খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামে বিজয় মেলার উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 11 December, 2024, 3:25 pm
চট্টগ্রামে বিজয় মেলার উদ্বোধন

চট্টগ্রাম বিভাগের নবাগত বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেছেন, আমাদের যে সকল কৃষ্টি, কালচার, সংস্কৃতি রয়েছে এগুলোর বহিঃপ্রকাশ মেলার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়ে থাকে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেখানে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের একটা প্রত্যয় রয়েছে। আমরা এই বাংলাদেশকে বৈষম্যমুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। সকলের মতামতের ভিত্তিতে আমরা এমন একটি স্থান বা ভেন্যু খুঁজে বের করব যেটাতে স্থায়ীভাবে বিজয় মেলাসহ বিভিন্ন মেলা উদযাপন করা যাবে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ ১১ ডিসেম্বর বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর কাজির দেউরী এলাকার সার্কিট হাউজ সংলগ্ন ভেঙ্গে ফেলা পুরনো শিশু পার্ক মাঠে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজয় মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে ৬দিন ব্যাপী (১১-১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত) বিজয় মেলার শুভ উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার।

তিনি বলেন, আমরা শুধু কর্মের মধ্যে থাকবনা। সত্যিকার অর্থে এখানে স্থায়ী মেলার জন্য একটি নির্ধারিত মাঠের প্রয়োজন। বাঙ্গালী সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য এখানে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানগুলো হয়ে থাকে। আমাদের কালচারাল উন্নতি ও শিক্ষাগত প্রসারসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার জন্য স্থায়ী ভেন্যু হলে বই মেলাসহ বিভিন্ন মেলা উদযাপনও সে ভেন্যুতে করতে পারি। সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে স্থায়ী ভেন্যুর রূপদানের পচেষ্টা করবো।
লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীনতা। বীর মুক্তিযোদ্ধারাসহ যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন এই বিজয় মেলার সূচনা লগ্নে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাসহ বিজয় মেলা সাফল্য মন্ডিত করার জন্য জেলা প্রশাসনসহ যারা উদ্যোগ নিয়েছেন তাদেরকে সাধুবাদ জানান বিভাগীয় কমিশনার।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, চট্টগ্রাম কৃষ্টি-কালচারের জেলা। এখানে প্রতিবছর বই মেলা, বাণিজ্য মেলা, বিজয় মেলা ও অন্যান্য মেলা হয়ে থাকে। মেলার স্থায়ী ভেন্যু নির্বাচন করার জন্য আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। খেলার মাঠে মেলা হবেনা। এজন্য আউটার স্টেডিয়াম থেকে সরিয়ে এনে সার্কিট হাউজ সংলগ্ন ভেঙ্গে ফেলা পুরনো শিশু পার্কের পরিত্যক্ত মাঠেই (সেনাবাহিনীর সম্পত্তি) জেলা প্রশাসন এবার সপ্তাহব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করেছে। সকলের সাথে কথা বলে এমন একটি ভেন্যু নির্বাচন করবো যেখানে শুধু মেলাগুলো হবে। আউটার স্টেডিয়াম মাঠকে খেলার উপযোগী করে তোলা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের আহবায়ক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব আহমেদ নেওয়াজ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব অর্ন্তবর্তী কমিটির সদস্য সচিব ও সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) মোহাম্মদ শাহ নওয়াজ, মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম ও ছাত্র প্রতিনিধি মোঃ জোবায়ের।

উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ-মহানগর নির্বাহী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলু বারিক, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মোঃ নোমান হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) এ.কে.এম গোলাম মোর্শেদ খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সাদি উর রহিম জাদিদ, জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মেলা উদযাপন পরিষদের কর্মকর্তা-সদস্যবৃন্দ ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীগণ।

এ মেলায় প্রতিদিনের আয়োজনে থাকছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও বিজয়ের কথা মালা। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণ অভ্যূত্থান, ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০’র গণ অভ্যূত্থান ও ২৪’র গণ অভ্যূত্থানের মূল্যবোধ বিষয়ক স্মৃতিচারণ।

Feb2
Feb2

মাঠ প্রশাসনে নারী নেতৃত্বে মাইলফলক: ২০ ডিসি, ১৯১ ইউএনও নারী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 July, 2026, 10:44 pm
মাঠ প্রশাসনে নারী নেতৃত্বে মাইলফলক: ২০ ডিসি, ১৯১ ইউএনও নারী

