খুঁজুন
, ,

জ্বালানি সংকটে দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 4 April, 2026, 6:53 pm
জ্বালানি সংকটে দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে দেশের ব্যবসায়ী সমাজ এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের কাছে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা কাউন্সিলের প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ চাঙা করা এবং শিল্পখাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ব্যবসায়ীরা শিল্পোৎপাদন সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তারা তুলে ধরেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত সহজ করতে এবং বিমানবন্দরের ঝামেলা এড়াতে ‘ই-ভিসা’ চালুর দাবিও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীর ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। এ ছাড়া মাঝারি উদ্যোক্তাদের রপ্তানিতে উৎসাহিত করতে লাইসেন্সপ্রাপ্তি সহজীকরণ এবং বাণিজ্যে গতি আনতে গভীর সমুদ্রবন্দর দ্রুত চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রী নিজে জানতে চেয়েছেন উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের নানা সংকটের কথা বিগত দিনে আমরা শুনে এসেছি। প্রধানমন্ত্রী এবার সরাসরি ব্যবসায়ীদের মুখ থেকে তাদের সমস্যার কথা শুনতে চেয়েছিলেন। তাঁদের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে নোট নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং বাকি বিষয়গুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হবে।”

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, এপেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মনজুর, বে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউর রহমান এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সিইও আহসান খান চৌধুরী প্রমুখ।

Feb2
Feb2

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 1 August, 2026, 10:39 am
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

তিন দিনের সরকারি সফরে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গর। পরে সন্ধ্যায় তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনা ‘দারুণ’ হয়েছে এবং এতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল হিসেবে বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) দেশটির জন্য জারি করা ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) লেভেল-৩ থেকে কমিয়ে লেভেল-২ করেছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় এখনো অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রয়েছে এবং সেসব এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ভ্রমণ সতর্কতার স্তর কমানোর সিদ্ধান্তকে তিনি বাংলাদেশের জন্য ‘দারুণ খবর’ বলে উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় পৌঁছার পর নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে দেয়া আরেক পোস্টে সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশ সফর শুরু করতে পেরে তিনি আনন্দিত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করে তিনি পরবর্তী দুই দিনে ফলপ্রসূ বৈঠকের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার (৩১ জুলাই) কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন সার্জিও গর। সেখানে তিনি ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন তিনি।

কর্ণফুলীতে বন্ধ হলো এস আলমের সব কারখানা, ৪ হাজার ছাঁটাই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 1 August, 2026, 12:10 am
কর্ণফুলীতে বন্ধ হলো এস আলমের সব কারখানা, ৪ হাজার ছাঁটাই

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এস আলম গ্রুপের সব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) থেকে কারখানাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ রয়েছে।

কারখানা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয়। ছাঁটাই কার্যকর হবে ১ আগস্ট থেকে। কাঁচামালের সংকট, এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলতে না পারা এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এস আলম সুগারের শিফট ইনচার্জ প্রকৌশলী মো. হাসমত আলী বলেন, ‘কাঁচামালের সংকটের কারণে গত দুই বছর ধরে কারখানায় উৎপাদন প্রায় বন্ধ ছিল। কাজ না থাকলেও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এতদিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিয়েছে। এখন আর সেই পরিস্থিতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।’

তিনি জানান, শুধু এস আলম সুগার থেকেই ৩৮৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অবসর সুবিধা পরিশোধ করা হচ্ছে। এর আগেও কয়েক দফায় জনবল কমানো হয়েছিল।

কর্ণফুলীতে বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম সুগার, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট, এস আলম পাওয়ার জেনারেশন, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, চেমন ইস্পাত, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস-এনওএফ, এস আলম স্টিল ও এস আলম ব্যাগ।

শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই হওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়। খবর প্রকাশের পর বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।

কারখানা সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকিং জটিলতা ও কাঁচামাল আমদানিতে বাধার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। মজুত কাঁচামাল দিয়ে সীমিত পরিসরে কিছু কারখানা চালু থাকলেও এবার সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম বলেন, কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্মরতদের অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 31 July, 2026, 10:53 pm
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর সড়কের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টা ৫ মিনিটের দিকে গুলশানের বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রাজধানীর উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঘুরেছেন। প্রধানমন্ত্রী বারবার ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন। এ কারণে তিনি সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন।

প্রধানমন্ত্রী শ্যামলী, বিজয় সরণি, রোকেয়া সরণি, মিরপুর-১০, কচুক্ষেত ও শেওড়াপাড়ার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখেন। সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে তাঁর গাড়ি শ্যামলী এলাকা অতিক্রম করে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মেহেদুল ইসলাম ও সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানী।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতেও রাজধানীর নাগরিক সেবার বাস্তব চিত্র দেখতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সেদিন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে পাশে বসিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে ফার্মগেট এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম দেখেন তিনি। এরপর সংসদ ভবন এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট, মহাখালী, বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি ও গুলশান ঘুরে বাসায় ফেরেন।

পরিদর্শনের সময় গাড়িতে বসেই ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসককে বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ব্যক্তিগত কর্মকর্তারাও ছিলেন।