খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াত নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
জামায়াত নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘এগারো দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে’র প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাইনা।

আমি এদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের এই সমুদ্রপাড়ের মানুষ ঢেউ-জলোচ্ছাসকে ভয় পায়না। এই ভয়কে যারা জয় করেছে ১২ তারিখও তারা জয় করবে। এদিন নতুন ইতিহাস তৈরি হবে।

জুলাইকে আঁকড়ে ধরার জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে। একই সঙ্গে এগার দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের যেখানে যার হাতে যে প্রতীক আমরা তুলে দেবো তার পক্ষে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরী শুধুমাত্র বন্দর নগরী নয়, শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়। এটি এক সুদীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাস আর প্রতিরোধের রাজধানী। বাংলাদেশে ৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা এখান থেকেই হয়েছিল।

চট্টগ্রামের গর্বিত সন্তান বর্তমানে এলডিপির চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম চিৎকার দিয়ে বলেছিলেন ‘উিই রিভল্ট’। জিয়াউর রহমান সাহেবকে হাতে ধরে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। আজ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমি লড়াই করেছি রনাঙ্গনে। জাতীয়তাবাদী দল গঠনে আমি ছিলাম তৃতীয় ব্যক্তি।

তিনি এখন বলেন, আমি বিএনপিতে নাই-থাকতে পারিনা। কারণ এটি জিয়াউর রহমান সাহেবের বিএনপি নয়। এটি বেগম জিয়ারও বিএনপি নয়।

চট্টগ্রামকে গর্বের চট্টলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেন, অনেকে আক্ষেপ করে বলেন, এটা এখন নামে বাণিজ্যিক রাজধানী, ভেতরে ফকফকা। কিছু মানুষ যুগ যুগ ধরে চট্টগ্রাম বন্দরকে বিক্রি করে কপাল বানিয়েছে। আগামীতে এই সুযোগ আর দেওয়া হবেনা। জনগণের বন্দর জনগণের হবে।

তিনি বলেন, এ বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি। এ জন্মভূমির প্রতি ইঞ্চি মাটির পাহারাদারি করা আমাদের দায়িত্ব। এর আধ ইঞ্চি মাটিও আমরা কাউকে দেবোনা। জুলাই যোদ্ধারা বলেছিল- জীবন দিব জুলাই দিব না।

আমরা তাদের সাথে সুর মিলিয়ে বলছি- জীবন দিব মাটি দিব না। কোন আধিপত্যবাদ আর বাংলাদেশে মানা হবেনা। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আমাদের যুব সমাজ প্রমাণ করেছে দেশের মর্যাদা রক্ষার জন্য যে কোন সময় বুক চিতিয়ে লড়াই করতে তারা প্রস্তুত।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা তো পনের বছর মজলুম ছিলাম। এখন বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে। যদি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে মর্যাদার সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই- তাহলে ফ্যাসিবাদী খাসলতের যারা তাদেরকে চিরতরে লাল কার্ড দেখাতে হবে। তিনি বলেন, সবচাইতে নির্যাতিত দল জামায়াতে ইসলামী ধৈর্য ধরলো। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করলো।

শহীদ পরিবাগুলোর কাছে দৌঁড়ে গিয়ে হাজির হলো। বন্যা কবলিত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। আর সেই জায়গায় একদল চাঁদাবাজিতে ঝাঁপিয়ে পড়লো। এখানে ওখানে বিভিন্ন জায়গায় দখলদারি শুরু হয়ে গেল।

এই দখলদারি করতে গিয়ে নিজেদের ২৩৪ জন মানুষকে নিজেরাই মেরে ফেলল। এরা বাংলাদেশকে কী দিবে? ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ক্ষমতায় আসার আগে যে বার্তা দিয়েছিল। আজ একই বার্তা দিচ্ছে এই দলটি। সেই দলের নেতাদের বার বার অনুরোধ করার পরও তারা শান্তির পথে আসছেন না।

জামায়াতের আমীর বলেন, এখন তারা লেগেছে আমাদের পেছনে, আমাদের মা বোনদের পেছনে। তারা মা-বোনদের গায়ে হাত দেয়।

