খুঁজুন
, ,

জামায়াত নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 2 February, 2026, 9:53 pm
জামায়াত নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘এগারো দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে’র প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাইনা।

আমি এদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের এই সমুদ্রপাড়ের মানুষ ঢেউ-জলোচ্ছাসকে ভয় পায়না। এই ভয়কে যারা জয় করেছে ১২ তারিখও তারা জয় করবে। এদিন নতুন ইতিহাস তৈরি হবে।

জুলাইকে আঁকড়ে ধরার জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে। একই সঙ্গে এগার দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের যেখানে যার হাতে যে প্রতীক আমরা তুলে দেবো তার পক্ষে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরী শুধুমাত্র বন্দর নগরী নয়, শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়। এটি এক সুদীর্ঘ সংগ্রামী ইতিহাস আর প্রতিরোধের রাজধানী। বাংলাদেশে ৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণা এখান থেকেই হয়েছিল।

চট্টগ্রামের গর্বিত সন্তান বর্তমানে এলডিপির চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম চিৎকার দিয়ে বলেছিলেন ‘উিই রিভল্ট’। জিয়াউর রহমান সাহেবকে হাতে ধরে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। আজ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমি লড়াই করেছি রনাঙ্গনে। জাতীয়তাবাদী দল গঠনে আমি ছিলাম তৃতীয় ব্যক্তি।

তিনি এখন বলেন, আমি বিএনপিতে নাই-থাকতে পারিনা। কারণ এটি জিয়াউর রহমান সাহেবের বিএনপি নয়। এটি বেগম জিয়ারও বিএনপি নয়।

চট্টগ্রামকে গর্বের চট্টলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেন, অনেকে আক্ষেপ করে বলেন, এটা এখন নামে বাণিজ্যিক রাজধানী, ভেতরে ফকফকা। কিছু মানুষ যুগ যুগ ধরে চট্টগ্রাম বন্দরকে বিক্রি করে কপাল বানিয়েছে। আগামীতে এই সুযোগ আর দেওয়া হবেনা। জনগণের বন্দর জনগণের হবে।

তিনি বলেন, এ বাংলাদেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি। এ জন্মভূমির প্রতি ইঞ্চি মাটির পাহারাদারি করা আমাদের দায়িত্ব। এর আধ ইঞ্চি মাটিও আমরা কাউকে দেবোনা। জুলাই যোদ্ধারা বলেছিল- জীবন দিব জুলাই দিব না।

আমরা তাদের সাথে সুর মিলিয়ে বলছি- জীবন দিব মাটি দিব না। কোন আধিপত্যবাদ আর বাংলাদেশে মানা হবেনা। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আমাদের যুব সমাজ প্রমাণ করেছে দেশের মর্যাদা রক্ষার জন্য যে কোন সময় বুক চিতিয়ে লড়াই করতে তারা প্রস্তুত।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা তো পনের বছর মজলুম ছিলাম। এখন বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে। যদি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে মর্যাদার সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই- তাহলে ফ্যাসিবাদী খাসলতের যারা তাদেরকে চিরতরে লাল কার্ড দেখাতে হবে। তিনি বলেন, সবচাইতে নির্যাতিত দল জামায়াতে ইসলামী ধৈর্য ধরলো। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করলো।

শহীদ পরিবাগুলোর কাছে দৌঁড়ে গিয়ে হাজির হলো। বন্যা কবলিত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। আর সেই জায়গায় একদল চাঁদাবাজিতে ঝাঁপিয়ে পড়লো। এখানে ওখানে বিভিন্ন জায়গায় দখলদারি শুরু হয়ে গেল।

এই দখলদারি করতে গিয়ে নিজেদের ২৩৪ জন মানুষকে নিজেরাই মেরে ফেলল। এরা বাংলাদেশকে কী দিবে? ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ক্ষমতায় আসার আগে যে বার্তা দিয়েছিল। আজ একই বার্তা দিচ্ছে এই দলটি। সেই দলের নেতাদের বার বার অনুরোধ করার পরও তারা শান্তির পথে আসছেন না।

জামায়াতের আমীর বলেন, এখন তারা লেগেছে আমাদের পেছনে, আমাদের মা বোনদের পেছনে। তারা মা-বোনদের গায়ে হাত দেয়।

তারা হুমকি দেয় কাপড় খুলে ফেলবে। এসবের প্রতিবাদ করি বলেই আমার আইডি হ্যাক করে আমার নামে এত জঘন্য একটা বিষয় চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আবিস্কার হয়ে গেছে কারা এই কাজ করেছে। ওদের পেছনে কোন কালো হাত আছে সেটাই আমরা আবিস্কার করবো। আল্লাহ সাক্ষী, এ ধরণের নোংরা চিন্তা আমরা জীবনেও করি নাই। আমাদের মা-বাপ এ শিক্ষা আমাদের দেন নাই।

তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজ ইতিমধ্যে জাতিকে একটা বার্তা দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। তরুন ছাত্র সমাজ চাঁবাদাজ, দুর্ণীতিবাজ, মামলাবাজ, নারীদের ইজ্জত হরণকারীদের লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। এরপরে নির্বাচনগুলো ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে ভয়ে। এভাবে জনজোয়ার ঠেকানো যাবেনা। অপবাদ দিয়ে আমাদের ঠেকাতে পারবেনা। ভয় ভীতি দেখিয়ে আমাদের গতি স্তব্দ করতে পারবেনা। আমাদের মনজিল হচ্ছে আল্লাহর দেওয়া বিধানের ভিত্তিতে এই বাংলাদেশকে একটি ইনসাফ ভিত্তিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলা।

