খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও মৃত্যুর পুণ্যময় দিন। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল অর্থাৎ আজকের এই দিনে তিনি আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩ বছর বয়সে একইদিনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নামে পরিচিত। ৫৭০ সালের এই দিনে (১২ রবিউল আউয়াল) আরবের মক্কা নগরীর সভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.) এর জন্মের আগে গোটা আরব অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। ওই সময় আরবের মানুষ মহান আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল। আরবের সর্বত্র দেখা দিয়েছিল অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা। এ যুগকে বলা হতো ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’র যুগ।

তখন মানুষ হানাহানি ও কাটাকাটিতে লিপ্ত ছিল এবং মূর্তিপূজা করত। এই অন্ধকার যুগ থেকে মানবকুলের মুক্তিসহ তাদের আলোর পথ দেখাতে মহান আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দুনিয়ায় প্রেরণ করেন।

মহানবী (সা.) অতি অল্প বয়সেই আল্লাহর প্রেমে অনুরক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রায়ই তিনি হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। ২৫ বছর বয়সে মহানবী বিবি খাদিজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মাত্র ৪০ বছর বয়সে তিনি নবুয়ত লাভ বা মহান রাব্বুর আলামিনের নৈকট্য লাভ করেন।

পবিত্র কোরআন শরীফে বর্ণিত আছে, ‘মহানবীকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না’। এসব কারণে এবং তৎকালীন আরব জাহানের বাস্তবতায় এ দিনের (পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর) গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় এ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করে থাকে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সবার মধ্যে অপার শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

বাণীতে তিনি বলেন, ‘সমগ্র মুসলিম উম্মার ঐক্য আরও সুসংহত হোক। মহানবী (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ লালন ও অনুসরণের মাধ্যমে আমাদের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তি সুনিশ্চিত হোক, এই কামনা করি।’

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ এক বাণীতে বলেন, ‘মহানবী (সা.) মানবতার মুক্তি, সাম্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার যে মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা আজও আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি শিখিয়েছেন, ন্যায়বিচার কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সমগ্র মানবজাতির মৌলিক অধিকার।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি বহু ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির দেশ। মহানবী (সা.) তার জীবদ্দশায় মদিনার সনদের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহনশীলতা সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তার এই শিক্ষা আমাদের জাতীয় জীবনে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের চর্চার মাধ্যমেই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন। তারেক রহমান বলেন, ‘সমাজে অবহেলিত, নির্যাতিত, বঞ্চিত ও দুঃখী মানুষের সেবা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, পরমতসহিষ্ণুতা, দয়া ও ক্ষমা গুণ, শিশুদের প্রতি দায়িত্ব এবং নারী জাতির মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অতুলনীয়। তাই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে স্বীকৃত। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা, আদর্শ ও ত্যাগের মহিমার প্রতিফলন আমরা সবাই যেন নিজেদের জীবনে ঘটাতে পারি।’

বছরজুড়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা ও চর্চা অব্যাহত রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ ছাড়া মানবজাতির কল্যাণ সম্ভব নয়। তাকে খণ্ডিতভাবে অনুসরণ করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যাবে না। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া কারো জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ নেই।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের জন্য সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবী (সা.)-এর ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এ উপলক্ষ্যে বায়তুল মোকাররমে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশও নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ সরকারি ছুটি।

Feb2

৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, গেল ২৭ মে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়টি নবজাতক শিশু মারা গেছে। এ ঘটনাটিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি, তাদের তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। আজ বিকেল ৩টায় সেই প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি দেখেছে যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভবনটি একটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযোগী না। তদন্ত কমিটি পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষনম্বর-২ পরিদর্শন করেছে। তাদের কাছে মনে হয়েছে, কক্ষটিতে দীর্ঘসময় এসি বন্ধ থাকায় ও স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন কার্যক্রম না থাকায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের মাত্রার ঘাটতি হয়েছে। পাশাপাশি, কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কক্ষের দায়িত্বরত সব সেবিকা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মৃত নবজাতকদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তাতে প্রমাণ পেয়েছে যে সেবিকাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল।

‘নবজাতকের আকস্মিক শারীরিক অবনতির অবস্থায় হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না। অভিভাবকদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সংশ্লিষ্ট নার্স কোনো চিকিৎসককে বিষয়টি অবহিত করেনি। বরং কালক্ষেপণ করতে থাকে এবং নবজাতকের মৃত্যুরোধের উপযুক্ত যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি’—বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কক্ষটি ৯০০ বর্গফুটের। যেখানে ১১ জন রোগী, নবজাতক ও রোগীর লোকসহ প্রায় ৫০ জনের উপস্থিতি ছিল। যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রমাণ পেয়েছে, তারা একটি হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্তগুলো পালনে সক্ষম ছিল না। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড দুইয়ে রোগীদের দেখাশোনার কোনো চিকিৎসক ছিল না। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেবিকাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছিল না। কক্ষটিতে আলো-বাতাস চলাচলের ভেন্টিলেশনের জন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। কক্ষটিতে অতিরিক্ত লোকজনের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা হবে বলেও জানিয়েছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে অনেক রোগী আছে। আমরা সেটা বন্ধ করে দিতে পারি না। তবে, আইন অনুসারে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আগামী রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

