খুঁজুন
শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ব্যাংক চালিয়েছেন সালমান ও এস আলম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৪, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ ব্যাংক চালিয়েছেন সালমান ও এস আলম

দেশের আর্থিক খাতের মূল নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মুদ্রা সরবরাহ, মূল্যস্ফীতি ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বৈদেশিক মুদ্রার বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বও বাংলাদেশ ব্যাংকের। গত ১৫ বছর এই সংস্থাটিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর নিয়োগ, নির্বাহী পরিচালকদের পদায়ন থেকে শুরু করে সবরকম নীতিমালা প্রণয়ন প্রভাবশালী এ দুই ব্যবসায়ীর ইশারায়। এ ক্ষেত্রে আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী ছিলেন তাদের সহায়ক। এক কথায় দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় মাফিয়াদের হাতে। আর সুযোগ বুঝে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা নামে-বেনামে বের করে নিয়েছেন তারা। এর বড় অংশই বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গা ঢাকা দিয়েছেন আলোচিত এই ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে নৌপথে পালাতে গিয়ে ধরা পড়েছেন সালমান এফ রহমান।

বিগত সরকারের সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা মূল্যায়ন করে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ডক্টর জাহিদ হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘গত কয়েক বছর দেশের ব্যাংক খাতে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক তার দায় এড়াতে পারে না। বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সার্কুলার জারি করে অনিয়ম-দুর্নীতির বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এটা খুবই দুঃখজনক। বাংলাদেশ ব্যাংক যদি চেষ্টা করত হয়তো অনেক অনিয়ম ঠেকাতে পারত। আবার অনেক ক্ষেত্রেই হয়তো রাজনৈতিক প্রভাব বা হস্তক্ষেপের কারণে অনিয়ম ঠেকাতে ব্যর্থ হতো। তার পরও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা অনিয়ম ঠেকাতে চেয়েছিলেন কি না—সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’

জানা গেছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর শুরু হয় ব্যাংক দখল ও লুটপাটের ধারা। আওয়ামী লীগ শাসনামলের শুরুতে ২০০৯ সালের ১ মে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড. আতিউর রহমান। দায়িত্বের প্রথম মেয়াদে তেমন কোনো অভিযোগ না থাকলেও দ্বিতীয় মেয়াদে সমালোচনার মুখে পড়েন এই অর্থনীতিবিদ। বিশেষ করে গণমাধ্যমে অতিপ্রচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের কারণে বিতর্কিত হন তিনি। এসএমই ঋণ বিতরণের নামে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহর নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল কাজ বাদ দিয়ে তার এসব সফরে ব্যাংকগুলোকে গেট, পোস্টার, ফেস্টুন তৈরিতে বাধ্যও করেছেন তিনি। সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভারে ঢুকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি করে নেয় হ্যাকাররা। ভয়াবহ ওই ঘটনা সরকারের কাছ থেকে ২৪ দিন লুকিয়ে রাখেন গভর্নর। এর জেরে ওই বছরের ১৫ মার্চ গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, আতিউর রহমান দায়িত্বে থাকা অবস্থায়ই এস আলম গ্রুপ নামে-বেনামে দেশের বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে সে সময় ব্যাংকটি দখলে বাধা দেন গভর্নর। তার যুক্তি ছিল, এই ব্যাংক বিপদে পড়লে দেশের আর্থিক খাত পুরোটাই বিপদে পড়বে। এজন্য এস আলম গ্রুপের চক্ষুশূল হয়েছিলেন তিনি। ওই সময় সরকারে সঙ্গে আঁতাত করে নিয়োগ পাওয়া এস আলমের বিশ্বস্ত ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

গভর্নর নিয়োগে হস্তক্ষেপ ও নীতিমালা পরিবর্তন:তথ্য বলছে, আতিউর রহমান পদত্যাগ করায় ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ দেশের ১১তম গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান ফজলে কবির। সালমান এফ রহমান ও সাইফুল আলমের (এস আলম) পরামর্শেই তাকে সে সময়ে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিদান হিসেবে তিনি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এস আলমকে ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ অন্তত পাঁচ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে নিতে সহায়তা করেন। অবশ্য নির্বিঘ্নে ব্যাংক দখল ও সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা বের করার সুযোগ করে দিতে একের পর এক নীতি পরিবর্তন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপার ভিশন, ব্যাংকিং রেগুলেশন, বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি এবং পরিদর্শন বিভাগগুলো অন্তত অর্ধশত সার্কুলার পরিবর্তন করেছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই বিষয়ে সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন নীতিমালা করতেও দেখা গেছে। এস আলম, বেক্সিমকোসহ বড় গ্রুপগুলোকে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার কারণে ২০২০ সালে সর্বসম্মতিক্রমে দ্বিতীয় মেয়াদে ফের গভর্নর হন ফজলে কবির। এক্ষেত্রে তাকে নিয়োগ দিতে গভর্নরের সর্বোচ্চ বয়সসীমায়ও পরিবর্তন আনা হয়। ২০২০ সালের ১৫ জুলাই গভর্নরের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ করা হয়। ফজলে কবির তার দায়িত্ব থাকা অবস্থায় দেশের বড় গ্রুপগুলোকে সুবিধা দিতে অন্তত ৩১টি সার্কুলার দিয়েছেন। দেশের আর্থিক খাতের সুবিধার বিপরীতে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকায় আলিশান সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পাওয়া জমিতে একটি শিল্প গ্রুপ আলিশান বাড়ি তৈরি করে দিয়েছে। এ কাজের সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমান।

