খুঁজুন
শুক্রবার, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধু’র জন্মশতবর্ষের ক্ষণগণনা উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২০, ১১:১১ অপরাহ্ণ
বঙ্গবন্ধু’র জন্মশতবর্ষের ক্ষণগণনা উদ্বোধন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবাষির্কী উপলক্ষে বছরব্যাপী মুজিব বর্ষ উদযাপনের জন্য আজ ক্ষণগণনার উদ্বোধন করেছেন। পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের এই দিনে দেশে ফিরে আসেন।

প্রধানমন্ত্রী নগরীর পুরাতন বিমান বন্দরে আয়োজিত এক বণার্ঢ্য অনুষ্ঠানে মুহূর্তটিকে বঙ্গবন্ধু’র ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসাবে উৎসর্গ করে বলেন, ‘আমি ক্ষণগণনার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।’ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে তাঁর স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম পা রাখেন এই স্থানেই।

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা ও নাতি সজীব ওয়াজেদ জয় এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণ জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বে মযার্দার আসনে অধিষ্ঠিত করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের হাতে বিজয়ের মশাল তুলে দিয়েছেন, আমরা এখন এই বিজয় নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের দখলদারিত্ব থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার কয়েক সপ্তাহ পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ব্রিটিশ রাজকীয় এয়ার ফোর্সের একটি বিমানে করে লন্ডন থেকে নয়াদিল্লী হয়ে দেশে ফিরে তেজগাঁওয়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করেন।

বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী বিমানের অনুরূপ একটি বৃটিশ সি-১৩০জে বিমান সম্প্রতি সংগ্রহ করা হয়। এটি বিমানবন্দরের টারমাকে স্থাপন করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু হাত নেড়ে এগিয়ে আসছেন লেজার লাইট প্রক্ষেপণের মাধ্যমে তার অনুকরণ করা হয়।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেছিলেন সেদিন বাজানো সন্ধ্যা মুখার্জির গান -‘বঙ্গবন্ধু ফিরে এলে তোমার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলায়, তুমি আর ঘরে ঘরে এত খুশি তাই,’ গানটি অনুষ্ঠানে মাইকে বাজানো হয়।

পাশাপাশি জনতার মধ্য থেকে জাতীয় পতাকা নেড়ে প্রতীকী বিমানকে স্বাগত জানানো হয়।
এই আয়োজনে প্রতীকী বিমান অবতরণ ছাড়াও রয়েছে আলোক প্রক্ষেপণে বঙ্গবন্ধুর অবয়ব তুলে ধরা, ২১ বার তোপধ্বনি ও সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর চৌকশ দলের গার্ড অব অনার প্রদান।

১৯৭২ সালে যেভাবে এদেশের সংগ্রামী জনতা বঙ্গবন্ধুকে বরণ করে নিয়েছিল, প্রতীকীভাবে সেই ক্ষণটিও ফুটিয়ে তোলা হয়, ওড়ানো হয় এক হাজার লাল-সবুজ বেলুন এবং অবমুক্ত করা হয় একশ’টি সাদা পায়রা।

প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর (১৯৭১) বিজয় লাভের পর থেকে জাতি বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের জন্য অধীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছিল।

তিনি আরো স্মরণ করেন যে, সেদিন তাঁর মাতা, ছোট বোন এবং তিনি নিজে তাঁদের বাসায় বসে ঐতিহাসিক মুহূর্তটির ধারাবিবরণী রেডিওতে শুনছিলেন। কারণ, তারা তাঁর ছোট পুত্র জয় এবং ছোট ভাই রাসেলকে রেখে কোথাও যেতে পারছিলেন না।

সেদিন পকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসার সময় বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী ছিলেন ড. কামাল হোসেন। ড. কামাল হোসেন ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রায় ২,০০০ অতিথি এবং ১০,০০০ দর্শকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

এর পরপরই জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। এসময় মঞ্চে তাঁর পাশে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা এবং ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ছোট বোন শেখ রেহানা।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগ,সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট নাগরিক বৃন্দ, বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং গণমাধ্যমের সম্পাদক এবং জেষ্ট্য সাংবাদিকবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ড. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এই দিন বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটের দিকে বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ ‘সি-১৩০জে মডেলের’ উড়োজাহাজ প্রতীকী হিসেবে পুরানো বিমানবন্দরের (তৎকালিন তেঁজগাঁও বিমানবন্দর) রানওয়েতে অবতরণ করে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বিকালে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের এরকম একটি উড়োজাহাজে করেই এসেছিলেন জাতির পিতা।

