫ আগস্ট শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর) আমরা একটা সময়ই শুধু বাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাই। সেটি সেনাপ্রধান যখন বেলা তিনটার দিকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ও মানুষ তা শুনতে টেলিভিশনের পর্দায় নজর রাখছিলেন।’

চারজনের এই দল তাঁর (হাসিনা) পতনে নেতৃত্ব দিয়েছে। এই ব্যক্তিদের ওপর তাঁর ছিল অন্ধবিশ্বাস। তাঁর যে সহজাত রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিল, তা তিনি তাঁদের কারণে হারিয়েছেনঃ আত্মগোপনে থাকা একজন আওয়ামী লীগ নেতা

আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে শেখ হাসিনার সরকার বিরোধী দলের নেতাদের নিশানা করে, কারাগারে পাঠায়, মারধর করে, ভয়ভীতি দেখায় ও হয়রানি করে। কিন্তু পরে হঠাৎই পরিস্থিতি উল্টে যায়।

সাম্প্রতিকতম ঘটনার (শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ) খানিকটা পেছনে তাকালে দেখা যাবে, ঘটনাপ্রবাহে কেউ কেউ (হাসিনা সরকারের) বিশেষ করে গত জুলাইয়ে শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পরে ৩–৪ আগস্ট ছাত্র–জনতা রাস্তায় নেমে আসেন। ৫ আগস্ট বিক্ষোভকারীরা কারফিউ ভাঙেন। সেদিনই সরকারের পতন ঘটে।

‘গ্যাং অব ফোর’
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের জন্য আত্মগোপনে থাকা ওই নেতাদের একজন দলের অভ্যন্তরীণ একটি স্বার্থগোষ্ঠীকে দায়ী করে বলেছেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) আমাদের কথা শোনেননি।’ এই গোষ্ঠীকে ‘গ্যাং অব ফোর’ বলে আখ্যায়িত করেন নেতাদের একজন। তিনি বলেন, গোষ্ঠীটি শেখ হাসিনাকে বাস্তব অবস্থা বুঝতে দেয়নি।

এই চার নেতা হলেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ (জয়), বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

আওয়ামী লীগের ওই নেতা বলেন, ‘চারজনের এই দল তাঁর (হাসিনা) পতনে নেতৃত্ব দিয়েছে। এই ব্যক্তিদের ওপর তাঁর ছিল অন্ধবিশ্বাস। তাঁর যে সহজাত রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিল, তা তিনি তাঁদের কারণে হারিয়েছেন।’

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস গত এক সপ্তাহে এই ব্যক্তিদের কারও কারও সঙ্গে অজ্ঞান স্থানে দেখা করতে এবং বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিশোধের শিকার হওয়ার শঙ্কায় আত্মগোপনে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হয়েছে। তাঁদের অভিন্ন কথা, ‘শেখ হাসিনা দল ও জনগণকে পরিত্যাগ করেছেন।’

বিএনপিকে নির্বাচনে না আনা ‘বড় ভুল’
এ বছরের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিএনপিকে না আনা শেখ হাসিনার একটি ‘বড় ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

সূত্রগুলো বলেছে, আওয়ামী লীগের কিছু নেতা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে লন্ডনে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন।

একটি সূত্রের ভাষ্যমতে, ‘আড়ালে থাকা একটি চ্যানেলের মাধ্যমে প্রস্তাবও দেওয়া হয় (বিএনপিকে নির্বাচনে আনার)। আমাদের ধারণা, তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় চ্যানেলটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের এক বছর আগেই ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়…কিন্তু শেখ হাসিনা ওই প্রস্তাবে সবুজসংকেত দেননি।’

আওয়ামী লীগের একজন নেতার বক্তব্য, বিএনপি চেয়ারপারসনের ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার বিষয়টি শেখ হাসিনার প্রত্যাখ্যান করা ছিল ‘সাংঘাতিক ভুল’। কেননা, একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিএনপিকে নির্বাচনে আনা গেলে বিরোধীদের রাগ–ক্ষোভ হয়তো মিটে যেত।

ওই নেতা আরও বলেন, ‘দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, নির্যাতন, পুলিশের নিষ্ঠুরতায় জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তা আমরা বুঝছিলাম। বিএনপিকে নির্বাচনী তরিতে ওঠানো গেলে সেই ক্ষোভ হয়তো থামানোও যেত। তাতে আমরাই আবার জিততে পারতাম এবং দল ক্ষমতায় থাকত।’

নেতা–কর্মীরা মনে করেন, বিশেষ করে গত জানুয়ারির নির্বাচনে জেতার পর শেখ হাসিনা আরও একগুঁয়ে হয়ে ওঠেন ও কোনো পরামর্শ শোনেননি। এ প্রসঙ্গে ওই নেতা বলেন, ‘টানা চতুর্থবার জিতে তিনি (হাসিনা) অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন এবং কোটা সংস্কার নিয়ে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনে সৃষ্ট ক্ষোভের মাত্রা বুঝতে ব্যর্থ হন।’