তারা হুমকি দেয় কাপড় খুলে ফেলবে। এসবের প্রতিবাদ করি বলেই আমার আইডি হ্যাক করে আমার নামে এত জঘন্য একটা বিষয় চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আবিস্কার হয়ে গেছে কারা এই কাজ করেছে। ওদের পেছনে কোন কালো হাত আছে সেটাই আমরা আবিস্কার করবো। আল্লাহ সাক্ষী, এ ধরণের নোংরা চিন্তা আমরা জীবনেও করি নাই। আমাদের মা-বাপ এ শিক্ষা আমাদের দেন নাই।

তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজ ইতিমধ্যে জাতিকে একটা বার্তা দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। তরুন ছাত্র সমাজ চাঁবাদাজ, দুর্ণীতিবাজ, মামলাবাজ, নারীদের ইজ্জত হরণকারীদের লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। এরপরে নির্বাচনগুলো ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে ভয়ে। এভাবে জনজোয়ার ঠেকানো যাবেনা। অপবাদ দিয়ে আমাদের ঠেকাতে পারবেনা। ভয় ভীতি দেখিয়ে আমাদের গতি স্তব্দ করতে পারবেনা। আমাদের মনজিল হচ্ছে আল্লাহর দেওয়া বিধানের ভিত্তিতে এই বাংলাদেশকে একটি ইনসাফ ভিত্তিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলা।

এই যুব সমাজ বেকার ভাতার দাবি জানায়নি। তারা কাজ চায়। আমরা বেকার ভাতা দিয়ে ‍ুযুবসমাজকে অসম্মানিত করবোনা। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আমরা দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলবো। আমরা বাংলাদেশ নামের একটি উড়োজাহাজের ককপিটে ক্যাপ্টেন হিসেবে যুবসমাজকে বসিয়ে দিতে চাই। সেই উড়োজাহাজের যাত্রী হিসেবে আমরা বসে থাকতে চাই। এরা এই উড়োজাহাজ চালিয়ে জাতিতে সামনের দিকে নিয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল সিবগাত উল্লাহ, ডাকসু জিএস ফরহাদ হোসেন, জাগপার সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের ডা. এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ আসনের অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী মো. শফিউল আলমসহ জামায়াতে ইসলামী ও জোটভূক্ত বিভিন্ন দলের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে ডা. শফিকুর রহমান মহেশখাল, কক্সবাজার, লোহাগাড়া ও সীতাকুন্ডে পৃথক চারটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

Feb2

সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলীয় আসন সংখ্যার অনুপাতে জোটটি মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ তালিকাটি প্রকাশ করেন।

জামায়াতের আট নারী যাচ্ছেন সংসদে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যাচ্ছেন দুজন। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজনকে নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হচ্ছে এই জোট থেকে।

প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— নুরুন্নিসা সিদ্দীকা (সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), মারজিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী (আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি), নাজমুন নাহার নীলু (প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি), অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান (কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি, সিলেট মহানগরী), সাজেদা সামাদ (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা), শামছুন্নাহার বেগম (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা), ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ (কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, নারী অধিকার আন্দোলন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মনিরা শারমিন (কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক) ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু (কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব) এনসিপি। ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (সভাপতি, জাগপা) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং রোকেয়া বেগম (জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে। সেই অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি জোট ৩৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। দলের পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থীদের এরই মধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো জুলাই বিপ্লবে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী শিশু জাবির। তার মায়ের এই মনোনয়নকে জোটের পক্ষ থেকে একটি সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় হওয়ায় আজ রাতেই সব শরিক দল চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। খাল খনন করতে পারলে বন্যার সময় মানুষ, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল রক্ষা করা যাবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে চৌকিদহ খালটা কাটলাম। এখানে যদি কোনো মুরুব্বি থাকেন- যাদের বয়স ৬০-৭০ এর বেশি, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, এই খালটা আমার আব্বা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে কেটেছিলেন। এই খালটা আমরা কাটলাম, প্রায় এক কিলোমিটার মতো লম্বা। এই খালটা কাটার ফলে বর্ষার সময় অতিবৃষ্টিতে আশেপাশে যে পানি উঠে, তা এখানে জমা হবে। আবার শুকনা মৌসুমে যখন পানি পাওয়া যায় না, তখন এই খালে পানি থাকলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদের জন্য পানি পাবে। অর্থাৎ এলাকার মানুষের উপকার হবে।