‘বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে বক্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
‘বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ড’ নিয়ে বক্তব্যের জেরে মমতার বিরুদ্ধে মামলা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শিলিগুড়ি সাইবার থানায় রিংকি চ্যাটার্জি সিং নামে এক আইনজীবী এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা, জনসমাবেশ এবং গণমাধ্যমের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা, সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি অভিযোগকারীর।

অভিযোগে সিং দাবি করেছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন জনসভা, রাজনৈতিক মঞ্চ এবং গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি (মমতা ব্যানার্জি) ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বেশ কিছু উসকানিমূলক ও উগ্র মন্তব্য করেছেন। অভিযুক্ত প্রকাশ্যে এই ধরনের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা, নিরপেক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যার মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের প্রতি জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস ও অসন্তোষ তৈরির চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগে গত ২ জুন একটি রাজনৈতিক মঞ্চে করা মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা ও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২ জুন রানি রাসমণি স্মরণে একটি রাজনৈতিক সমাবেশ থেকে অভিযুক্ত দাবি করেন— ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার গোপন আলোচনা হয়েছিল। এরপর তিনি ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে অভিযোগ তোলেন। এই ধরনের অভিযোগ প্রকাশ্যে জনগণ ও গণমাধ্যমের সামনে করা হয়েছিল, যার স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক মহলে ভারত সরকারের ভাবমূর্তি ও নির্ভরযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা এবং দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করা।

মামলার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গত ২ জুন কলকাতার ধর্মতলা এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া মমতার বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সমাবেশে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যা মামলার এক অভিযুক্ত মেঘালয় সীমান্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করলে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযোগকারী রিংকি চ্যাটার্জি সিং দাবি করেন, মমতার এই বক্তব্য পরোক্ষভাবে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি বিদেশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে।

তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জনসমক্ষে এমন মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

এদিকে এক সপ্তাহ আগে কলকাতায় একটি ঈদ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ করা হয়। সেখানে সনাতন ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীর দাবি, ওই বক্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় করা সর্বশেষ অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ধর্মতলার সমাবেশে সেই বক্তব্যে মমতা বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল জেনে রাখুন, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক ‘রেভোল্যুশন’ হয়েছিল।…মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে।…আমাদের এসটিএফ তাকে ধরে।…তারপর হোম মিনিস্টার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিজে আমাকে ফোন করে বলেছেন…এত দিন তো কই আমি বলিনি, মুখ খুলিনি…আজকে অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছেন বলে…আমি এখনো নামটা বলছি না ভদ্রতা করে। বাংলাদেশের লোক উত্তাল হয়ে যাবে, আমি সেটা চাই না, আমি দেশকে ভালোবাসি…।’

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট দুজনকে আটক ও তাদের কাছ থেকে চোরাই তামার তার উদ্ধার করেছে।

বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বিকেলে সিটিটিসির সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তাররা হলেন রঞ্জন চন্দ্র (২৫) ও রেজাকুল ইসলাম (৩২)।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রঞ্জন চন্দ্র স্বীকার করেন, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি তার চুরি করেন।

পরে ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার বিক্রি করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একুশে হলের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে রেজাকুলের তথ্যে চকবাজার থানার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনী দালান রোডে একটি ভাঙারির গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা আজ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। এই রহস্য উদঘাটন করেছি। সংশ্লিষ্ট রঞ্জন চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করেছি। এছাড়া ৮ কেজি তার উদ্ধার করা হয়েছে একটি ভাঙারির দোকান থেকে, যেখানে তার বিক্রি করেছিল রঞ্জন। এছাড়া ভাঙারির দোকান মালিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ১ জুন সচিবালয়ের দায়িত্বরত কর্মীরা অফিসে এসে দেখতে পান গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন লাইনগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। সচিবালয়ের পুরাতন ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত টেলিযোগাযোগের অত্যন্ত মূল্যবান কপার ক্যাবলগুলো ভবনের ছাদ ও সংযোগ লাইনের বিভিন্ন স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন।

কোথাও কোথাও তার কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কিছু কিছু জায়গায় তার ছিল না। এতে শুধু সাধারণ টেলিফোনই নয়; বরং অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের রেড টেলিফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগগুলো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।