দেশের মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে ৬৪ জেলার মধ্যে ২১ জেলায় নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ৪৯৯ উপজেলার ১৯১টিতে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনে নারীর নেতৃত্ব ও সক্ষমতার বিকাশে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ ১৮ জন নারী ডিসি দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে সেই রেকর্ড ভেঙে ২০ জন নারী ডিসি দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দেশের নয়টি বিভাগীয় কমিশনারের কোনো পদেই বর্তমানে নারী কর্মকর্তা নেই।

বর্তমানে দায়িত্বে থাকা নারী জেলা প্রশাসকদের মধ্যে রয়েছেন— ঢাকার ফরিদা খানম, মুন্সীগঞ্জের সৈয়দা নূরমহল আশরাফী, নরসিংদীর ইসরাত জাহান কেয়া, মানিকগঞ্জের নাজমুন আরা সুলতানা, কিশোরগঞ্জের সোহানা নাসরিন, টাঙ্গাইলের শরিফা হক, রাজবাড়ীর আফরোজা পারভীন, শরীয়তপুরের তাহসিনা বেগম, মাদারীপুরের মর্জিনা আক্তার, কুমিল্লার রোজী আক্তার, রাঙ্গামাটির নাজমা আশরাফী, ফেনীর মনিরা হক, নাটোরের আসমা শাহীন, খুলনার হুরে জান্নাত, সাতক্ষীরার কাউসার আজিজ, চুয়াডাঙ্গার লুৎফুন নাহার, মেহেরপুরের শিল্পী রানী রায়, বরগুনার তাছলিমা আক্তার, কুড়িগ্রামের অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পঞ্চগড়ের শুকরিয়া পারভীন এবং শেরপুরের ফরিদা ইয়াসমিন।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে নারী ডিসির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিভাগের ১৩ জেলার মধ্যে ৯ জেলায় নারী ডিসি দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া খুলনা বিভাগে চারজন, চট্টগ্রাম বিভাগে তিনজন, রংপুর বিভাগে দুজন এবং রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগে একজন করে নারী ডিসি রয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনেও বেড়েছে নারীদের অংশগ্রহণ। বর্তমানে দেশের ৪৯৯ উপজেলার মধ্যে ১৯১টিতে নারী ইউএনও দায়িত্ব পালন করছেন, যা মোট উপজেলার প্রায় ৩৯ শতাংশ।

ভূমি প্রশাসনেও নারীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে ৪৭৮ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর মধ্যে ১১৬ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন, যা মোট পদের ২৪ শতাংশেরও বেশি।

সব মিলিয়ে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ১ হাজার ৮৫টি পদের মধ্যে ৩৩২টিতে নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ প্রায় ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে এখন নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় প্রশাসনেও নারীদের অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে ৮১টি সচিব ও সচিব-সমমর্যাদার পদের মধ্যে ১৪টিতে নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া ৩৬১ জন অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে ৭৩ জন, ১ হাজার ৫১ জন যুগ্ম সচিবের মধ্যে ২৪৯ জন, ১ হাজার ৬৪৩ জন উপসচিবের মধ্যে ৪০৪ জন এবং ৩ হাজার ৩৫০ জন সহকারী ও সিনিয়র সহকারী সচিবের মধ্যে ৯৮৬ জন নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

সব মিলিয়ে সহকারী সচিব থেকে সচিব পর্যন্ত ৬ হাজার ৩৩০টি পদের মধ্যে ১ হাজার ৬৮৬ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এ স্তরে নারীর প্রতিনিধিত্বের হার দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কমিটি গঠনের এখতিয়ার রাখেনা ঢাকা মোহামেডান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 July, 2026, 9:54 pm
চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কমিটি গঠনের এখতিয়ার রাখেনা ঢাকা মোহামেডান

চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব একটি স্বতন্ত্র ক্লাব।যা তার নিজস্ব গঠনতন্ত্র মোতাবেক পরিচালিত হয়। এই ক্লাব কারো শাখা বা অধীনস্থ ক্লাব নয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব শতবর্ষের কাছাকাছি চলে এসেছে তার নিজস্ব গতিতে। কখনো ঢাকা মোহামেডান কিংবা অন্য কোন সংগঠন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকান্ডে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ বা সহযোগিতা, সহমর্মিতা কোনটাই করেনি বা চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তার প্রয়োজনীয়তাও বোধ করেনি।