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারকে একাধিকবার ফোন করা হলে প্রতিবারই তার নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানো হলেও কোনো জবাব দেননি।

লুটপাটের অংশীদার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারাও:

এস আলম, সালমান এফ রহমানসহ বড় গ্রুপগুলো শুধু গভর্নরকেই কিনে নেননি। এই কাজে সহায়তার জন্য তারা নিয়োগ দিয়েছেন একের পর এক ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালক। ডেপুটি গভর্নরদের তালিকায় আছেন সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী, এস এম মনিরুজ্জামান, আহমেদ জামাল, কাজী ছাইদুর রহমান, আবু ফারাহ নাসের ও খুরশিদ আলম। এদের মধ্যে এস কে সুর চৌধুরী এবং মনিরুজ্জামান এরই মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত। এ ছাড়া ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা কাজী ছাইদুর রহমান, আবু ফারাহ নাসের ও খুরশিদ আলমকে পদত্যাগে বাধ্য করেছেন।

শুধু ডেপুটি গভর্নররাই নন, এই তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান অন্তত অর্ধশত নির্বাহী পরিচালক। ভয়াবহ লুটপাট, স্বেচ্ছাচারিতা আর জাতীয় নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়ায় সম্প্রতি ডেপুটি গর্ভনরের খুঁজে গঠিত সার্চ কমিটির কাছে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তারা হলেন নির্বাহী পরিচালক দেবদুলাল রায়, মেজবাউল হক ও আনোয়ারুল ইসলাম। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান নির্বাহী পরিচালকদের অন্তত অর্ধডজন কর্মকর্তা এস আলম ও সালমান এফ রহমানকে সহায়তা দিতে কাজ করেছেন।

পাচারের পথও ছিল উন্মুক্ত:

দেশের অর্থপাচার ঠেকানোর দায়িত্বে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তা মাসুদ বিশ্বাস থেকে শুরু করে অন্তত একডজন কর্মকর্তা এস আলম, সালমান এফ রহমানসহ শীর্ষ ব্যবসায়ীদের দ্বারা সুবিধাভোগী। তাদের থেকে সুবিধা দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েকশ কোটি টাকা। তাদের বিরুদ্ধে উঠেছে অর্থ পাচারে সহায়তা ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ। এমনকি পাচার ঠেকানোর দায়িত্বে থাকা সংস্থাটির কর্মকর্তারা উল্টো অর্থ পাচারে সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগ আছে। বেক্সিমকো, নাসাসহ রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন প্রভাবশালী গ্রুপের অর্থ পাচারের সময় সম্পূর্ণ চুপ ছিল বিএফআইইউ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে দেওয়া লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপ এবং নজরুল ইসলাম মজুমদারের নাসা গ্রুপের সন্দেহজনক লেনদেন কখনো তদন্ত করা হয়নি। একজন অতিরিক্ত পরিচালক এবং বিএফআইইউ প্রধান তারা নিজেরাই গ্রুপ দুটির লেনদেন দেখভাল করতেন। সে কারণে এসব কেস কেউ তদন্ত করার সাহস পেতেন না। অর্থাৎ বেক্সিমকো এবং নাসা গ্রুপের অর্থ পাচারে বিএফআইইউর নীরব সায় ছিল। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচার ঠেকানো তো দূরে থাক; ন্যূনতম চেষ্টাও করেনি বিএফআইইউ। বরং দেখা গেছে উল্টো চিত্র।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, বিএফআইইউর তিনজন অতিরিক্ত পরিচালক, দুজন যুগ্ম পরিচালক এবং একজন উপপরিচালক বিভিন্ন সময়ে শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের থেকে ঘুষের মাধ্যমে অনিয়মে সহায়তা করেছেন। সহায়তা করেছেন অর্থ পাচারেও। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করে হয়রানিসহ ঘুষ দাবি করেছেন। ঘুষ না দিলে দুদকে অভিযোগ পাঠানোসহ নানাভাবে হেনস্তার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

 

Feb2

দুবাইতে উত্তর সর্তা জাগরণী ক্লাব প্রবাসী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
দুবাইতে উত্তর সর্তা জাগরণী ক্লাব প্রবাসী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ১নং হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর সর্তা জাগরণী ক্লাব প্রবাসী পরিষদের ঈদ পুনর্মিলনী ও অভিষেক অনুষ্ঠান দুবাই ইন্টারন্যাশনাল সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে 

শুক্রবার (২৯ মে) বাদে মাগরিব মহিউদ্দিন মাহফুজ এর সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মোঃ রফিক উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মোঃ ওসমান আলী সি আই পি।