সূত্রগুলো বলেছে, কৌশলে কিছু নেতা শেখ হাসিনাকে জুলাইয়ের শুরুতে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। (হাসিনা সরকারের) কফিনে শেষ পেরেকটি বসে তখন, যখন একই মাসে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা ছাত্রনেতাদের তুলে নিয়ে যান এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ও আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহারে জোরপূর্বক প্রতিশ্রুতি আদায় করে ছেড়ে দেন।

এ কৌশল হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। কর্মসূচি প্রত্যাহারে কীভাবে জোরপূর্বক প্রতিশ্রুতি আদায় করা হয়েছে, ছাত্রনেতারা সেই বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে দেন। এটি পরপর কিছু ঘটনার সূত্রপাত ঘটায় এবং শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

শেখ হাসিনার পতনের পর জীবনাশঙ্কায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা–কর্মী ও বুদ্ধিজীবী দেশজুড়ে বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নেন।

আশ্রয় নেওয়া এই ৬২৬ জনের মধ্যে ছিলেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতা, ৫ জন বিচারক, বেসামরিক প্রশাসনের ১৯ কর্মকর্তা, ২৮ পুলিশ কর্মকর্তা, বিভিন্ন পদের ৪৮৭ জন পুলিশ সদস্য, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাসহ নানা পেশার ১২ জন ও ৫১টি পরিবার।

ঘটনাচক্রে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টাকালে আটক হন শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা আত্মগোপন করেছেন, কেউবা গ্রেপ্তার হয়েছেন। নেতারা বলছেন, ৭৫ বছরের পুরোনো যে দল টানা ১৫ বছরের বেশি দেশ শাসন করেছে, তারাই এখন অস্তিত্ব সংকটে।

এদিকে দল গোছানোর ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের প্রথম পদক্ষেপ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের একজন বলেন, ‘দলকে পুনর্গঠনে তাঁকে (হাসিনা) তৃণমূল পর্যায়ের লোকজন বাছাই করতে হবে, তাঁদের মধ্যে থাকবেন কিছু তরুণ আওয়ামী নেতা; মাঠপর্যায়ে যাঁদের ব্যাপারে মানুষের আস্থা আছে, লোকজনের সঙ্গে যাঁদের যোগাযোগ আছে এবং অবশ্যই পরিবারের (হাসিনা) প্রতি অনুগত…এ যাত্রা দীর্ঘ হবে।’

এ নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের শক্ত ঘাঁটি ও কর্মী বাহিনী রয়েছে। অনেকে বিপথগামী হয়েছেন, যেমনটা ঘটেছে সুবিধাবাদীদের ক্ষেত্রে। সমর্থকদের মধ্যেও এমনটা থাকবে। কিন্তু আমাদের অন্তত এমন কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী থাকা দরকার; যাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে ও নির্বাচন যখনই হোক, তাতে অংশ নেবে। এখন এটাই প্রয়োজন।’

এ পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরার বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রুহুল কবির রিজভীর মতো কয়েকজন নেতার ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করেন তিনি। বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকাকালে ও তারেক রহমান বিদেশে অবস্থানকালে বিএনপির দুর্গ সামলেছেন তাঁরা।

দেশে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগবিরোধী মনোভাব বিরাজ করায় শেখ হাসিনার পরিবার ও এর উত্তরসূরি সজীব ওয়াজেদ জয়ের খুব কম বক্তব্য-বিবৃতি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন দলটির নেতারা।

আওয়ামী লীগের নেতাদের একজন বলেন, ‘লোকজন এখনো ক্ষেপে আছেন। আমাদের পক্ষ থেকে তাঁদের সময় দিতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার বা বিএনপি কিংবা জামায়াতের নেতৃত্বাধীন সরকার যে–ই কয়েকটা বছর ক্ষমতায় থাকুক, আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের আবার সংগঠিত হওয়ার কথা ভাবতে হবে।’

Feb2

সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলীয় আসন সংখ্যার অনুপাতে জোটটি মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ তালিকাটি প্রকাশ করেন।

জামায়াতের আট নারী যাচ্ছেন সংসদে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যাচ্ছেন দুজন। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজনকে নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হচ্ছে এই জোট থেকে।

প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— নুরুন্নিসা সিদ্দীকা (সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), মারজিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী (আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি), নাজমুন নাহার নীলু (প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি), অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান (কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি, সিলেট মহানগরী), সাজেদা সামাদ (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা), শামছুন্নাহার বেগম (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা), ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ (কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, নারী অধিকার আন্দোলন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মনিরা শারমিন (কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক) ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু (কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব) এনসিপি। ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (সভাপতি, জাগপা) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং রোকেয়া বেগম (জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে। সেই অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি জোট ৩৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। দলের পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থীদের এরই মধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো জুলাই বিপ্লবে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী শিশু জাবির। তার মায়ের এই মনোনয়নকে জোটের পক্ষ থেকে একটি সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় হওয়ায় আজ রাতেই সব শরিক দল চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। খাল খনন করতে পারলে বন্যার সময় মানুষ, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল রক্ষা করা যাবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে চৌকিদহ খালটা কাটলাম। এখানে যদি কোনো মুরুব্বি থাকেন- যাদের বয়স ৬০-৭০ এর বেশি, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, এই খালটা আমার আব্বা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে কেটেছিলেন। এই খালটা আমরা কাটলাম, প্রায় এক কিলোমিটার মতো লম্বা। এই খালটা কাটার ফলে বর্ষার সময় অতিবৃষ্টিতে আশেপাশে যে পানি উঠে, তা এখানে জমা হবে। আবার শুকনা মৌসুমে যখন পানি পাওয়া যায় না, তখন এই খালে পানি থাকলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদের জন্য পানি পাবে। অর্থাৎ এলাকার মানুষের উপকার হবে।