কিন্তু হঠাৎ করে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লি: কর্তৃক চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের একটি এডহক কমিটি গঠন করে দিয়েছে যা চট্টগ্রাম সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এখতিয়ার বহির্ভুত। এধরণের হটকারী কমিটি গঠনের মাধ্যমে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লি: চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এর লক্ষ লক্ষ সমর্থকের মনে আঘাত দিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ক্লাব টির নবগঠিত কমিটির কর্মকর্তারা জানান চট্টগ্রাম মোহামেডানের হারানো গৌরব ফেরাতে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন তরুণদের দিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। যাতে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনকে একটি আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনে পরিণত করা যায়। যার স্বপ্ন দেখেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু হঠাৎ করে ঢাকা মোহামেডান কর্তৃক এধরনের কমিটি গঠন খোদ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের সাথে সংঘাত সৃষ্টি করার শামিল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের গভর্নিং বডির মহাসচিব শওকত আজম খাজা। বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন দ্বিপ্তী এবং সভাপতি সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ হোসেন দ্বিপ্তী বলেন, একটি স্বাধীন স্বতন্ত্র ক্লাবের বৈধ কমিটির বিপরীতে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লি: কর্তৃক একটি এডহক কমিটি প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনী এবং অনৈতিক। যারা ধরণের গর্হিত কাজ করেছেন তারা অন্তত আলোচনা করতে পারতেন। যাকে সভাপতি করা হয়েছে রাজনৈতিকভাবে আমরা একই আদর্শের এবং আমরা তার সহকর্মী। তিনি আমাদেরকে তার প্রত্যাশার কথা জানাতে পারতেন। আমরা তার সাথে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করতাম। কিন্তু তিনি সেটা করেননি। আর তাতে একজন রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে আমরা নিজেরাও বিব্রত। তবে তিনি এখনো আলোচনার পথ খোলা রয়েছে বলে জানান।

দ্বিপ্তী জানান ঢাকা মোহামেডান যাকে চট্টগ্রাম মোহামেডানের সাধারন সম্পাদক বানিয়ে দিয়েছেন তিনি এক এগারোর কুশিলব বর্তমানে কারাবন্দী জেনারেল মাসুদ উদ্দিনের দোষর। যে মাসুদ উদ্দিনের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তেমনই একজন ঘৃনীত এবং চিহ্নিত দোষরকে চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকর্তা হিসেবে ক্লাবটির লক্ষ লক্ষ সমর্থক মেনে নেবেনা কোনদিন।

ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম বলেন, চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মত একটি গৌরবময় প্রতিষ্টানের উপর একটি অবৈধ কমিটি চাপিয়ে দেওয়াটা শুধু গর্হিত কাজই নয়, বরং অবিচার বটে। ঢাকা মোহামেডান কোন কালেই চট্টগ্রাম মোহামেডানের কোন কাজে সহযোগিতা বা হস্তক্ষেপ কোনটি করেনি বা করার এখতিয়ার ও রাখেনা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তার নিজস্ব গঠনতন্ত্র মোতাবেক নিজস্ব গতিতে বিগত ৭৫ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেই চলবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সহ-সভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান, কোষাধ্যক্ষ ইয়াছিন আরাফাত পাবলু, আবু বকর ছিদ্দিক, মাসুদুর রহমান মাসুদ, নেয়ামত উল্লাহ তৌহিদ, ফজলুল হক সুমন, দিদার হোসেন, দিদারুল আলম জাবেদ, এডভোকেট ওমর চৌধুরী, সমর্থক গোষ্ঠী সভাপতি শিবলী নোমান সিফাত, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হায়দার খান, মোঃ বেলাল, শওকত খান রাজু, মিয়া হারুন, শেখ আলম রাজু, নুর খান, সাগির হোসেন, আনোয়ার হোসেন, গোলাম ইয়াজদী, শওকত আলী প্রমুখ।

কেবল শিক্ষাই জেলে পল্লীর ভাগ্য বদলাতে পারে: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 July, 2026, 9:24 pm
কেবল শিক্ষাই জেলে পল্লীর ভাগ্য বদলাতে পারে: ডিসি জাহিদ

