খুঁজুন
, ,

বাংলাদেশ হয়ে সেভেন সিস্টার্সে যাওয়ার রেল প্রকল্প স্থগিত ভারতের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 21 April, 2025, 1:20 am
বাংলাদেশ হয়ে সেভেন সিস্টার্সে যাওয়ার রেল প্রকল্প স্থগিত ভারতের

বাংলাদেশে রেলওয়ে সংযোগ প্রকল্পে প্রায় ৫ হাজার কোটি রুপির অর্থায়ন ও নির্মাণ কাজ স্থগিত করেছে ভারত। ‘শ্রমিকদের নিরাপত্তা’ এবং ‘রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার’ কারণ দেখিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রোববার (২০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

এতে তিনটি চলমান প্রকল্পের কাজ এবং পাঁচটি আলাদা জায়গায় জরিপের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, এরমাধ্যমে বাংলাদেশের রেলপথের মাধ্যমে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে তাদের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে (সেভেন সিস্টার্স) যুক্ত করার পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটেছে।

বাংলাদেশে নিজেদের রেল নেটওয়ার্ক তৈরির বদলে এখন নয়াদিল্লি এই অর্থ দিয়ে উত্তর ভারতের রেলপথ অবকাঠামোকে উন্নত করছে। এছাড়া বাংলাদেশকে এড়িয়ে নেপাল ও ভুটানের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সেভেন সিস্টার্সকে যুক্ত করার ব্যাপারে ভাবছে দেশটি। একটি সূত্র জানিয়েছে, নেপাল ও ভুটানের মাধ্যমে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার কোটি রুপির সংযোগ প্রকল্পের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে।

দ্য হিন্দু জানিয়েছে, স্থগিত করা এ প্রকল্পগুলো ভারতের ‘স্থলবেষ্টিত’ উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে বাংলাদেশের মাধ্যমে যুক্ত করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই প্রকল্পের পরিকল্পনা ছিল সরু শিলিগুঁড়ি করিডরের (চিকেন নেক করিডর) ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমানো। যেটি ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে যুক্ত করার একমাত্র পথ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেছেন, “এ মুহূর্তে বাংলাদেশে কোনো নির্মাণ বা অন্য উপকরণ আমরা পাঠাচ্ছি না। প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সংযোগ রুটের অর্থায়ন বন্ধ আছে। (প্রকল্প পুনরায় শুরু করতে) প্রথমে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারত অংশে প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।”

২০২৪ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের মূল্য ছিল ১২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ভারতের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় ঢাকা নয়াদিল্লির সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

স্থগিত প্রকল্প

ভারতের সহযোগিতায় নির্মাণাধীন তিনটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে আখাউড়া-আগরতলা ক্রস-বর্ডার রেল সংযোগ এবং খুলাবুড়া-শাহবাজপুর রেললাইন, খুলনা-মোংলা বন্দর রেললাইন এবং ঢাকা-টঙ্গি-জয়দেবপুর রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্প।

আখাউড়া-আগরতলা (ত্রিপুরা) ক্রস-বর্ডার রেল সংযোগ প্রকল্প ভারত সরকারের ৪০০ কোটি রুপি সহায়তায় করা হচ্ছিল। এই রেল সংযোগের দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ২৪ কিলোমিটার। যার ৬ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেললাইন বাংলাদেশে। আর ত্রিপুরায় ৫ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার। খুলাবুড়া-শাহজাদপুর রেললাইন এই প্রকল্পের অংশ। এটির লক্ষ্য ছিল নতুন রেললাইন নির্মাণ ও পুরোনো লাইনের মাধ্যমে আসামের সঙ্গে সংযোগ উন্নত করা।