বক্তব্য রাখেন প্রবাসী পরিষদের সভাপতি ইয়াহিয়া খান, প্রবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাবিব উল্লাহ। অন্যান্যদের মাঝে আরও বক্তব্য রাখেন- মৌলানা মনছুর, ইলিয়াস রেজা, সাংবাদিক এম আবদুল মান্নান, মোহাম্মদ আসলাম, মোহাম্মদ বেলাল, মাওলানা আলী রেজা, মোহাম্মদ বখতেয়ার, শফিক সিকদার, মোহাম্মদ ফিরোজ, মোহাম্মদ আজম খান, ইকবাল সেলিম, মোঃ ইলিয়াস আলী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা এলাকার সার্বিক কল্যাণে সকলকে আরো এগিয়ে আসার আহবান জানান। পরিশেষে দেশ, জাতি, প্রবাসী ও এলাকাবাসীর কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, গেল ২৭ মে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়টি নবজাতক শিশু মারা গেছে। এ ঘটনাটিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি, তাদের তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। আজ বিকেল ৩টায় সেই প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি দেখেছে যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভবনটি একটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযোগী না। তদন্ত কমিটি পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষনম্বর-২ পরিদর্শন করেছে। তাদের কাছে মনে হয়েছে, কক্ষটিতে দীর্ঘসময় এসি বন্ধ থাকায় ও স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন কার্যক্রম না থাকায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের মাত্রার ঘাটতি হয়েছে। পাশাপাশি, কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কক্ষের দায়িত্বরত সব সেবিকা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মৃত নবজাতকদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তাতে প্রমাণ পেয়েছে যে সেবিকাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল।

‘নবজাতকের আকস্মিক শারীরিক অবনতির অবস্থায় হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না। অভিভাবকদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সংশ্লিষ্ট নার্স কোনো চিকিৎসককে বিষয়টি অবহিত করেনি। বরং কালক্ষেপণ করতে থাকে এবং নবজাতকের মৃত্যুরোধের উপযুক্ত যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি’—বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কক্ষটি ৯০০ বর্গফুটের। যেখানে ১১ জন রোগী, নবজাতক ও রোগীর লোকসহ প্রায় ৫০ জনের উপস্থিতি ছিল। যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রমাণ পেয়েছে, তারা একটি হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্তগুলো পালনে সক্ষম ছিল না। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড দুইয়ে রোগীদের দেখাশোনার কোনো চিকিৎসক ছিল না। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেবিকাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছিল না। কক্ষটিতে আলো-বাতাস চলাচলের ভেন্টিলেশনের জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। কক্ষটিতে অতিরিক্ত লোকজনের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা হবে বলেও জানিয়েছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে অনেক রোগী আছে। আমরা সেটা বন্ধ করে দিতে পারি না। তবে, আইন অনুসারে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আগামী রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

‘বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে বক্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
‘বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে বক্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামলা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শিলিগুড়ি সাইবার থানায় রিংকি চ্যাটার্জি সিং নামে এক আইনজীবী এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা, জনসমাবেশ এবং গণমাধ্যমের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা, সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি অভিযোগকারীর।

অভিযোগে সিং দাবি করেছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন জনসভা, রাজনৈতিক মঞ্চ এবং গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি (মমতা ব্যানার্জি) ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বেশ কিছু উসকানিমূলক ও উগ্র মন্তব্য করেছেন। অভিযুক্ত প্রকাশ্যে এই ধরনের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা, নিরপেক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের প্রতি জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস ও অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগে গত ২ জুন একটি রাজনৈতিক মঞ্চে করা মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা ও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২ জুন রানি রাসমণি স্মরণে একটি রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে অভিযুক্ত দাবি করেন— ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার গোপন আলোচনা হয়েছিল। এরপর তিনি ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে অভিযোগ তোলেন। এই ধরনের অভিযোগ প্রকাশ্যে জনগণ ও গণমাধ্যমের সামনে করা হয়েছিল, যার স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক মহলে ভারত সরকারের ভাবমূর্তি ও নির্ভরযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা এবং দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করা।

মামলার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গত ২ জুন কলকাতার ধর্মতলা এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া মমতার বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সমাবেশে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যা মামলার এক অভিযুক্ত মেঘালয় সীমান্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করলে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযোগকারী রিংকি চ্যাটার্জি সিং দাবি করেন, মমতার এই বক্তব্য পরোক্ষভাবে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি বিদেশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে।

তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জনসমক্ষে এমন মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

এদিকে এক সপ্তাহ আগে কলকাতায় একটি ঈদ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ করা হয়। সেখানে সনাতন ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীর দাবি, ওই বক্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় করা সর্বশেষ অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ধর্মতলার সমাবেশে সেই বক্তব্যে মমতা বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক ‘রেভোল্যুশন’ হয়েছিল।…মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে।…আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে।…তারপর হোম মিনিস্টার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিজে আমাকে ফোন করে বলেছেন…এত দিন তো কই আমি বলিনি, মুখ খুলিনি…আজকে অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন বলে…আমি এখনো নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে, আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি…।’