খুঁজুন
, ,

আটকের কিছুক্ষণ পরে মোটা টাকার হাতবদলে যুবলীগ নেতার মুক্তি: চোর পুলিশের বাণিজ্য কেন্দ্র কর্ণফুলী থানা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 7 October, 2025, 5:23 pm
আটকের কিছুক্ষণ পরে মোটা টাকার হাতবদলে যুবলীগ নেতার মুক্তি: চোর পুলিশের বাণিজ্য কেন্দ্র কর্ণফুলী থানা

চট্টগ্রাম অফিস : বন্দরনগরী ও বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম শহরের সীমানা সংযুক্ত কর্ণফুলী উপজেলায় আইন শৃঙ্খলার অবনতি ও দেশীয় বিধিবিধানহীন বেপরোয়া বিরাজমান পরিস্থিতি এবং উগ্র উচ্ছৃঙ্খল জনপদে পরিণত হওয়া সহ জোর জবরদস্তির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠা হয়েছে বাণিজ্যিক বান্ধব এই উপজেলা কর্ণফুলী থানা এলাকা। যেখানে ঐতিহাসিক ৫ আগষ্ট পরবর্তী রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা থেকে শুরু করে মামলা বাণিজ্য ও দখল বেদখল নিয়ে আলোচনা সমালোচনার শিরোনামে বিবেচিত হয়ে উঠেছে উক্ত উপজেলা। এহেন অপকর্মের আনজাম দাতা হিসেবে চলমান সক্রিয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূঁইফোড় নেতাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট উপজেলা তথা থানার অফিসার্স ইনচার্জ ওসি মুহাম্মদ শরিফ এর সংশ্লিষ্টতা দিবালোকের মতো দৃশ্যমান বলে জানা যায়।

তারই ধারাবাহিকতায় গেল শনিবার ৪ঠা অক্টোবর সিএমপি’র এই সমালোচিত কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ক্রসিং এলাকার এসআর স্কয়ার নামক একটি কমিউনিটি সেন্টারে সুকৌশলে ফ্যাসিজম কায়েমের ন্যাক্কারজনক এক ঘটনার জন্ম দিয়ে স্বৈরাচারী পতিত আওয়ামী সরকারের মদদদাতা উপজেলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে জুলাই বিপ্লবের নেতৃবৃন্দরা।

আলোচনায় উঠে আসে যে, উক্ত উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর কবিরকে আটক করার পর মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কর্ণফুলী থানার অফিসার্স ইনচার্জ ওসি ও দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) দের বিরুদ্ধে। সরাসরি অভিযুক্তরা হলেন সংশ্লিষ্ট থানার সাব ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদুল ইসলাম ও একই পদধারী মোহাম্মদ রুহুল আমিন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ আওয়ামী দোসর দালালদের আশ্রয় ও পূনবাসন কোন অবস্থাতেই কাম্য নয়। হাজারো অভিযোগ ও জুলাই বিপ্লবে প্রধান প্রশ্নবিদ্ধ বাহিনী হিসেবে চিহ্নিত পুলিশ কর্মকর্তাদের এমন সম্পৃক্ততা শোভনীয় নয়। সরাসরি থানা পুলিশ কর্তৃক প্রকাশ্যে এহেন ঘটনা সৃষ্টির জের গোটা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তির উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ও সমালোচনার হেতু হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরা।

সরজমিন তদন্তে জানা যায়,শনিবার ৪ অক্টোবর দুপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্থানীয় এসআর স্কয়ার নামক একটি কমিউনিটি সেন্টারে যায় যুবলীগ নেতা আলমগীর কবির। একই সময়ে সোর্স কর্তৃক পাওয়া তথ্য সূত্রে সাদা পোশাকে অবস্থান নেয় সিএমপি’র কর্ণফুলী থানার একটি টিম। উক্ত যুবলীগ নেতার উপস্থিতি দৃশ্যমান হলে তাৎক্ষণিক ভাবে আলমগীরকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো আটকের কিছুক্ষণের মধ্যেই চলমান সক্রিয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সুকৌশল মধ্যস্থতায় ও মোটা অংকের আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে আটককৃত আসামিকে ছেড়ে দেয়া হয়। ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীরা পরিস্কার করে অভিযোগ করে প্রতিবেদককে জানান তত সময়ে উপস্থিত শিকলবাহা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, শ্রমিক দলের আহ্বায়ক আঙ্গুর মেম্বার ও স্থানীয় শ্রমিক নেতা বাহার উদ্দিন আটককৃত আসামিকে মুক্তি দিতে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা পালন করেছে। যার দরুন এলাকায় চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