অপরদিকে খুলনা-মোংলা বন্দর রেললাইন প্রকল্পের কাজ চলছিল কনসেশনাল লাইন অব ক্রেডিটের মাধ্যমে। এই প্রকল্পের খরচ ৩ হাজার ৩০০ কোটি রুপি। এটির মাধ্যমে মোংলা বন্দর ও খুলনার মধ্যে ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রড গেজ রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছিল। এরমাধ্যমে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মোংলা বন্দর ব্রডগেজ রেললাইনের আওতায় আসবে। এই বন্দরের একটি টার্মিনাল পরিচালনার অধিকার রয়েছে ভারতের।

অপরদিকে ঢাকা-টঙ্গি-জয়দেবপুর রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালে শেষ হওয়ার কথা আছে। তবে বিলম্বিত এ প্রকল্পের কাজটি গত বছর পর্যন্ত মাত্র ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপির এ প্রকল্পের কাজটি করা হচ্ছে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের সহায়তায়। তবে এক্ষেত্রে অর্থ ছাড়ে কিছু ঝামেলা দেখা গেছে বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

আর পাঁচটি আলাদা জায়গায় যে স্থান জরিপের কাজ চলছে সেগুলোর কাজও স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অপর একটি সূত্র।

বিকল্প আঞ্চলিক কৌশল

(পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে) ভারত তার অভ্যন্তরীণ ও বিকল্প আঞ্চলিক কৌশল পরিবর্তন করছে বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।

এর অংশ হিসেব ভারত সরকার উত্তর প্রদেশ এবং বিহারে রেললাইন দ্বিগুণ থেকে চারগুণ করার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। এরমাধ্যমে নিজেদের নির্ভরতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেখানে এখন জরিপ কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের এক কর্মকর্তা।

একইসঙ্গে, ভারত ভুটান ও নেপালের মধ্যে রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। যদিও লজিস্টিক্যালি এ রুটগুলো খুবই জটিল হবে। কিন্তু এগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমাতে পারবে ভারত।

উদাহরণ স্বরূপ, ভারত ও নেপালের মধ্যে রেললাইন সংযোগ স্থাপনের আগের যে পরিকল্পনাটি আছে সেটি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। যারমধ্যে রয়েছে বিরাটনগর-নিউ মালের মধ্যে ১৯০ কিলোমিটার এবং কাজালিবাজার সেকশনেরর গালগালিয়া-ভদ্রপুর পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ।

অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গে (শিলিগুঁড়ি করিডরের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে) কুমেডপুর-আম্বারি ফালাকাতা অংশে ১৭০ কিলোমিটার নতুন লাইন এবং পশ্চিমবঙ্গ-বিহারের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও ২৫ কিলোমিটার নতুন লাইন স্থাপন করা হবে।

Feb2
Feb2

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 10:04 pm
রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে

যুগপৎ আন্দোলনের দল ও জোটদের নিয়ে ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে শরিকদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জোট শরিকদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, স্বাক্ষর করেছে, তাও অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও যুগপৎ সঙ্গীদের নিয়ে করবে কি না, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের যে আইন হয়েছে, তাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। ফলে আমার মনে হয়- এটা নিয়ে এখন আলোচনা না করলেও পারি। তবে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা পারস্পরিক আলোচনা ভিত্তিতে করবো।

গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট, ইসলাম ঐক্যজোটসহ ৪১টি দলের নেতারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২৪ সালে জুলাই মাসের একটি রক্তক্ষয়ী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদ হাসিনা সরকারকে সরিয়ে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করবার সুযোগ পেয়েছি। আমরা আন্তরিকভাবে সেই সব শহীদদের স্মরণ করতে চাই, যারা তাদের জীবন দিয়ে, আহত হয়ে, চোখ হারিয়ে যারা আমাদের জন্য এই নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আজকে প্রধানমন্ত্রী এই আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে যারা ছিলেন, যারা একসাথে যুগপৎ আন্দোলন করেছেন দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর, তাদের নেতৃবৃন্দকে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন, আজকে কথা বলার জন্য- তাদের একসাথে একটু সামান্য কিছু ডাল-ভাত খাওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একসঙ্গে আন্দোলন করেছি। আমরা কেউ কারাগারে গেছি, কেউ মামলার মধ্যে পড়েছি, কেউ গুম হয়েছে, খুন হয়েছে—এরকম অনেকেই আছে।