স্থানীয়দের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলুন আমরা এই খালটা পুনঃখনন করি, পানি ফিরিয়ে আনি। খালের দুই পাশে গাছ লাগাই। খালের মধ্যে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটাও দেখা হবে- যাতে এলাকার বেকার তরুণরা কাজ পায়। মা-বোনেরাও পাশে শাকসবজি চাষ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ যেমন পানির কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। তাই খাল খনন জরুরি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। এই খাল কাটাসহ যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যেন সফল হয়-সেজন্য দোয়া করবেন। এটা তো নিজের বাড়ি, ঘরের লোকজন। কয়েকদিন পর আবার আসবো ইনশাআল্লাহ।

এর আগে দুপুর ২টায় নিজ জন্মভূমি বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে পৌঁছালে খালের দুই পাড়ে অবস্থান নেওয়া হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

খাল খনন কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তাই সিরিজ হার ঠেকাতে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না স্বাগতিকদের। মিরপুরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কোনো ভুল করলেন না মেহেদী হাসান মিরাজরা। নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৯৮ রানে থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। জবাবে ৮৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

১৯৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই চার হাঁকান বাংলাদেশের ওপেনার সাইফ হাসান। একই ওভারে আরও একটি চার মারেন তিনি। কিন্তু ৬ বলের বেশি খেলতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার। প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৮ রান।

এরপর ক্রিজে আসেন সৌম্য সরকার। নিজের খেলা প্রথম বলেই দুই রান নেন সৌম্য। এরপর দেখে-শুনে খেলার ইঙ্গিত দিচ্ছিলো সৌম্যর ব্যাট। কিন্তু ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাঁকান এক দুর্দান্ত ছক্কা। একই ওভারের শেষ বলে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন সৌম্য। তার ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ৮ রান।

তৃতীয় উইকেটে ব্যাট করতে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে নিয়েই দলীয় স্কোর বড় করতে থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দুজন মিলে গড়েন ১২০ রানের জুটি। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এই দুই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পান। তবে জয় নিয়ে ফিরতে পারেননি দুজনের কেউই।

জেইডেন লেনক্সের করা বলে কটবিহাইন্ড হওয়ার আগে ৭৬ রান করেন তিনি। মাত্র ৫৮ বলে খেলা ইনিংসটি ১০টি চার ও চারটি ছয়ে সাজানো। শান্ত অবশ্য আউট হননি। রিটায়ার্ট হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৭১ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৫০ রান করেন তিনি।

এর আগে মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয় বাংলাদেশ। দুটি উইকেটই নেন নাহিদ। অষ্টম ওভারে হেনরি নিকোলসকে ১৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশি পেসার। পরের ওভারেও প্রথম বলে তিনি উইল ইয়াংকে (৭) সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান তিনি। পরে সৌম্য সরকার তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম লাথামের উইকেট। ৩৫ বলে ১৪ রান করেন তিনি।

৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস ৫৬ রানের জুটি গড়েন। ২৭তম ওভারের শেষ বলে ফিফটি করেন কেলি। আব্বাসকে ১৯ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। উড়ন্ত ক্যাচে তাকে ফেরান লিটন। কেলি সেঞ্চুরির বেশ কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। শরিফুল ইসলাম তাকে ৮৩ রানে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান। কিউই ওপেনারের ১০২ বলের ইনিংসে ছিল ১৪ চার।

সেট ব্যাটার আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ডিন ফক্সক্রফট ১৫ রান করে নাহিদের শিকার হন। ব্লেয়ার টিকনারকে বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেনের ক্যাচ বানান শরিফুল।

নিজের শেষ ওভারে নাহিদ পঞ্চম উইকেট তুলে নেন। জেইডেন লেনক্স খালি হাতে ফেরেন বাংলাদেশি পেসারের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে। ১৮৩ রানে ৯ উইকেট তোলার পর নিউজিল্যান্ডকে দুইশর মধ্যে আটকানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কাভারে নাথান স্মিথের কঠিন ক্যাচ নিতে না পারার প্রায়শ্চিত্ত কিছুক্ষণ পরই করেন তাওহীদ হৃদয়। তাসকিন আহমেদের বলে উইলিয়াম ও’রোর্কের ক্যাচ নেন তিনি। ৪৮.৪ ওভারে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।