এই যুব সমাজ বেকার ভাতার দাবি জানায়নি। তারা কাজ চায়। আমরা বেকার ভাতা দিয়ে ‍ুযুবসমাজকে অসম্মানিত করবোনা। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আমরা দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলবো। আমরা বাংলাদেশ নামের একটি উড়োজাহাজের ককপিটে ক্যাপ্টেন হিসেবে যুবসমাজকে বসিয়ে দিতে চাই। সেই উড়োজাহাজের যাত্রী হিসেবে আমরা বসে থাকতে চাই। এরা এই উড়োজাহাজ চালিয়ে জাতিতে সামনের দিকে নিয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল সিবগাত উল্লাহ, ডাকসু জিএস ফরহাদ হোসেন, জাগপার সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের ডা. এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ আসনের অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী মো. শফিউল আলমসহ জামায়াতে ইসলামী ও জোটভূক্ত বিভিন্ন দলের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে ডা. শফিকুর রহমান মহেশখাল, কক্সবাজার, লোহাগাড়া ও সীতাকুন্ডে পৃথক চারটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

Feb2
Feb2

কর্ণফুলীতে বন্ধ হলো এস আলমের সব কারখানা, ৪ হাজার ছাঁটাই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 1 August, 2026, 12:10 am
কর্ণফুলীতে বন্ধ হলো এস আলমের সব কারখানা, ৪ হাজার ছাঁটাই

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এস আলম গ্রুপের সব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) থেকে কারখানাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ রয়েছে।

কারখানা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয়। ছাঁটাই কার্যকর হবে ১ আগস্ট থেকে। কাঁচামালের সংকট, এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলতে না পারা এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এস আলম সুগারের শিফট ইনচার্জ প্রকৌশলী মো. হাসমত আলী বলেন, ‘কাঁচামালের সংকটের কারণে গত দুই বছর ধরে কারখানায় উৎপাদন প্রায় বন্ধ ছিল। কাজ না থাকলেও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এতদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিয়েছে। এখন আর সেই পরিস্থিতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।’

তিনি জানান, শুধু এস আলম সুগার থেকেই ৩৮৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অবসর সুবিধা পরিশোধ করা হচ্ছে। এর আগেও কয়েক দফায় জনবল কমানো হয়েছিল।

কর্ণফুলীতে বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম সুগার, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট, এস আলম পাওয়ার জেনারেশন, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, চেমন ইস্পাত, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস-এনওএফ, এস আলম স্টিল ও এস আলম ব্যাগ।

শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়। খবর প্রকাশের পর বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।

কারখানা সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকিং জটিলতা ও কাঁচামাল আমদানিতে বাধার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। মজুত কাঁচামাল দিয়ে সীমিত পরিসরে কিছু কারখানা চালু থাকলেও এবার সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম বলেন, কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্মরতদের অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 31 July, 2026, 10:53 pm
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর সড়কের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টা ৫ মিনিটের দিকে গুলশানের বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রাজধানীর উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঘুরেছেন। প্রধানমন্ত্রী বারবার ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন। এ কারণে তিনি সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন।

প্রধানমন্ত্রী শ্যামলী, বিজয় সরণি, রোকেয়া সরণি, মিরপুর-১০, কচুক্ষেত ও শেওড়াপাড়ার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখেন। সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে তাঁর গাড়ি শ্যামলী এলাকা অতিক্রম করে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মেহেদুল ইসলাম ও সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানী।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতেও রাজধানীর নাগরিক সেবার বাস্তব চিত্র দেখতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সেদিন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে পাশে বসিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে ফার্মগেট এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম দেখেন তিনি। এরপর সংসদ ভবন এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট, মহাখালী, বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি ও গুলশান ঘুরে বাসায় ফেরেন।

পরিদর্শনের সময় গাড়িতে বসেই ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসককে বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও ছিলেন।

কেরানীগঞ্জে কারখানায় তৈরি হতো ইয়াবা, বিক্রি হতো ঢাকা ও আশপাশের এলাকায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 31 July, 2026, 10:39 pm
কেরানীগঞ্জে কারখানায় তৈরি হতো ইয়াবা, বিক্রি হতো ঢাকা ও আশপাশের এলাকায়

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি ইয়াবা তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. আলমগীর ওরফে আন্ডে (৪০), মো. আলী আরমান (৩৬), মো. শাহজাহান (৪০) ও সোনিয়া (৩০)।

র‍্যাব বলছে, ইয়াবা তৈরিতে ব্যবহৃত এসব কাঁচামালগুলো বৈধ এবং বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। তবে এই চক্র সেগুলো ব্যবহার করে ইয়াবা উৎপাদনের পদ্ধতি তৈরি করেছে। কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন মধ্যচর দক্ষিণ বালুচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মোহা. আসাদুজ্জামান বলেন, গতকাল রাতে র‍্যাব-১০ এর আওতাধীন এলাকায় একটি ইয়াবা তৈরির চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। পরে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৯৬৮ পিস ইয়াবা, বিভিন্ন ধরনের পাউডার সদৃশ কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি ওজন পরিমাপক যন্ত্র জব্দ করা হয়। এ সময় চারজন সক্রিয় মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে আলমগীরের বিরুদ্ধে ঢাকার রামপুরা, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনটি মামলা রয়েছে। তারা সবাই পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। গ্রেপ্তাররা দুই বছর ধরে এই কাজে যুক্ত বলে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ঢাকায় আরো কারখানা থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

চক্রটি কামরাঙ্গীরচর ও পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের ব্যবসার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতো। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।