ফখরুল বলেন, আজকে একটি আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তাদের সবার সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দেখা করেছেন, প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের অনেকগুলো রাজনৈতিক দল তারা কথা বলেছেন। সবাই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের সরকার যে শুরুটা তার অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন যে, এই ৫ মাসের মধ্যে সম্ভব হয়নি বিভিন্ন কাজের তাড়াহুড়ার জন্য বা কাজের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সব দলগুলোর সঙ্গে কথা বলার। কিন্তু এর মধ্যে সরকার যে কাজগুলো করেছে, সেগুলো ছিল জনগণের একদম কাছাকাছি যাওয়ার কাজ। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, সরকারকে গুছিয়ে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার কাজটা তিনি শুরু করেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে কিন্তু কাজ শুরু করেছি। একেবারেই অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, লুট করে নিয়ে গেছে সব ব্যাংক, সব জায়গায় একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল তারা, সব প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ফেলেছিল। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার প্রধানমন্ত্রী গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করেছেন। এ কথাগুলোই আজকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বলেছেন।

তিনি বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, তিনি এরপরে প্রায়শই অর্থাৎ যতটা দ্রুত সম্ভব হবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসবেন। রাজনৈতিক দলগুলো আবারও কাজ করবে একসঙ্গে। সবচেয়ে বড় জিনিস তিনি বলেছেন, যে ৩১ দফা কর্মসূচি আমরা একসঙ্গে দিয়েছিলাম, সেই ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। তিনি এটাও আবারও বলেছেন যে, জুলাই সনদ-যেটা আমরা সব রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছি, সেই জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের ৫ মাস পরে একটা বড় ঘটনা, প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছেন, তাদের সবার সঙ্গে একসঙ্গে বসেছেন, কথা বলছেন এবং ভবিষ্যতের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 9:50 pm
ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক। জুলাই গণ আন্দোলনের সকল শহীদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। তাদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই শহীদদের স্মৃতি শুধু স্মরণে রাখলেই হবে না, তাদের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ইতিহাস বিকৃতির কোনো সুযোগ নেই। আগামী প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে, যাতে তারা দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে পারে।

তিনি সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও শহীদ আবু সাঈদ সহ সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ সাবেক ছাত্রদল ফোরামের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল, এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি তাঁর বক্তব্যে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।

অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং এরপর এতিম শিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়। এই আয়োজন শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম।

অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোন একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠির নয়। এই আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন অভ্যুত্থান নয়, বরং এটি গত ১৬ বছরের লাগাতার আন্দোলনের ফল। এ আন্দোলনে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেছে। সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাই। এটি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ত্যাগ ও সংগ্রামের দীর্ঘ পথচলারই ফসল।

মেয়র বলেন, ওয়াসিম আকরামসহ সকল শহীদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখি, তা পূরণ করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। তাদের এই আত্মদান আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, যা ভবিষ্যতেও দেশপ্রেম ও জনগণের অধিকার আদায়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, শহীদদের পরিবার এবং দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আজকের এই দোয়া মাহফিল ও এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি সেই দায়িত্বেরই অংশ। আমরা চাই, আমাদের তরুণ প্রজন্ম শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস জানুক এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হোক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং ছাত্রদল নেতা। তিনি সরকারি চাকরিপ্রার্থী হিসেবে আন্দোলন করেনি। বরং ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তার অংশগ্রহণের ইতিহাস সুদীর্ঘ।

আবু সুফিয়ান বলেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম নিজের রক্ত দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস লিখে গেছেন। যত দিন দেশের মানুষের মননে গণতান্ত্রিক চেতনা সমুন্নত থাকবে, শহীদ ওয়াসিম আকরাম তত দিন অমর হয়ে থাকবেন।