স্থানীয়দের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলুন আমরা এই খালটা পুনঃখনন করি, পানি ফিরিয়ে আনি। খালের দুই পাশে গাছ লাগাই। খালের মধ্যে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটাও দেখা হবে- যাতে এলাকার বেকার তরুণরা কাজ পায়। মা-বোনেরাও পাশে শাকসবজি চাষ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ যেমন পানির কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। তাই খাল খনন জরুরি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। এই খাল কাটাসহ যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যেন সফল হয়-সেজন্য দোয়া করবেন। এটা তো নিজের বাড়ি, ঘরের লোকজন। কয়েকদিন পর আবার আসবো ইনশাআল্লাহ।

এর আগে দুপুর ২টায় নিজ জন্মভূমি বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে পৌঁছালে খালের দুই পাড়ে অবস্থান নেওয়া হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

খাল খনন কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তাই সিরিজ হার ঠেকাতে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না স্বাগতিকদের। মিরপুরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কোনো ভুল করলেন না মেহেদী হাসান মিরাজরা। নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৯৮ রানে থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। জবাবে ৮৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

১৯৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই চার হাঁকান বাংলাদেশের ওপেনার সাইফ হাসান। একই ওভারে আরও একটি চার মারেন তিনি। কিন্তু ৬ বলের বেশি খেলতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার। প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৮ রান।

এরপর ক্রিজে আসেন সৌম্য সরকার। নিজের খেলা প্রথম বলেই দুই রান নেন সৌম্য। এরপর দেখে-শুনে খেলার ইঙ্গিত দিচ্ছিলো সৌম্যর ব্যাট। কিন্তু ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাঁকান এক দুর্দান্ত ছক্কা। একই ওভারের শেষ বলে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন সৌম্য। তার ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ৮ রান।

তৃতীয় উইকেটে ব্যাট করতে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে নিয়েই দলীয় স্কোর বড় করতে থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দুজন মিলে গড়েন ১২০ রানের জুটি। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এই দুই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পান। তবে জয় নিয়ে ফিরতে পারেননি দুজনের কেউই।

জেইডেন লেনক্সের করা বলে কটবিহাইন্ড হওয়ার আগে ৭৬ রান করেন তিনি। মাত্র ৫৮ বলে খেলা ইনিংসটি ১০টি চার ও চারটি ছয়ে সাজানো। শান্ত অবশ্য আউট হননি। রিটায়ার্ট হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৭১ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৫০ রান করেন তিনি।

এর আগে মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয় বাংলাদেশ। দুটি উইকেটই নেন নাহিদ। অষ্টম ওভারে হেনরি নিকোলসকে ১৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশি পেসার। পরের ওভারেও প্রথম বলে তিনি উইল ইয়াংকে (৭) সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান তিনি। পরে সৌম্য সরকার তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম লাথামের উইকেট। ৩৫ বলে ১৪ রান করেন তিনি।

৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস ৫৬ রানের জুটি গড়েন। ২৭তম ওভারের শেষ বলে ফিফটি করেন কেলি। আব্বাসকে ১৯ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। উড়ন্ত ক্যাচে তাকে ফেরান লিটন। কেলি সেঞ্চুরির বেশ কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। শরিফুল ইসলাম তাকে ৮৩ রানে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান। কিউই ওপেনারের ১০২ বলের ইনিংসে ছিল ১৪ চার।

সেট ব্যাটার আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ডিন ফক্সক্রফট ১৫ রান করে নাহিদের শিকার হন। ব্লেয়ার টিকনারকে বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেনের ক্যাচ বানান শরিফুল।

নিজের শেষ ওভারে নাহিদ পঞ্চম উইকেট তুলে নেন। জেইডেন লেনক্স খালি হাতে ফেরেন বাংলাদেশি পেসারের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে। ১৮৩ রানে ৯ উইকেট তোলার পর নিউজিল্যান্ডকে দুইশর মধ্যে আটকানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কাভারে নাথান স্মিথের কঠিন ক্যাচ নিতে না পারার প্রায়শ্চিত্ত কিছুক্ষণ পরই করেন তাওহীদ হৃদয়। তাসকিন আহমেদের বলে উইলিয়াম ও’রোর্কের ক্যাচ নেন তিনি। ৪৮.৪ ওভারে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।