বিমানটি ধীরে ধীরে এসে টারমাকে অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে এসে থামে। এ সময় বাজানো হয় সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠের সেই গান- ‘বঙ্গবন্ধু ফিরে এলে তোমার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলায়’।
বিমানটি টারমাকে পৌঁছানোর পর দরজা খোলা হলে ২১ বার তোপধ্বনি দেওয়া হয়। ‘জয়বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারিদিক। লেজার লাইটের মাধ্যমে বিমানের দরজার ফুটিয়ে তোলা হয় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। পুষ্পবৃষ্টির মধ্যে সেই আলোকবর্তিকা ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এসে লাল গালিচার মাথায় ছোট্ট মঞ্চে এসে থেমে যায়। এরপর গার্ড অব অনারের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়।

বঙ্গবন্ধু যে আলোকবর্তিকা হয়ে সেদিন দেশে ফিরেছিলেন, তারই প্রতীকী উপস্থাপনা ছিল এ আয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০ জানুয়ারি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন। যেদিন আমরা ফিরে পেলাম সেই মহান নেতাকে যিনি বাংলার দু:খী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য সারাটা জীবন ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

তিনি ৭২’র ১০ জানুয়ারির স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল এখানে। স্বজন হারা বেদনার্র্ত আহত-নির্যাতিত মানুষ তাঁদের মহান নেতাকে ফিরে পেয়ে তাঁদের জীবনে যেন পূর্ণতা পেয়েছিলেন। হারাবার বেদনা যেন তাঁরা ভুলতে চেয়েছিলেন তাঁদের প্রাণপ্রিয় নেতাকে ফিরে পাওয়ার মধ্যদিয়ে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তানীরা বাধ্য হয়েছিল জাতির পিতাকে মুক্তি দিতে। কারণ প্রায় প্রতিটি দেশের জনগণই আমাদের মুক্তিকামী জনগণের পাশে ছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশ ভারত সহ যে সকল দেশ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা দিয়েছিল, শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিল, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং এবং অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছিল এবং জাতিসংঘে যারা আমাদের সমর্থন দিয়েছিলেন তেমন সকল দেশের সকল জনগণের প্রতি আমি আমার শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’

‘১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে পরিবারের কথা না ভেবে জাতির পিতা চলে গিয়েছিলেন রেসকোর্সের ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)। তাঁর প্রিয় জনগণের কাছে চলে গিয়েছিলেন’ মর্মে স্মৃতিচারন করে তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের কবিতা-’সাত কোটি বাঙালির যে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করনি,’ উদ্বৃত করে বলেন,‘কবিগুরু দেখে যান আপনার সাত কোটি বাঙালি আজ মানুষ হয়েছে, তারা যুদ্ধে জয়লাভ করেছে।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে, পাকিস্তানীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারেনি, তাঁকে জীবন দিতে হয়েছিল বাংলার মাটিতে।’

জাতির পিতা হত্যাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে বাঙালির জীবনে যে কালো অধ্যায় নেমে এসেছিল তা যেন আর কোনদিন আসতে না পারে সেজন্য সকলকে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ আজ মানুষকে উজ্জীবিত করা আড়াই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ ভাষণের মধ্যে অন্যতম হিসেবে ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক প্রামাণ্য দলিলে স্থান করে নিয়েছে। আমাদের একটা অন্ধকার সময় ছিল। আজ আমরা সে অন্ধকার সময় কাটিয়ে আলোর পথে যাত্রা করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার পর মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচন ও ক্ষণগণনার উদ্বোধন করেন ল্যাপটপের বোতাম চেপে। প্রধানমন্ত্রীর হাতে লোগো তুলে দেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও জনপরিসরে ক্ষণগণনা শুরু হয়। দেশের ৫৩ জেলা, দুটি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশনের ২৮টি পয়েন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর ৮৩টি পয়েন্টে কাউন্টডাউন ঘড়ি বসানো হয়েছে।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর আগ পর্যন্ত এই ক্ষণগণনা চলবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো ও ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপন করবে। প্যারিসে অনুষ্ঠিত এর ৪০ তম সাধারণ পরিষদের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো বর্ষব্যাপী এই উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

বিশ্বের অনেক নেতা ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব বর্ষব্যাপী অনুষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসেফ এ আল-ওথাইমিন, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী, ভারতের কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান-কি-মুন, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক এবং ইউনেস্কোর সাবেক মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভো জন্মশতবাষির্কীর অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদেশে বাংলাদেশের ৭৭টি মিশন ২৬১টি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

সরকার মুজিব বর্ষের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিটি এবং একটি জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করেছে।