আবুল হাশেম বক্কর শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক আবু বক্কর সিকদার ও মহসিন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ইয়াকুব আলী সিফাতের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন। উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি এস কে খোদা তোতন, আহবায়ক কমিটির সদস্য এস. এম আবুল ফয়েজ, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, খোরশেদুল আলম, সৈয়দ শিহাব উদ্দীন আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. জাফর আহম্মদ, মোহাম্মদ আজম, কেন্দ্রীয় মহিলাদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ, বিএনপি নেতা মন্জুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ্ব জাকির হোসেন, নুর হোসেন, জসিম উদ্দিন জিয়া, মো. শফি, সাবেক ছাত্রদল নেতা আলিফ উদ্দিন রুবেল, সামিয়াত আমিন জিসান, জহির উদ্দিন বাবর, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদল নেতা এড. জসিম উদ্দিন হিমেল, আমজাদ হোসেন শাকিল, রেজাউল করিম, মো. ইউনুস, দিদারুল আলম, ঈমাম হোসেন আবির, বোরহানুল হক, মন্জুরুল আলম, মো. শোয়াইব, নুরুন্নবী বাদশা, মোজাম্মেল হক, মো. জাহেদ প্রমুখ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 9:41 pm
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব: এরশাদ উল্লাহ

চট্টগ্রাম ৮ আসনের এমপি ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক এরশাদ উল্লাহ বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে এ্যাব চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দ অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে এসেছেন। কেউ যেন খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আজ ২০ জুলাই সোমবার বিকেলে এ্যাব চট্টগ্রামের উদ্যোগে ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের চালিতাতলী ও ওয়াজেদিয়ার বিগত টানা বর্ষনে জলাবদ্ধ এলাকায় উপহার সামগ্রী বিতরণ কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন,”দুর্যোগ সাময়িক, কিন্তু আমাদের মানবিকতা স্থায়ী। আমরা জনগণের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্হাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, এ্যাব চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দ অতীতের ন্যায় আপনাদের দুর্দিনে পাশে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। আজকের এই ত্রাণসামগ্রী হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সব কষ্ট দূর করতে পারবে না, তবে তাদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সহমর্মিতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনে সব সময় পাশে আছে। আসুন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহবানে আমরা সবাই মিলে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসি এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াই।

এ্যাব চট্টগ্রামের উপহার সামগ্রী ২০০ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয় যার পরিমাণ ১ টন ৬০০ শত কেজি। ৩ নং ওয়ার্ডের চালিতাতলী দারোগা বাপের বাড়ী এবং ওয়াজদিয়া বোর্ড অফিস এলাকায় এসব উপহার দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি ও এ্যাব চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী সেলিম মোঃ জানে আলম এর সভাপতিত্বে ও আইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সন্মানি সম্পাদক প্রকৌশলী খান মোঃ আমিনুর রহমান সুমনের পরিচালনায় উপহার সামগ্রী বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরাম পিআরইউ’র আহ্বায়ক ও দৈনিক দিনকাল চট্টগ্রামের ব্যুরো চীফ হাসান মুকুল, বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল করিম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কমিটি’র সদস্য মোহাম্মদ ইউসুফ, চুয়েট ছাত্রদলের সাবেক ভিপি প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, প্রকৌশলী রাশেদ আলম, প্রকৌশলী রফিকুন নবী, প্রকৌশলী কামরুল হাসান, প্রকৌশলী আবুল বাশার, প্রকৌশলী ইমাদুল হক শাহিন, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, প্রকৌশলী শাহীন, পিআরইউ’র সদস্য লেখক জহিরুল ইসলাম জহির, বিএনপি’র নেতা মোহাম্মদ ইসমাইল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাজ্জাদ হোসেন খাঁন, ২ নং জালালাবাদ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাভেদ ওমর, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহি রুবেল, ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রদল নেতা মোঃ জাহেদ হোসেন ইফতি‌, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল থানার সাধারণ সম্পাদিকা মিসেস নাসিম আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।