সৃষ্ট ঘটনার বিষয় বস্তু নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রো পলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ বিপিএম প্রতিবেদককে ওভার ফোনে জানান পুরো ব্যাপার টা আমার নলেজে আছে তারপরও বিষয় টা নিয়ে আপনি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অপারেশন) এর সাথে কথা বলুন এবং অগ্রগতি কতদূর জেনে নিন। প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে সিএসপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অপারেশন) একই সাথে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত (অর্থ ও প্রশাসন) হুমায়ুন কবির এর সাথে ওভার ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদককে পরিস্কার করে বলেন, এহেন কর্মকাণ্ডের জন্য কোন ছাড় নেই। তবে এখনও পর্যন্ত আমরা তদন্ত করছি যদি ঐ থানার অফিসার্স ইনচার্জ ওসি ও সাব ইনস্পেক্টররা জড়িত থাকে বা প্রমানিত হয় তবে অবশ্যই দাপ্তরিক ভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন এই বিচক্ষণ পুলিশ কর্মকর্তা। একই বিষয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) ও সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি) মুহাম্মদ ফায়সাল আহম্মেদ সরাসরি মোবাইল ফোনে প্রতিবেদককে বলেন,বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঘটনা টা শুনেছি এবং এটা নিয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবগতও করেছি ও কর্তব্যরত অফিসার্স ইনচার্জ ওসি ও এসআইদের বিরুদ্ধে যা অভিযোগ আসছে তা সহ এবং আপনি সাংবাদিক ভাই থেকে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপে অগ্রসর হবো বলে অবিহিত করেন তিনি।

কর্ণফুলী জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ডিসি বন্দর আমিনুল ইসলাম বলেন, সিএমপি হেড কোয়ার্টার থেকে বিষয় টা অবগত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার ওসি সহ যে সকল পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের যে অভিযোগ বিভিন্ন ভাবে আসছে তার উপর নোট রেখে হেড কোয়ার্টারে রিপোর্ট প্রদান করবো। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া এক ভিডিও বার্তায় এই নিউজের প্রতিবেদককে জানান,আমি দক্ষিণ জেলা বিএনপির পক্ষে দায়িত্ব নিয়ে পরিষ্কার করে বলছি যে, সিএমপি’র কর্ণফুলী থানার বর্তমান অফিসার্স ইনচার্জ ওসি মুহাম্মদ শরিফ একজন আওয়ামী দোসর ও স্বৈরাচারের প্রত্যক্ষ এজেন্ট। সে বেপরোয়া এবং অত্যাচারী পুলিশ অফিসার। তার অমানবিক নির্যাতনের শিকার শত শত বিএনপি নেতাকর্মী ও নিরীহ মানুষ। অনতিবিলম্বে ওসি মুহাম্মদ শরিফ কে কর্ণফুলী থানা থেকে প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ছাত্র সমন্বয়ক ও দেশব্যাপী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সমন্বয়ক রিজওয়ান সিদ্দিকী ওভার ফোনে বলেন,আমরা গত কয়েক মাস ধরে শুনে আসছি কর্ণফুলী উপজেলা জুড়ে নানান ধরনের অরাজকতা চলছে। মামলা দিয়ে নৈরাজ্য,বালু মহাল নিয়ে নয়ছয়,বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলা ক্যাট এর মালামাল সিন্ডিকেট করে লুটপাট ও প্রতিবাদরত অসহায় শত শত পরিবারের উপর জুলুম সহ হাজারো অপরাধে স্থানীয় থানার অফিসার্স ইনচার্জ ওসি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত এবং সে আওয়ামী লীগের সক্রিয় এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত সুতরাং তাকে দ্রুত অপসারণ করা না হলে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও বলেন,আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা যদি দায়িত্বের নামে এমন আটক ও জামিনের রমরমা বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন তবে সাধারণ মানুষের ভরসা বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলের মতো পুলিশের উপর ক্রমশই আবারও আস্থার সংকট তৈরি হবে এবং ইতিহাস পূণরায় রচনা করে নিবে মুক্তিকামী মানুষ।

দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক নেতা ও বর্তমান কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের সদস্য জহির উদ্দিন মোহাম্মদ তছলিম ওভার ফোনে জানান পুরো বিষয় টা আমারা নজরে রেখেছি। জেলার সম্মানিত আহবায়ক ইদ্রিস মিয়া ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের দায়িত্বশীল নিবেদিত সাংগঠনিক নেতা এবং সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি গাজী সিরিজ ভাইয়ের দৃঢ় অবস্থান যে,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার কোন উপজেলায় পুলিশ হোক বা যে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা হোক কেউই অন্যায়ের পক্ষে প্রশ্রয় পাবেনা। আমরা সবাই বদ্ধপরিকর এ জেলায় কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আর কর্ণফুলী থানা এলাকায় যা কিছু হচ্ছে বা ঘটছে তা সব গুলো সাংগঠনিক ভাবে তদন্ত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান এই চৌকস সাবেক ছাত্র নেতা।

আনিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে কর্ণফুলী থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শরীফের সঙ্গে ওভার ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বারবার প্রসঙ্গ এড়িয়ে পরে কথা বলবো বলে তিনবার ফোনের লাইন কেটে দেন। অপরদিকে অভিযুক্ত এসআই রিয়াদুল ইসলামও প্রাসঙ্গিক বিষয় এড়িয়ে ঘটনা টা নিছক ভুল বুঝাবুঝি বলে লাইন কেটে দেন। একই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির আইসি ও ফাঁড়ির ইনচার্জ শামিউর রহমান ওভার ফোনে কোন মন্তব্য বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

Feb2
Feb2

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জালিয়াতির অভিযোগে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 9:28 am
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে জালিয়াতির অভিযোগে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দ্য পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪২০, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং তা গৃহীত হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট সব আইন ও বিধি-বিধান প্রতিপালন করা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক। এসব শর্ত লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী ৪৯টি এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

লাইসেন্স বাতিল হওয়া এজেন্সিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিক ইস্টার্ন (প্রা.) লিমিটেড, অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ, এম এস শাহীন ট্রাভেলস, আরভিং এন্টারপ্রাইজ, হায়দোরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত অ্যাসোসিয়েট, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, এম এস বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড, দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, মদিনা ওভারসিজ, আল-খামিস ইন্টারন্যাশনাল, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, গ্যালাক্সি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, জান্নাত ওভারসিজ, বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস লিমিটেড, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালটেন্সি, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড, পি.আর. ওভারসিজ লিমিটেড, অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সিসহ মোট ৪৯টি প্রতিষ্ঠান।

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 10:04 pm
রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে

যুগপৎ আন্দোলনের দল ও জোটদের নিয়ে ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে শরিকদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জোট শরিকদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, স্বাক্ষর করেছে, তাও অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও যুগপৎ সঙ্গীদের নিয়ে করবে কি না, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের যে আইন হয়েছে, তাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। ফলে আমার মনে হয়- এটা নিয়ে এখন আলোচনা না করলেও পারি। তবে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা পারস্পরিক আলোচনা ভিত্তিতে করবো।

গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জাতীয়তাবাদী জোট, গণতান্ত্রিক বাম জোট, ইসলাম ঐক্যজোটসহ ৪১টি দলের নেতারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২৪ সালে জুলাই মাসের একটি রক্তক্ষয়ী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদ হাসিনা সরকারকে সরিয়ে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করবার সুযোগ পেয়েছি। আমরা আন্তরিকভাবে সেই সব শহীদদের স্মরণ করতে চাই, যারা তাদের জীবন দিয়ে, আহত হয়ে, চোখ হারিয়ে যারা আমাদের জন্য এই নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আজকে প্রধানমন্ত্রী এই আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে যারা ছিলেন, যারা একসাথে যুগপৎ আন্দোলন করেছেন দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর, তাদের নেতৃবৃন্দকে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন, আজকে কথা বলার জন্য- তাদের একসাথে একটু সামান্য কিছু ডাল-ভাত খাওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একসঙ্গে আন্দোলন করেছি। আমরা কেউ কারাগারে গেছি, কেউ মামলার মধ্যে পড়েছি, কেউ গুম হয়েছে, খুন হয়েছে—এরকম অনেকেই আছে।

ফখরুল বলেন, আজকে একটি আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তাদের সবার সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দেখা করেছেন, প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের অনেকগুলো রাজনৈতিক দল তারা কথা বলেছেন। সবাই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের সরকার যে শুরুটা তার অত্যন্ত প্রশংসা করেছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন যে, এই ৫ মাসের মধ্যে সম্ভব হয়নি বিভিন্ন কাজের তাড়াহুড়ার জন্য বা কাজের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সব দলগুলোর সঙ্গে কথা বলার। কিন্তু এর মধ্যে সরকার যে কাজগুলো করেছে, সেগুলো ছিল জনগণের একদম কাছাকাছি যাওয়ার কাজ। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে যে, সরকারকে গুছিয়ে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার কাজটা তিনি শুরু করেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে কিন্তু কাজ শুরু করেছি। একেবারেই অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, লুট করে নিয়ে গেছে সব ব্যাংক, সব জায়গায় একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল তারা, সব প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ফেলেছিল। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার প্রধানমন্ত্রী গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করেছেন। এ কথাগুলোই আজকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বলেছেন।