উদযাপন কমিটি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ব্যক্তির প্রস্তাবিত ২৯৯টির বেশী কর্মসূচির প্রস্তাব বাছাই করেছে যা বছরব্যাপী উদযাপন করা হবে।

Feb2

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: দেশজুড়ে পুলিশের সতর্কতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: দেশজুড়ে পুলিশের সতর্কতা

কার্যক্রমে নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশে পুলিশকে ‘প্রয়োজনীয় সতর্কতার’ পাশাপাশি ‘নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা’ নিতে নির্দেশনা দিয়েছে সদর দপ্তর।

আগামী ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ বিষয়ে একটি ‘জরুরি বার্তা’ পাঠানো হয়েছে।

দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি বরাবর পাঠানো ওই বার্তায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে দলটির ‘সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন’ করার কথা বলা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়, সেদিন দলটির তরফে দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারে।

এর ফলে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সাথে ‘সংঘর্ষ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে’।

পাশাপাশি তাদের কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপর ‘ক্ষুব্ধ হতে পারে’ বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে।

এ অবস্থায় এসব বিষয় গুরুত্বে নিয়ে ‘প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ’ করতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে ওই বার্তায়।

এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন থেকে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে সারা দেশে ওই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুক্রবার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, তারা এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন।

তবে তার ভাষ্য, “স্পেসিফিক কোন থ্রেট, আশঙ্কা কোনো কিছু নাই। আমরা সতর্ক আছি।”

তিনি বলেন, “সারা বছরে বিভিন্ন প্রোগ্রাম লেগেই থাকে। আমাদের সামনে বড় প্রোগ্রাম যেটা ১০ মহররম আশুরার প্রোগ্রাম। সাথে ২৩ জুন একটা দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। তো আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি।”

নগরবাসীকে নিরাপত্তা দিতে ‘বিগত দিনের মতই’ পুলিশের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বহাল থাকার কথা বলেন তিনি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, “আমরা নতুন করে পরিকল্পনা… নতুন করে নিরাপত্তা চেকপোস্ট এবং অপারেশন, এটা আমাদের অব্যাহত আছে এবং থাকবে।”

আন্দোলনের মুখে চব্বিশের ৫ অগাস্ট দেশে ছেড়ে ভারতে চলে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা।

এর তিন দিন বাদে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে একে একে গ্রেপ্তার হতে থাকেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্যরা। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে থাকা অন্যদলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

আওয়ামী লীগের বাকি জ্যেষ্ঠ নেতাদের অধিকাংশই রয়েছেন আত্মগোপনে। ফলে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তারা নেই।

আন্দোলন দমাতে শত শত মানুষকে হত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আওয়াম লীগ নেতাদের বিচার চলছে, আর সেই বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তবে মাঝেমধ্যে ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর আসে। এসব মিছিল থেকে কখনো ধরপাকড়ও করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশের

জাতিসংঘে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আরও কার্যকর বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে প্রতিমন্ত্রী ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।

দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে সবার আগে দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে সবার আগে দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছিল মেক্সিকো। আর দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের ধারা রইল অব্যাহত। সং হিউয়েন মিনের দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোল ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে নক আউট পর্বে জায়গা করে নিল বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা।

জাপোপানে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতে মেক্সিকোর খেলাতে ছিল না তেমন গতি। অন্যদিকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকেন সং হিউয়েন মিনরা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলা গতি বাড়িয়ে দেয় স্বাগতিকরা। কিন্তু প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সুবিধা করতে পারেনি কোনো দল। গোল শূন্য ব্যবধানেই বিরতিতে যায় দুদল।

বিরতি থেকে ফিরে গোল আদায় করে নিতে বেশিক্ষণ সময় নেয়নি মেক্সিকো। যদিও গোলটা এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সুং গিউয়ের ভুলে।

একটি ক্রস থেকে আসা বল ধরতে গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসেন কিম। কিন্তু নিজ দলের খেলোয়াড়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগার কারণে বলটি আয়ত্ব করতে পারেননি তিনি। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগান লুইস রিমো। আলতো করে টোকা দিয়ে বল পাঠান জালে। তাতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মেক্সিকো।

এরপর ম্যাচে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে লিড ধরে রেখে ১-০ ব্যবধানেই জয় তুলে নেয় স্বাগতিক মেক্সিকো।

এ জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে মেক্সিকো। তাতেই গ্রুপে তাদের অবস্থান সবার ওপরে। এদিকে সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে অবস্থান দক্ষিণ কোরিয়ার। এছাড়া একটি করে পয়েন্ট সংগ্রহ করে যথাক্রমে তিন ও চার নম্বরে অবস্থান করছে চেচিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।