খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামে ওয়াসার লাইন খননের সময় মাটি চাপায় নিহত ২ শ্রমিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 April, 2026, 10:24 am
চট্টগ্রামে ওয়াসার লাইন খননের সময় মাটি চাপায় নিহত ২ শ্রমিক

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে ওয়াসার সুয়ারেজ লাইন খননের সময় মাটি চাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দু’জন।

আজ (বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল) ভোররাত ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ২ শ্রমিক হলেন রাকিব ও তুষার। তাদের বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। আহতরা হলেন- সাগর ও এরশাদ।

ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চিনা হাইড্রো কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠান আগ্রাবাদ অ্যাক্সেস রোডসহ নগরীর বিভিন্ন জায়গায় ওয়াসার সুয়ারেজ পাইপলাইন খনন করছে। গতকাল রাতে খননের সময় একটি স্থানে ৪ শ্রমিক গর্তে পড়ে মাটি চাপা পড়েন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট ও স্থানীয় মানুষ প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় তাদেরকে উদ্ধার করে। পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুইজনকে ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়েছে।

এ ঘটনায় চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগে উত্তেজিত শ্রমিকরা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে জানা যায়। এসময় জরুরি বিভাগের কাচ ও আসবাব ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনার জেরে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ভোর ৪টার দিকে আগ্রাবাদ অ্যাকসেস রোডের সিঙ্গাপুর মার্কেটের সামনে ওয়াসার পানির পাইপ বসানোর জন্য মাটি কাটার সময় চারজন শ্রমিক মাটি চাপা পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন।’

চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের স্যুয়ারেজ প্রকল্পের ট্রায়াল পিট করার কাজ চলছিল। গভীর রাতে কাজ করার সময় মাটি চাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত ও দুজন আহত হয়েছে। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রোর কাজটি করছে। তাদের কাছে এক্সিডেন্ট রিপোর্ট চেয়েছি।’

নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা এসেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে ক্ষতিপূরণ পায়, সে বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে আমরা কথা বলছি। যদিও মৃত্যুর কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম জানান, চার শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত দুজন ক্যাজুয়াল্টি ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

Feb2
Feb2

খাল দখল ও দূষণ বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 8:15 pm
খাল দখল ও দূষণ বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চলমান কার্যক্রম তদারকির অংশ হিসেবে বারাইপাড়া খাল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বৃহস্পতিবার পরিদর্শনকালে তিনি খালের বর্তমান অবস্থা, পানি প্রবাহ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং চলমান উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্প প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে বাঁচিয়েছে। খননকৃত খালের জন্য পূর্ব বাকলিয়া, পূর্ব ষোলশহর এবং পশ্চিম বাকলিয়ার অনেক অংশের মানুষ বর্ষায় জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাচ্ছেনা৷ প্রকল্পটির কারণে স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত ফুটপাত এবং খালপাড় সুস্থ বিনোদনের উৎস হয়ে উঠেছে।

“চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে খালগুলো সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। খাল দখল, ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে খাল-নালা পরিষ্কার রাখা এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত খাল ও নালা পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কোথাও অবৈধ দখল বা বাধা থাকলে তা দ্রুত অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ ও জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

এ সময় মেয়র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি, আবর্জনা অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের টেকসই পুনর্বাসনে বাড়ি বাড়ি জেলা প্রশাসক: দ্রুত নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 8:05 pm
বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের টেকসই পুনর্বাসনে বাড়ি বাড়ি জেলা প্রশাসক: দ্রুত নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঠিক পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে যান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে তাদের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

উল্লেখ্য, এসব এলাকায় টানা ৭ থেকে ১০ দিন পানি জমে থাকায় মাটির তৈরি বাড়িগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অধিকাংশই ভেঙে গুড়িয়ে পানিতে মিশে যায়। বর্তমানে অনেক মানুষ চরম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অর্ধভাঙা ঘরগুলোতে বসবাস করছেন, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

দুর্গত মানুষদের মানবিক পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করে জেলা প্রশাসক গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে তিনি কেবল পরিস্থিতি দেখেই ক্ষান্ত হননি, বরং প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরিবারে সদস্য সংখ্যা কত, তারা কী ধরনের পুনর্বাসন চান এবং কোন ধরণের উপকরণ ও ডিজাইনে বাড়ি তৈরি করলে তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে—সেসব বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিস্তারিত মতামত সংগ্রহ করেন। পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত করতে জেলা প্রশাসক স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিদের সাথে কথা বলে নতুন ঘর তৈরির সম্ভাব্য খরচ এবং নির্মাণ উপকরণের মান ও স্থায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত হিসাব বুঝে নেন। নতুন ঘর নির্মাণ করা হলে দুর্গতরা সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবেন কিনা—সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত হন। এ সময় তিনি বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ রুহুল আমিন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে পুনর্বাসনের সার্বিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর আশস্তবাণী দিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবে জরাজীর্ণ ও অর্ধভাঙা ঘরে বসবাস করা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য নিরাপদ ও টেকসই নতুন ঘর নির্মাণ নিশ্চিত করা হবে।”

উক্ত সরেজমিন পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সাথে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বিপিএম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দিন।

৮৬ ডেপুটি অ্যাটর্নি ও ১৭৯ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 July, 2026, 7:52 pm
৮৬ ডেপুটি অ্যাটর্নি ও ১৭৯ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ

উচ্চ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাদের নিয়োগ দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

একইসঙ্গে আগের সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সব ডেপুটি অ্যাটর্নি-জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ আদেশ বাতিলপূর্বক ‘বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, নাইন্টিন সেভেন্টি টু (পি. ও. নং সিক্স অব ১৯৭২)’-এর ৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা বলে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৮৬ জনকে বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১৭৯ জনকে বাংলাদেশের সহকারী নিয়োগ দেওয়া হলো।