তিনি বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, তিনি এরপরে প্রায়শই অর্থাৎ যতটা দ্রুত সম্ভব হবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসবেন। রাজনৈতিক দলগুলো আবারও কাজ করবে একসঙ্গে। সবচেয়ে বড় জিনিস তিনি বলেছেন, যে ৩১ দফা কর্মসূচি আমরা একসঙ্গে দিয়েছিলাম, সেই ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। তিনি এটাও আবারও বলেছেন যে, জুলাই সনদ-যেটা আমরা সব রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছি, সেই জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের ৫ মাস পরে একটা বড় ঘটনা, প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছেন, তাদের সবার সঙ্গে একসঙ্গে বসেছেন, কথা বলছেন এবং ভবিষ্যতের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 9:50 pm
ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস ও দেশপ্রেমের প্রতীক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদ ছিলেন সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের প্রতীক। জুলাই গণ আন্দোলনের সকল শহীদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। তাদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তাই শহীদদের স্মৃতি শুধু স্মরণে রাখলেই হবে না, তাদের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ইতিহাস বিকৃতির কোনো সুযোগ নেই। আগামী প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে, যাতে তারা দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে পারে।

তিনি সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও শহীদ আবু সাঈদ সহ সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ সাবেক ছাত্রদল ফোরামের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল, এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি তাঁর বক্তব্যে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।

অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং এরপর এতিম শিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়। এই আয়োজন শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম।

অনুষ্ঠানে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোন একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠির নয়। এই আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন অভ্যুত্থান নয়, বরং এটি গত ১৬ বছরের লাগাতার আন্দোলনের ফল। এ আন্দোলনে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেছে। সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাই। এটি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ত্যাগ ও সংগ্রামের দীর্ঘ পথচলারই ফসল।

মেয়র বলেন, ওয়াসিম আকরামসহ সকল শহীদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখি, তা পূরণ করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। তাদের এই আত্মদান আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস, যা ভবিষ্যতেও দেশপ্রেম ও জনগণের অধিকার আদায়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।

ডা. শাহাদাত বলেন, শহীদদের পরিবার এবং দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আজকের এই দোয়া মাহফিল ও এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি সেই দায়িত্বেরই অংশ। আমরা চাই, আমাদের তরুণ প্রজন্ম শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস জানুক এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হোক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ বলেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং ছাত্রদল নেতা। তিনি সরকারি চাকরিপ্রার্থী হিসেবে আন্দোলন করেনি। বরং ফ্যাসিবাদের পতন ঘটাতেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তার অংশগ্রহণের ইতিহাস সুদীর্ঘ।

আবু সুফিয়ান বলেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম নিজের রক্ত দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস লিখে গেছেন। যত দিন দেশের মানুষের মননে গণতান্ত্রিক চেতনা সমুন্নত থাকবে, শহীদ ওয়াসিম আকরাম তত দিন অমর হয়ে থাকবেন।

আবুল হাশেম বক্কর শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ওয়াসিম আকরাম ও আবু সাঈদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক আবু বক্কর সিকদার ও মহসিন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ইয়াকুব আলী সিফাতের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন। উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি এস কে খোদা তোতন, আহবায়ক কমিটির সদস্য এস. এম আবুল ফয়েজ, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, খোরশেদুল আলম, সৈয়দ শিহাব উদ্দীন আলম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. জাফর আহম্মদ, মোহাম্মদ আজম, কেন্দ্রীয় মহিলাদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ, বিএনপি নেতা মন্জুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ্ব জাকির হোসেন, নুর হোসেন, জসিম উদ্দিন জিয়া, মো. শফি, সাবেক ছাত্রদল নেতা আলিফ উদ্দিন রুবেল, সামিয়াত আমিন জিসান, জহির উদ্দিন বাবর, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদল নেতা এড. জসিম উদ্দিন হিমেল, আমজাদ হোসেন শাকিল, রেজাউল করিম, মো. ইউনুস, দিদারুল আলম, ঈমাম হোসেন আবির, বোরহানুল হক, মন্জুরুল আলম, মো. শোয়াইব, নুরুন্নবী বাদশা, মোজাম্মেল হক, মো. জাহেদ প্রমুখ।