খুঁজুন
, ,

গণত্রাণ কর্মসূচির আয়-ব্যয়ের হিসাব দিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 1 October, 2024, 11:09 pm
গণত্রাণ কর্মসূচির আয়-ব্যয়ের হিসাব দিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গৃহীত গণত্রাণ কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ অডিট ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট অনুযায়ী গণত্রাণ কর্মসূচিতে মোট আয় হয়েছে ১১ কোটি ৬৯ লাখ ৮৪ হাজার ৪২০ টাকা। ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৩৩ হাজার ২০৭ টাকা। বর্তমানে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৯ কোটি ৯১ লাখ ৫১ হাজার ২১৩ টাকা জমা রয়েছে।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অডিট প্রকাশ করা হয়।

অডিট ঘোষণা করেন পি কে এফ আজিজ হালিম খায়ের চৌধুরী চার্টার্ড অ্যাকাউন্টের পার্টনার এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অডিটর গোলাম ফজলুল কবির।

আয়ের উৎস:

নগদ প্রাপ্ত ৯ কোটি ৮৫ লাখ ১৫ হাজার ৭২৫ টাকা।
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাওয়া যায় ৭৮ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ টাকা। মোবাইল ব্যাংকিং এ প্রাপ্ত ৯৯ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬৯ টাকা। ডলার, স্বর্ণ, প্রাইজবন্ড ও অন্যান্য জিনিস বিক্রি বাবদ পাওয়া যায় ৬ লাখ ৬৭ হাজার ১১০ টাকা।

সর্বমোট আয় ১১ কোটি ৬৯ লাখ ৮৪ হাজার ৪২০ টাকা।

ব্যয়ের খাত:

রিলিফ কেনা বাবদ ১ কোটি ৩৭ লাখ ৯২ হাজার ১৩০ টাকা। অন্যান্য সংগঠনকে ডোনেশন বাবদ ১২ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা। পরিবহন খরচ বাবদ ৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। ভলান্টিয়ারদের পেছনে খরচ বাবদ ১২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯৭ টাকা প্যাকেজিং পণ্য কেনা বাবদ ১১ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। অন্যান্য খরচ ৩ হাজার ১২০ টাকা।
মোট খরচ ১ কোটি ৭৮ লাখ ৩৩ হাজার ২০৭ টাকা।

বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে ৯ কোটি ৯১ লাখ ৫১ হাজার ২১৩ টাকা।

গোলাম ফজলুল কবির বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা বিশেষ প্রয়োজনে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা নিয়েছিল। পরে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সেখানে ট্রান্সফার করা, মূল আয়-ব্যয়ের হিসেব স্বচ্ছ করতেই মূল হিসাব দিতে দেরি হয়েছে।

আয়-ব্যয়ে গরমিল ছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এমন কিছু খুঁজে পাইনি যেটা নিয়ে আমরা প্রশ্ন করব। তাদের আয়ব্যয় হিসাব স্বচ্ছ ছিল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, গত ৪ তারিখ আমরা ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত করার পরও তহবিলে টাকা যুক্ত হয়েছে। কিছু চেক যেগুলো শুরুতে কোনো কারণে ক্যাশ করা যায়নি সেগুলো পরে ক্যাশ করা হয়েছে। যেমন আমাদের প্রথমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে কোনো অ্যাকাউন্ট ছিল না ফলে চেকগুলো ব্যবহার করা যায়নি। কিন্তু পরে যখন অ্যাকাউন্ট করা হয় তখন সেগুলো ব্যবহার করা হয়। কিছু গহনা, স্ক্র্যাপ বিক্রি করা হয়েছে যেগুলোর অর্থ আমরা পরে যোগ করতে পেরেছিলাম। এছাড়াও আমরা অনেক কয়েন পেয়েছিলাম যেগুলো তখন গোনা সম্ভব হয়নি। পরে গোনার পর সেগুলোর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ টাকার বেশি। ফলে অর্থের পরিমাণ বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ অডিট প্রকাশ করতে আমাদের কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

সমন্বয়ক লুৎফর রহমান বলেন, আমরা তহবিলের এই অর্থ সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রেরণ করব। ৮ কোটি টাকা পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য ব্যয় করা হবে আর বাইরে যে টাকা সেটা দিয়ে উত্তরবঙ্গে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ইতোমধ্যে উত্তরবঙ্গে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

Feb2

৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 2:50 pm
৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 1:06 pm
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) সকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যকালে তার বয়েস হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 12:56 pm
যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানির সংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিস্তা অববাহিকার অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা নদীটির পানি প্রবাহের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে তীব্র নদীভাঙনের ফলে এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিবছর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের এই দীর্ঘদিনের হাহাকার ও দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটাতেই সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এর আগে, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে এ অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।