শিক্ষাই উপকূলীয় জেলে সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের ইপিজেড থানাধীন দক্ষিণ হালিশহরের আকমল আলী ঘাট বেড়িবাঁধ এলাকায় স্বপ্নীল মডেল একাডেমিতে আয়োজিত মানবিক সহায়তা ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ৫০ বছর আগে যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যেতেন, আজও যদি একই পদ্ধতিতে তাঁদের যেতে হয়, তাহলে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি। আর এই পরিবর্তনের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হলো শিক্ষা।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত হলেও জেলে ও চা-শ্রমিক সম্প্রদায়ের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকেও নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে উদ্যোগী হতে হবে।

জেলে পরিবারের অভিভাবকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে। শুধু বই, খাতা বা পোশাক দিলেই হবে না, শিক্ষার মাধ্যমে তাঁদের আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, “আপনাদের সন্তানরা যেন আগের মতো ঝুঁকি নিয়ে সাগরে না যায়। তারা যেন শিক্ষা, জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তি নিয়ে মাছ আহরণে যায়। বাবা-মা হিসেবে কিছু কষ্ট স্বীকার করতে হবে। নিজের ও সন্তানের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এই কষ্ট প্রয়োজন।”

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষ। শিক্ষা, দক্ষতা ও প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করা গেলে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে। একজন মৎস্যজীবীকেও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তিনি নিজের পেশার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারেন।

সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, একজন জেলে সাগরে গেলে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা, পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জানা সম্ভব হওয়া উচিত। “আমরা চাই না, একজন জেলে ভাই সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ থাকবেন, অথচ তাঁর অবস্থান কেউ জানতে পারবে না।”

তিনি জানান, মৎস্যজীবী ও চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে তিনি জেলেদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের প্রয়োজন ও সমস্যার কথা প্রশাসনকে জানাতে হবে। “আপনারা যদি সমস্যার কথা না জানান, তাহলে আমরা কীভাবে বুঝব? আপনারা প্রয়োজনগুলো জানাবেন, আমরা আপনাদের পাশে থাকব।”

উপকূলীয় জেলে পরিবারের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে নবপ্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির বিদ্যুৎ সংযোগসহ প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, গত শীতে শীতবস্ত্র বিতরণের সময় স্থানীয়রা একটি বিদ্যালয়ের দাবি জানিয়েছিলেন। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্কুল, বই ও পোশাক দেওয়ার পরও যদি সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো না হয়, তাহলে এই উদ্যোগ সফল হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সবসময় মৎস্যজীবী ও চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও এই জনগোষ্ঠীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। সরকার, প্রশাসন ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং প্রান্তিক মানুষের সমস্যার কথা সরাসরি শুনে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ জেলে পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি, নুডলস, চিড়া, বিস্কুট, সাবান, মোমবাতি, লাইটার ও ওরস্যালাইন ছিল। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত একটি প্রতিষ্ঠানের পুনর্বাসনের জন্য ১২ বান্ডেল ঢেউটিন ও ৩৬ হাজার টাকার চেক এবং ১১৮ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন স্কুল ড্রেস ও দুটি করে খাতা তুলে দেওয়া হয়।

পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারিস্তা করিম বলেন, জেলা প্রশাসকের উদ্যোগেই স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের বিদ্যালয়ের দাবি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে। তিনি জানান, এলাকায় প্রায় ৬৫০ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি নৌযান চলাচলের রুট ও নেভিগেশন চ্যানেলে জাল না বসানোর আহ্বান জানান এবং স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।

উত্তর চট্টলা জেলে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হরি জলদাস অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানের জেলেরা জাল কেড়ে নেওয়া, মাছ ধরায় বাধা ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং জেলে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা পায়ে হেঁটে স্থানীয় জেলে পল্লী পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি জেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম, আবাসন, শিক্ষা, সুপেয় পানি, নিরাপত্তা ও জীবিকার বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। সরু গলি দিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্তোষের সৃষ্টি হয়।

বাসিন্দারা জানান, জেলা প্রশাসক শুধু ত্রাণ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বাস্তব পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখে সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের বলেন, সমস্যাগুলো প্রশাসনের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে, কারণ জনগণ না জানালে সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, ব্রাইট ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা, মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।